‘মিডনাপুরিয়ান’ শুভেন্দু এখানে অধিকারী নন, কাঁথিতে তিনি শুধু ‘বাবু’ হয়েই থাকতে চান

403
'মিডনাপুরিয়ান' শুভেন্দু এখানে অধিকারী নন, কাঁথিতে তিনি শুধু 'বাবু' হয়েই থাকতে চান 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: কাঁথির সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডে কিংবা রেল স্টেশন থেকে আটো অথবা টোটো কিংবা অটো, নিদেন পক্ষে রিকশা নিয়ে আপনি যদি বলেন শান্তিকুঞ্জে যাবেন তা’হলে গাড়িওয়ালা হোঁচট খেতে পারেন। বরং বলে ফেলুন ‘বাবু’র বাড়ি যাব। নিশ্চিন্তে আপনাকে পৌঁছে দেবে কাঁথির করকুলি এলাকার শান্তিকুঞ্জে যেখানে কেয়ার অফ শিশির অধিকারীর ছাতার তলায় থাকেন শুভেন্দু, দিব্যেন্দু কিংবা তাঁদের আরও ভাইরা। কাঁথিতে তাঁরা সবাই বাবু।

২৪ঘন্টাও হয়নি কাঁথিতে তৃনমূল কংগ্রেস পরিচালিত একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়কে শুভেন্দু অধিকারীর কার্যালয়ে পরিনত করা হয়েছে আর সেই কার্যালয়ের নাম দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু বাবুর কার্যালয়। যদিও দিন দশেক আগে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় শুভেন্দু অনুগামীরা যে কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছেন সেখানে কার্যালয়টির নামকরন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর কার্যালয় বলেই। প্রশ্ন হল কাঁথির কার্যালয়টি হঠাৎ ‘বাবু’ মন্ডিত হল কেন?

'মিডনাপুরিয়ান' শুভেন্দু এখানে অধিকারী নন, কাঁথিতে তিনি শুধু 'বাবু' হয়েই থাকতে চান 2

একেই ওই রূপান্তরিত দলীয় কার্যালয়টি গেরুয়া রঙ করায় জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে
তাহলে কি শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে(BJP) যোগ দেওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা? দেওয়ালের রঙের সঙ্গে শুভেন্দু অনুগামী কনিষ্ক পণ্ডা আবার গেরুয়া পাঞ্জাবি পরায় জল্পনা আরও অন্যমাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলে। ঘটনার পরেই অবশ্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের(TMC) সাধারণ সম্পাদক কনিষ্ক পণ্ডাকে বহিষ্কার করেছে দল। রাজ্য তৃনমূলের রাগের আরও কারন এই যে, কনিষ্ক পণ্ডা সেই কার্যালয় উদ্বোধন করতে গিয়ে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন ‘যতদিন না নবান্ন(Nabanna) থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সরানো হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) সহায়তাকেন্দ্র চালু থাকবে। দিদি রেডি হোন। মেদিনীপুরের গামছা পরা,পান্তাভাত খাওয়া ছেলেটা আপনার বিরুদ্ধে লড়বে।’

ঠিক এই ‘গামছা পরা, পান্তা খাওয়া’ ছেলেটার সঙ্গে আপনারা আছেন তো?” কথাটা আজকাল মঞ্চে মঞ্চে বলে বেড়াচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী নিজেও।আসলে শুভেন্দু অধিকারী এখন নিজের একটা ব্যান্ড তৈরি করতে চাইছেন। সেই ব্যান্ডটা হল যাকে বলে সাবেকি মেদিনীপুরিয়া, ক্যালকাটাশিয়ানরা যাকে আবার ব্যঙ্গ করে ‘মিডনাপুরিয়ান’ বলে থাকেন। এই তথাকথিত মিডনাপুরিয়ানের সাথে পান্তা, মুড়ি, গামছা আর এলাকায় একটু সম্ভ্রান্ত হলে ‘বাবু’ কথাটির খুব চল ছিল বা এখনও কোথাও কোথাও আছে।

কাঁথির অধিকারী পরিবার বরাবরই কাঁথির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক। মাঝে মধ্যে খুব সামান্য ব্যবধান ছাড়া বরাবরই তাঁরা ক্ষমতায় বিশেষ করে পৌরসভার। একেবারে স্থানীয় স্তরের স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার সর্বেসর্বা তাঁরাই সে পৌরসভা বা সমবায় সমিতি যাই হোকনা কেন? কাঁথির সাধারন মানুষ সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে গিয়েও শান্তিকুঞ্জে দাঁড়ান এবং কমবেশি সাহায্য পান। দশকের পর দশক এই চর্চা অধিকারীদের বাবু বানিয়েছে বিশেষ করে শিশির অধিকারীকে। ফলে আজ অবধি বাংলার যে ক’জন রাজনীতিক দল ছাড়া শুধুমাত্র নিজেদের পরিচয়ে জন প্রতিনিধি হিসেবে জেতার ক্ষমতা দেখিয়েছেন তার মধ্যে এই অধিকারী পরিবার রয়েছে এবং এরজন্য সেই বাবু মাহাত্ম্যই প্রধান কারন।

কাঁথিতে তাই সব দলের কর্মসূচিই শিশির বাবুদের নিজস্ব কর্মসূচির অধীনে থাকে নচেৎ ‘হাত নয় হাতি, দুর্দিনের সাথী’ হয়ে শিশির বাবুরা আলাদা লড়েন, শিশির বাবুদের ছাড়া নীতিশ সেনগুপ্ত স্রেফ হেরে ভূত হয়ে যান। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন শুভেন্দু অধিকারী তথা অধিকারী পরিবারের তৃনমূলের সঙ্গ ত্যাগ যখন প্রায় ১০০শতাংশই নিশ্চিত, যখন খুব একটা মিরাক্যাল ছাড়া আর শান্তিকুঞ্জের লনে ঘাসফুল ফোটা অসম্ভব তখন সেই বাবু রূপে প্রত্যাবর্তনই স্বাভাবিক আর সে কারণেই সমস্ত বিশেষণ ত্যাগ করে শুভেন্দু অধিকারী এখন শুভেন্দু বাবু যা কিনা মানুষের আরও কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাষন, বিশেষ করে কাঁথির মানুষের কাছে।