সুবর্নরেখার কথা-২২ ।। উপেন পাত্র

248
Advertisement

বাল ভোজন বা বালুত ভোজন                                                                                     উপেন পাত্র

Advertisement

অতীতে সুবর্ণরেখা নদী অববাহিকায় বাল ভোজন বা বালুত ভোজন নামে একটি প্রথা ছিল,যা বালুত ভোজন নামে পরিচিত ছিল। সুবর্ণরৈখিক লোকভাষায় শিশুদের বালুত বলা হয়। সেই কারণে অনুষ্ঠানটিকে বালুত ভোজন বলা হতো। সন্তানহীন দম্পতি সন্তান কামনায় এই বালুত ভোজন মানত করতো এবং সাধ ভক্ষণের পূর্বে এই অনুষ্ঠান করা হতো। মানত মতো বা সাধ্যমতো পাড়ার বা পুরো গ্রামের শিশুদের ডেকে খাওয়ানো হতো। নানারকম পিঠে পায়স ও মিঠাই শিশুদের খাওয়ানো হতো। শিশুদের কল কোলাহলে গৃহস্থের প্রাঙ্গন ভরে উঠতো। শিশুরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে যার মতো খেতো। শিশুদের আহার অন্তে তাদের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট বাল গোপালের প্রসাদ জ্ঞানে গর্ভবতী নারী ও মানতকারী গ্রহণ করতো।

Advertisement
Advertisement

প্রায় চল্লিশ পঞ্চাশ বছর আগে পর্যন্ত এই প্রথা প্রচলিত ছিল।যতদূর জানা যায় এই প্রথাটি এই অঞ্চলের সাধারণ প্রথা ছিল।আচার্য শ্যামানন্দ এই প্রথাকে সার্বজনীন রূপ দেন। নয়াগ্রাম থানার থুরিয়া নামক গ্রামে তিনি নিজ হাতে শিশুদের খাইয়ে এই প্রথার গৌরব বৃদ্ধি করেন।
অন্যদিকে অলখ নিরঞ্জন ধর্মেও এই প্রথাটি প্রচলিত আছে।এই ধর্মের সন্ন্যাসীরা তাদের আশ্রমে বালুত ভোজন অনুষ্ঠান করেন। এই ধর্মের কিছু গৃহী ভক্তও বছরে একবার এই অনুষ্ঠান পালন করেন।
শিশুদের মধ্যে স্বয়ং ঈশ্বর বিরাজ করেন, জনসাধারণের মধ্যে এইরূপ ধারণা আছে। শিশুদের খাইয়ে সন্তুষ্ট করলে ঈশ্বর সেবা হয়, এই ভাবনা থেকে প্রথাটির উদ্ভব হয়ে থাকবে।