আইন পাশ করেছিলেন আপনরা, কী ভাবে সামলাবেন আপনারাই বুঝুন! প্রজাতন্ত্র দিবসে বিদ্রোহী কৃষকদের ট্রাক্টর প্যারেড প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট

257
আইন পাশ করেছিলেন আপনরা, কী ভাবে সামলাবেন আপনারাই বুঝুন! প্রজাতন্ত্র দিবসে বিদ্রোহী কৃষকদের ট্রাক্টর প্যারেড প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট 1
আইন পাশ করেছিলেন আপনরা, কী ভাবে সামলাবেন আপনারাই বুঝুন! প্রজাতন্ত্র দিবসে বিদ্রোহী কৃষকদের ট্রাক্টর প্যারেড প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট 2

নিউজ ডেস্ক: দায় আপনাদের, কীভাবে সামলাবেন বুঝুন, কৃষি আইন নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের। কৃষি আইনের বিরোধিতায় ২৬ জানুয়ারি দিল্লীর রাজপথে প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর র‍্যালি নিয়ে কেন্দ্রকে আবেদন প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে জানান, এনিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পুলিশ।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কৃষক বিক্ষোভ অথবা প্রস্তাবিত ট্র্যাক্টর র‍্যালি নিয়ে কেন্দ্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনও নির্দেশ জারি করা হবে না। বুধবার কেন্দ্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘কর্তৃত্বের সঙ্গে দায়দায়িত্বও আপনাদের। সুপ্রিম কোর্ট তো আর আইন পাশ করেনি।’

আইন পাশ করেছিলেন আপনরা, কী ভাবে সামলাবেন আপনারাই বুঝুন! প্রজাতন্ত্র দিবসে বিদ্রোহী কৃষকদের ট্রাক্টর প্যারেড প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট 3

প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানীর রাজপথে কৃষকদের ট্র্যাক্টর র‍্যালি নিয়ে মিছিল রুখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্র। এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি এএস বোপান্না ও ভি রামাসুব্রহ্মণিয়মের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ‘আমরা কোনওপক্ষে কোনও নির্দেশিকা দেব না। বিষয়টা নিয়ে পুলিশ সিদ্ধান্ত নেবে। আর কর্তৃত্বের সঙ্গে দায়দায়িত্বও আপনাদের, কোর্ট আইন পাশ করেনি।’

পাশাপাশি সরবোচ্চ আদালন এটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, কমিটির কোনও সদস্যের হাতে কিন্তু কোনও ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি। তাদের নিয়োগ করা হয়েছিল কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের বক্তব্য আদালতের সামনে পেশ করতে। এখানে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন কোথা থেকে ওঠে। গোটা ঘটনাক্রমে আখেরে সুপ্রিম কোর্টের গরিমাই ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। এতে যথেষ্টই ক্ষুদ্ধ শীর্ষ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি কৃষি আইন জারি করে। আইনের ফলে আখেরে কৃষকদের সুবিধা হবে বলে বারবার প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবী করলেও কৃষকরা সেই দাবী মানতে নারাজ। তারা তিন আইন প্রত্যাহার ও এমএসপি নিশ্চিত করার দাবীতে দিল্লি সীমানায় জড়ো হয়ে আন্দোলন-বিক্ষোভ চালাচ্ছেন। এর মাঝে নয় দফায় আলোচনা সত্বেও জট খোলেনি। কেন্দ্র এবং কৃষকরা উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।

এরপর জট কাটাতে উদ্যোগী হয়ে চার সদস্যের কমিটি গড়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু কৃষকদের একাংশের দাবী ছিল, কৃষি আইনের সমর্থকদের নিয়ে সেই কমিটি গড়া হয়েছে, আর তাতে জট খোলার বদলে তা আরও পেঁচিয়ে যায়। এরই মাঝে দফায় দফায় নয় বার কেন্দ্রের সাথে কৃষকদের আলোচনা হলেও সমাধান কিছুই হয়নি। এরপরই নিজেদের অবস্থানে অনড় কৃষকরা প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানী রাজপথে ট্র্যাক্টর র‍্যালি করবেন বলে জানিয়ে দেন। তবে কেন্দ্রও যার মানতে নারাজ, তাই এই মিছিল আটকে দেওয়ার লক্ষ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্র।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে একপ্রকার খালি হাতেই ফিরতে হল কেন্দ্রকে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দশম দফার বৈঠকে যোগ দিতে আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতিনিধি দল পৌঁছেছে বিজ্ঞানভবনে।