তৃনমুলে নভেম্বর বিপ্লবের পথ প্রশস্ত, ১০ই নভেম্বর শক্তি পরীক্ষা সেই নন্দীগ্রামেই! এবার কি আড়াআড়ি ভাঙার পথেই তৃনমূল

1157
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘পুজো শেষ আর ভাঙনের শুরু’ এমনটাই ঘুরে বেড়াচ্ছিল তৃনমূলের অন্দরে এবং বাইরেও। সেই পথই কি তা হলে শুরু হয়ে গেল? ‘নভেম্বরে আড়াআড়ি ভেঙে যাবে দলটা’ এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল। সেই নভেম্বর বিপ্লবের পথ প্রস্তুত। ১০ই নভেম্বর নন্দীগ্রামে বড় সমাবেশ হতে চলেছে বলে জানিয়ে দিলেন আর নভেম্বর শুরুর আগের দিনেই তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন আগামী যুদ্ধে তাঁর হাত সর্বত্রই প্রসারিত।

Advertisement

৩১শে অক্টোবর দুই মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন রাজনীতিতে তিনি প্যারাসুট বা লিফট কোনও টাই ব্যবহার করেননি, ‘”আমি প্যারাসুটেও নামিনি এবং লিফটেও উঠিনি। সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে উঠেছি। আমাকে এসব করে কোন লাভ হবে না। ছোটলোকদের দিয়ে বাজে কথা বলিয়ে ভাবছে আমি উত্তর দেব। কুকুর পায়ে কামড়ালে মানুষ কখনো কুকুরের পায়ে কামড়ায় না।”

Advertisement
Advertisement

মাসের শেষ দিনটিতে খুবই তাৎপর্যপূর্ন ভাবেই দুই মেদিনীপুরের দুই স্থানের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে উপস্থিত থেকেছেন শুভেন্দু অধিকারী আর বলাবাহুল্য নিজেকে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র বলে উস্কে দিয়েছেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার আবেগ। আর আশ্চর্য জনক ভাবেই বিরোধী কোনও রাজনৈতিক দলকে আক্রমন করেননি।

বরং এদিন তাঁর আক্রমনের লক্ষ্য ছিল কিছু অজ্ঞাত নাম না ধরা তৃণমূলের নেতা যাঁদের তিনি কখনও ছোটলোক আবার কখনও কামড় দেওয়া জন্তুর মতই বলেছেন। শুভেন্দু বলেছেন তিনি যখন কোভিড আক্রান্ত হয়ে লাখো মানুষের দোয়া আর আশীর্বাদ পেয়েছেন তখন তারই দলের কোনোও কোনও নেতা তাঁর সঙ্গে দেখা করার সৌজন্যতাবোধ করেনননি। বাস্তবিকই এই ক্ষোভ তাঁর দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই। তিনি বলেছেন, ‘লকডাউন’ তাঁর চোখ খুলে দিয়েছে, তিনি সত্যটা উপলব্ধি করেছেন। দেখেছেন হাজার হাজার না খেতে পাওয়া মানুষ! কার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাহলে? নিজের সরকারের বিরুদ্ধে ছাড়া?

তাছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও দাবিও করছে যে, যা করতে হবে তা নভেম্বরেই করতে হবে। কারন এতদিন পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। তিনি সরকারি সভা এড়িয়ে গেছেন, পিকের কর্মসূচির ছায়া মাড়াননি। তাঁর অনুগামীরা একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে গেছে কিন্তু তৃণমূলের তরফ থেকে কোনোও প্রতিক্রিয়া ছিলনা। বিপরীতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একের পর এক শুভেন্দুপন্থীকে দলের বিভিন্ন স্তরের কমিটি থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এমনকি তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জেলার পর্যবেক্ষক থেকে। তিনিও কিছু বলেননি। কিন্তু গত কয়েকদিনে রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি আর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাঁকে কটাক্ষ করেছেন। বেলদায় তাঁর ছবি সম্বলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে সর্বোপরি সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের বেশ কিছু কর্মী সমর্থক যাঁরা স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ার টিমের সাথে যুক্ত তাঁর উদ্দেশ্যে বিরূপ মন্তব্য করে চলেছেন।

এসব যে উচ্চ নেতৃত্বের প্রশ্রয়ে হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন তিনি আর সংঘাত যে কাছাকাছি এসে পড়েছে তাও উপলব্ধি করছেন। ফলে আগে ভাগেই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে আর সম্ভবতঃ নভেম্বরেই তারই একটি চূড়ান্ত রূপ দেখতে চলেছে বাংলা। দেখতে চলেছে সেই নন্দীগ্রামের মাটিতেই, যে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের পট তৈরি করেছিল এবং যার নায়ক ছিলেন এই শুভেন্দু অধিকারিই। এখন দেখার, যে ফাটল ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে নভেম্বরেই সেই ফাটল ধরে দুটো দেওয়াল আলাদা হয়ে যায় কিনা?