Homeএখন খবরএবার অগ্রাধিকারে ১২বছর ও তার কমবয়সী শিশুর মায়েরা! করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে...

এবার অগ্রাধিকারে ১২বছর ও তার কমবয়সী শিশুর মায়েরা! করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নয়া কৌশল রাজ্যের

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের প্রভাব থেকে শিশুদের রক্ষা করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে সমস্ত রাজ্য। ব্যতিক্রম নয় পশ্চিমবঙ্গও। রাজ্যের শহরে শহরে খুলছে শিশুদের জন্য সেফহোম সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা মায়েদেরও। শিশুদের জন্য বাড়ছে আইসিইউ, এসএনসিইউ , জেনারেল বেডের সংখ্যা। এবার শিশু সুরক্ষায় ১২বছর থেকে তার কমবয়সী শিশুর মায়েদের জন্য করোনা টিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এতদিন সুপারস্প্রেডার গোষ্ঠীকেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা দিচ্ছিল রাজ্য সরকার। এবার সেই অগ্রাধিকারের তালিকায় চলে এলেন ১২ বছর ও তার কমবয়সী শিশুদের মায়েরাও।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,‘‘যেহেতু বিশেষজ্ঞরা তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাই আমরাও ঝুঁকি নিতে চাইছি না। শিশুদের সংক্রমণ প্রতিরোধে ১২ বছর বা তার কমবয়সী শিশুর মায়েদের আগে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” উল্লেখ্য বুধবারই করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির বিশেষ রণকৌশল বৈঠক হয়েছে। সেখানেও প্রাথমিক গুরুত্ব পেয়েছে শিশু সুরক্ষাই। মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। তিনি বলেন, ‘‘জুলাইয়ের মধ্যেই রাজ্যে শিশুদের জন্য় ৩৫০ এসএনসিইউ, ১৩০০ আইসিইউ শয্যা এবং ১০ হাজার জেনারেল বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

ওই কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে জুলাই মাসের মধ্যেই রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে শিশুদের আইসিইউ, এসএনসিইউ এবং জেনারেল বেডের সংখ্যা বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন অক্সিজেন সঙ্কটের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই অক্সিজেন সরবরাহের পরিকাঠামোও উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এদিন রাজ্যের টিকাকরন বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকের বলেছেন , ‘আমরা ইতিমধ্যেই ২ কোটি টিকা দিয়েছি। এখন দৈনিক ৩ লক্ষ করে টিকা দেওয়া হচ্ছে রাজ্যে। যা বৃহস্পতিবার থেকে বাড়বে। বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদিন ৪ লক্ষ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’’ মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন জুলাই মাসের মধ্যে রাজ্যে ৩ কোটি টিকাকরণ করার হয়ে যাবে। জুলাই মাসের মধ্যে সরকারের লক্ষ্য নতুন ৭০ লক্ষ টিকা দেওয়া। যদিও তিনি কিছুটা হতাশ হয়েই বলেছেন ‘‘কেন্দ্রের কাছে তিন কোটি টিকার ডিম্যান্ড করেছিলাম কিন্তু এখনও তা পাইনি।’’

উল্লেখ্য প্রথম দিকে বলা হচ্ছিল পুজোর মরশুমে কিংবা শীতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে কিন্তু এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী ৬ থেকে ৮সপ্তাহের মধ্যে আছড়ে পড়তে চলেছে করোনা। সেই হিসাবে জুলাইয়ের শেষ থেকেই শুরু হয়ে যেতে করোনার ঢেউ। সম্প্রতি আইআইটি কানপুরের গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, করোনার দৈনিক সংক্রমনের যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে ৫লক্ষ ছুঁয়ে যেতে পারে ভারত। রাজ্যের বক্তব্য তার আগেই যতটা সম্ভব টিকাকরন করা।

যদিও ১২বছর এবং তার কমবয়সী শিশুদের মায়েদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় ১৮বছরের উর্দ্ধে ৪৫বছর অবধি সাধারনের টিকাকরন আরও বিলম্বিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে যদি না পর্যাপ্ত টিকা এসে পৌঁছায়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের টিকা নীতির জন্য এখনও সরবরাহ এবং জোগানের সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রের কাছে তিন কোটি টিকার ডিম্যান্ড করেছিলাম কিন্তু এখনও তা পাইনি।’’ এমনিতেই টিকার অভাবের জন্য এরাজ্যে ২১শে জুন থেকে ১৮বছরের উর্দ্ধে ৪৫বছর অবধি সাধারনের টিকাকরন শুরু করা যায়নি। তার ওপর নতুন করে এই সংরক্ষণ ওই প্রকল্পকে বিলম্বিত করবে বৈকি।

Advertisement

Advertisement

RELATED ARTICLES

Most Popular