কাঁথিতে শুভেন্দুকে ‘মীরজাফর’ প্রতিপন্ন করার সভা তৃণমূলের! থাকছেননা অসুস্থ শিশির, পাল্টা সভা শুভেন্দুর

502
কাঁথিতে শুভেন্দুকে 'মীরজাফর' প্রতিপন্ন করার সভা তৃণমূলের! থাকছেননা অসুস্থ শিশির, পাল্টা সভা শুভেন্দুর 1

অশ্লেষা চৌধুরী: নিজের ঘরেই সভা আবার নিজের ছেলের বিরুদ্ধেই মূলত এই সভা। সেই সভাতে থাকতে পারছেননা বলেই জানিয়েছেন কাঁথির সাংসদ তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী। শিশির অধিকারীর ছেলে তথা নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক গত ২৭শে নভেম্বর মন্ত্রীত্ব ত্যাগের পরই দুই মেদিনীপুরকে সভার আহ্বায়ন করেছিলেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জী। তার ঠিক দুদিন আগেই পায়ের বুড়ো আঙুলে চোট পেয়ে ৭ই ডিসেম্বর মমতার সেই মেদিনীপুরের সভায় যেতে পারেননি শিশির। এরপর ১৯শে ডিসেম্বর সেই মেদিনীপুরেই অমিত শাহের হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নিয়েছেন শুভেন্দু আর তারপরেই বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর কাঁথিতে সভার পাশাপাশি মেগা শোতে থাকছেন সাংসদ সৌগত রায় ও রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। নিজের ঘরের লাগোয়া সেই কর্মসূচিতেও থাকছেননা শিশির অধিকারী। কারন সেই ‘অসুস্থতা’ই। কিন্তু এই আগাম ঘোষনা যথেষ্টই ধোঁয়াশার মধ্যে রাখল শাসকদলকে।

বলাবাহুল্য তৃনমূলের এই কর্মসূচি আগাগোড়াই শুভেন্দু বিরোধী। যুব তৃণমূলের ব্যানারে এই কর্মসূচির এক এবং অবিসংবাদিত উদ্দেশ্য দলত্যাগী শুভেন্দু আধিকারীকে কাঁথির বুকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘মীরজাফর’ হিসাবে তুলে ধরা যা ইতিমধ্যেই তৃনমূলের সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুল প্রচারিত। শুভেন্দু বিহীন তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে শুভেন্দু বিহীন এই কর্মসূচির টার্গেট কুড়ি হাজার মানুষের জামায়াত। বুধবার দুপুরে শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি শান্তিকুঞ্জ সংলগ্ন ক্যানেল পাড় থেকে ডরমেটরি মাঠ পর্যন্ত বিরাট আকারের পদযাত্রা করবেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সাংসদ সৌগত রায়রা। এখানেই মঞ্চ বেঁধে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।

কাঁথিতে শুভেন্দুকে 'মীরজাফর' প্রতিপন্ন করার সভা তৃণমূলের! থাকছেননা অসুস্থ শিশির, পাল্টা সভা শুভেন্দুর 2

এই কর্মসূচিটি তৃণমূল- কংগ্রেস ও যুব তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে ডাক দেওয়া হয়েছে। জেলায় মূলত এতদিন শুভেন্দু বিরোধী তৃণমূলী হিসেবে যারা পরিচিত ছিলেন তাদের তরফ থেকে এই গোটা কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রথম কাঁথির বুকে শুভেন্দুকে ছাড়া তৃণমূলের কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। জেলা তৃণমূলের কো- অর্ডিনেটর তথা রামনগর বিধানসভার বিধায়ক অখিল গিরি বলেন, “মানুষ  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দল করেন। যারা গেছেন বা যাবেন নিজের স্বার্থের জন্য। মানুষের স্বার্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিটিয়েছেন। তাই মানুষ তৃণমূলেই আস্থা রাখবেন। আজকের কর্মসূচিতে জনসমুদ্রের আকার নেবে।”

অন্যদিকে পরের দিনই, বৃহস্পতিবার বিজেপির তরফ থেকে আগাম পাল্টা পদযাত্রা ও জনসভার ডাক দেওয়া হয়েছে কাঁথিতে। যেখানে অংশ নেবেন সদ‍্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর শুভেন্দুর এই প্রথম জেলাতে কর্মসূচি। যেখানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ, অগ্নিমিত্রা পল, সব্যসাচী দত্তেরা। মিছিল হবে কাঁথি বাইপাস থেকে সেন্ট্রাল বাস পর্যন্ত।

মিছিলের পর  বিরাট আকারের জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপিতে যোগদান করার পর শুভেন্দুর জেলায় এই প্রথম কর্মসূচি কতটা প্রভাব পড়ে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এদিনের এই কর্মসূচি জনসমুদ্রের আকার নেবে বলে দাবি বিজেপির তরফ থেকে। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ কনিষ্ক পন্ডা বলেন, “আজকে বিজেপির পথযাত্রা ও জনসভায় জনসমুদ্রের আকার নেবে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করবে এই কর্মসূচিতে।”

এই দুই কর্মসূচির সন্ধিক্ষণে শুভেন্দু ব্যতীত অধিকারী পরিবারের ভূমিকা কী হবে সেটাই ছিল তৃনমূলের ভাবনা। তৃণমূল সভায় যোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃনমূল কার্যকরী সভাপতি অখিল গিরি। যদিও তিনি কোনও আমন্ত্রণপত্র পাননি দাবি করে শিশির অধিকারী বলেছেন, ‘‘আমার শরীর ভাল নেই। গত ১৭-১৮ দিন আমি এক পা-ও হাঁটতে পারিনি। দু’মিনিটের জন্য পা মাটিতে রাখতে পারছি না। চিকিৎসকরাও বাড়ীর বাইরে কোথাও যেতে নিষেধ করেছেন।’’ একইসঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন আমন্ত্রণপত্র হাতে পাননি। হাতে পেলে কী করবেন- তার জবাবে শিশির বাবু বলেন, ‘‘ওদের জানাব, শরীর ভাল নেই। তাই যেতে পারব না।’’
বাকি রইলেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু এবং কাঁথি দক্ষিণের বিধায়ক সৌমেন্দু অধিকারী। কোন দিকে যাবেন তাঁরা? দাদা শুভেন্দু বিরোধী দলীয় সভায় থাকবেন কী তারা? কোটি টাকার প্রশ্ন এখন সেটাই।