কলকাতা থেকে বর্ধমানে শুভেন্দু ! কাঁকসায় মিটিং চলছে তৃনমূল সাংসদ আর বিধায়কের সাথে, সুনীল আর জিতেন্দ্রকে নিয়েই কী উড়ে যাবেন দিল্লি

1103
কলকাতা থেকে বর্ধমানে শুভেন্দু ! কাঁকসায় মিটিং চলছে তৃনমূল সাংসদ আর বিধায়কের সাথে, সুনীল আর জিতেন্দ্রকে নিয়েই কী উড়ে যাবেন দিল্লি 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েই শুভেন্দু অধিকারী সোজা পৌঁছে গেছেন কাঁকসায়। সেখানেই পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ সুনীল মন্ডল আর আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র তথা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির সাথে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ একটি সূত্র জানাচ্ছে সেরকম হলে দুজনকে নিয়েই দিল্লি উড়ে যেতে পারেন শুভেন্দু। দিল্লিতেই শুক্রবারের মধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় অফিসে শুভেন্দু অমিত শাহর হাত থেকে পতাকা নিতে পারেন আর সেই অনুষ্ঠানে তৃণমূলের আরও কত রথী মহারথীকে যোগদান করাতে পারেন সেই প্রক্রিয়াই এখন চালু হয়েছে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

বুধবারই দলীয় নির্দেশ অমান্য করে দুর্গাপুর গ্রাফাইট ইন্ডিয়া লিমিটেডের গেটে প্রকাশ্য সভা করে আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র বলেছেন, ‘পশ্চিম বর্ধমানের নেতাদের আর ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি এও বলেন যে, দল যদি বলে আমি চলে যাব।’ সুত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, গতকাল জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে ওনাকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আগামী ১৮ ই ডিসেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যের সাথে দেখা করার আগে তিনি কোনও দলীয় সভা করতেও পারবেন না, আর সেখানে যোগও দিতে পারবেন না।

কলকাতা থেকে বর্ধমানে শুভেন্দু ! কাঁকসায় মিটিং চলছে তৃনমূল সাংসদ আর বিধায়কের সাথে, সুনীল আর জিতেন্দ্রকে নিয়েই কী উড়ে যাবেন দিল্লি 2

কিন্তু সেই নির্দেশকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জিতেন্দ্র বাবু আজ দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি ওই সভা থেকে আক্ষেপের সুরে এও বলেন যে, এই দলীয় সভায় যোগ দেওয়ার জন্য ওনাকে আসানসোলের পুর প্রশাসক পদ ছাড়তেও হতে পারে।অন্যদিকে গতকালই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন প্রশান্ত কিশোর সম্পর্কে পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ সুনীল মণ্ডল। বলেছেন তোলাবাজ আর দুর্নীতিগ্রস্থদেরই দলে প্রাধান্য বেশি।

তারই সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরকে তীব্র কটাক্ষ সুনীল বলেন,”ও বাংলার রাজনীতি নিয়ে কি বোঝে? সাংগঠনিক শক্তি যদি কোনও দলে মজবুত না হয় তাহলে সে দল বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। যে পয়সা নিয়ে রাজনীতি করে সে কি বোঝে। ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে কখনও যুদ্ধ জয় করা যায় না। ওই স্তাবকেরা কথা বলবে, আদেশ দেবে সেটা মেনে নেব না। ওর থেকে আমাদের লেখাপড়া ও রাজনৈতিক শিক্ষা বেশি। এইভাবে দল চলতে পারে না।” প্রয়োজনে দল ছাড়ারও হুমকি দেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিধাননগরের বিভিন্ন জায়গায় সুনীল মণ্ডল ও শুভেন্দু অধিকারীর ব্যানার দেখা যায়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘সুনীলদা আমরা শুভেন্দুদার সঙ্গে তোমাকেও চাই।’ আর এই ব্যানার নিয়ে পালটা দলেরই তুমুল সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সেই সময় সাংসদ বলেন, এগুলো মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ। যে যাকে ভালবাসে তার নামেই পোস্টার পড়ছে। দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। দলের এটা দেখা উচিত। দলে সবাইকে নিয়ে লড়তে হবে।’ তারপরেই বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো।

এরপরে আর বুঝতে অসুবিধা হয়না কোন পথে পা বাড়াচ্ছেন এই দুই নেতা। শুভেন্দু দল ছাড়ার পরই তৃণমূলের বেশ কিছু নেতা, সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়ক দল ছেড়ে শুভেন্দুর পথের পথিক হবে সেটা জানাই ছিল কিন্তু তা যে এত দ্রুত হবে তা বোঝা যায়নি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হওয়া ওই দুই বিধায়ক,সাংসদের থেকেই কী তবে শুরু হতে চলেছে তৃণমূলের শুভেন্দু উত্তরকালের ভাঙন?

এদিকে শেষ খবর পাওয়া অবধি এই বৈঠকে সুনীল আর জিতেন্দ্র ছাড়াওযোগ দিয়েছেন দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার চেয়ারম্যান দীপ্তাংশু চৌধুরী। করোনা আক্রান্ত হয়ে ফলতার তৃণমূল বিধায়ক তমোনাশ ঘোষের মৃত্যুর পরে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার চেয়ারম্যান করা হয়েছিল দীপ্তাংশু চৌধুরীকে।

তৃণমূলে থাকার সময়ে মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী। বিজেপিতেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৭-র ডিসেম্বরের শেষে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন, কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু, মন্তেশ্বরের বিধায়ক সৈকত পাঁজা, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নুরুল হাসান, দুর্গাপুরের ৪ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, গুসকরার বিদায়ী পুরসভার তৃণমূল সদস্য নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়।