খেজুরিতেও অরাজনৈতিক শুভেন্দু, এবার আর পাল্টা খেললনা তৃনমূল

593
খেজুরিতেও অরাজনৈতিক শুভেন্দু, এবার আর পাল্টা খেললনা তৃনমূল 1

ভীষ্মদেব দাশ: আর ১০ই নভেম্বরের পাল্টা করার বোকামি করলনা ফিরহাদ হাকিমরা বরং আদ্যপান্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিনত করার শুভেন্দু কায়দাকে নীরবেই হজম করল তৃনমূল। ১০জানুয়ারি নন্দীগ্রামে দিবস তৃণমূলের ব্যানারে না হয়ে বরাবরই ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে হলেও এবছর শুভেন্দু অধিকারীর সেই সভার পাল্টা সভা করেছিলেন ফিরহাদ হাকিমরা। আর তাকে ঘিরে বঙ্গীয় রাজনীতিতে জল ঘোলা কম হয়নি।

সেদিন গোকুলনগরের মাঠে শুভেন্দুর সেই সভার বিরোধিতা করতে গিয়ে চারঘন্টার নোটিশে নন্দীগ্রামের হাজরাকাটায় ফিরহাদ হাকিম শুভেন্দু অধিকারীকে নাম না করে মীরজাফর বলে ছিলেন। অন্যদিকে শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলে ছিলেন ভোট আসলে নন্দীগ্রাম কে মনে পড়ে? যদিও ২৪শে নভেম্বর খেজুরিতে বরাবর করে আসা ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ অনুষ্ঠিত হত তৃনমূল কংগ্রেসের ব্যানারেই। মঙ্গলবার সেই অনুষ্ঠান আপাদমস্তক মন্ত্রী বদলে দিলেন ‘অরাজনৈতিক’ মঞ্চে। দিনভর সেই অনুষ্ঠানের শেষে তৃণমূলের তরফে অবশ্য আর পাল্টা কিছু করার উদ্যোগ দেখা গেলনা। তাই এ দফার লড়াইয়ে তৃনমূল যে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পিছু হটল সে কথা বলাই বাহুল্য।

খেজুরিতেও অরাজনৈতিক শুভেন্দু, এবার আর পাল্টা খেললনা তৃনমূল 2

আসলে শুভেন্দুর এই লড়াইটাকে কিংবা তাঁর অনুগামীদের সংখ্যাটাকে প্রথম দিকে গুরুত্ব দেয়নি দল বিশেষ করে অভিষেক ব্যানার্জী। অন্য ছোটখাটো বিদ্রোহের মত এই বিদ্রোহটাকে একটা মামুলি মান-অভিমানের ব্যাপার কিছু একটা পদ দিলেই বিষয়টা মিটে যাবে এমনটাই ভাবা হয়েছিল কিন্তু শুভেন্দুর বিদ্রোহ কোচবিহারের মিহির গোস্বামী, মালদার কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, হুগলির রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য সহ আরও অনেক বিধায়ক ও শীর্ষ নেতার মধ্যে ছড়িয়ে যাবে, জঙ্গলমহলের চার জেলার পাশাপাশি হাওড়া হুগলি বর্ধমানে প্রসারিত হবে কিংবা কলকাতার গলিতে শুভেন্দু অধিকারী জিন্দাবাদ ব্যানার দেখা যাবে এটা ভাবা যায়নি। ইতিমধ্যে শুভেন্দুকে ঠান্ডা করার আপ্রাণ চেষ্টা চললেও স্বয়ং প্রশান্ত কুমার সহ সৌগত রায়ের ২দফার বৈঠক ব্যর্থ। এই পরিস্থিতিতে আর নতুন করে পাল্টা সভা করার স্নায়ুর চাপ নেয়নি ববি হাকিমরা।

এদিন খেজুরিতে সন্ত্রাস বিরোধী পদযাত্রায় প্ল্যাকার্ড হাতে দীর্ঘ ৩ কিমির লম্বা পদযাত্রায় মন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলান তৃণমূলের বিধায়ক, কর্মাধ্যক্ষ ও নেতৃত্ব। মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কয়েক হাজার মানুষের এই পদযাত্রা বাঁশগোড়া থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় কামারদায়। কামরাদার পথসভায় মন্ত্রী শুভেন্দু স্মরণ করেছেন দশ বছর আগে ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বরের কথা। বলেছেন,” তৎকালিন পুলিশের মদতে সেদিন ভোররাতে খেজুরি দখল নিয়েছিল হার্মাদরা। কামারদাতে যেখানে হার্মাদবাহিনী ছিল সেখানে আমি এসেছিলাম। বন্দুক সাজানো ছিল টেবিলের ওপর। হার্মাদবাহিনীর নেতারা হতচকিত হয়ে গিয়েছিল। আমি মনের জোরকে সম্বল করে তাড়া করেছিলাম।সেই তাড়া করার ১৫- ২০ মিনিট পর জনতা আমার সঙ্গ দিতে শুরু করেছিল।বেলা আড়াইটার সময় দেউলপোতা হয়ে ওডিশা কোষ্ট ক‍্যানেল পেরিয়ে হার্মাদ বাহিনী সুনিয়ার চরে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং খেজুরী হার্মাদ মুক্ত হয়।”

এদিন শুভেন্দু আনুগত্যের পরিচয় দিয়ে হাজির হয়েছেন খেজুরি বিধায়ক রণজিৎ মন্ডল, উত্তর কাঁথির বিধায়ক বনশ্রী মাইতি, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মধুরিমা মন্ডল সহ খেজুরির ব্লক ও অঞ্চল তৃণমূল নেতৃত্ব। বিধায়ক রণজিৎ মন্ডল বলেন,’ মন্ত্রীর নির্দেশে দলের কর্মীরাই উদ্যোগ নিয়ে এই সন্ত্রাস বিরোধী পদযাত্রার আয়োজন করেছিলেন। দলের লোকেরাই উপস্থিত ছিলেন পদযাত্রা ও পথসভায়।”