কঙ্কালকে নতুন জাঙ্গিয়া গেঞ্জি পরালো কারা? নির্বাসন থেকে ফিরে প্রশ্ন সুশান্ত ঘোষের

1556
কঙ্কালকে নতুন জাঙ্গিয়া গেঞ্জি পরালো কারা? নির্বাসন থেকে ফিরে প্রশ্ন সুশান্ত ঘোষের 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘ কতগুলো কঙ্কাল পাওয়া গেল কিন্তু সেই কঙ্কাল গুলোকে জাঙ্গিয়া গেঞ্জি পরালো কারা?’ মানুষে ঠাসা জনসভায় প্রশ্নটা করতেই হাসির হুল্লোড় পড়ে গেল। চাঁপা হলুদ পাঞ্জাবি আর সাদা পাতলুন পরে বক্তব্য রাখছিলেন সিপিএম (CPIM)নেতা সুশান্ত ঘোষ। একটু আগেই হেঁটে এসেছেন প্রায় ২কিলোমিটার। ঘামে ভিজে আছে মুখাবয়ব। মাথায়, শরীরের বিভিন্ন অংশে তখনও লেপ্টে রয়েছে ফুলের পাপড়ি, হলুদ রেনু। রাস্তার দুপাশের বাড়ি থেকে পুষ্প বৃষ্টি হয়েছে। বেজেছে শাঁখ, উলুধ্বনি। সঙ্গে পথ হেঁটেছে হাজার হাজার মানুষ।

সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে এদিন পথ হেঁটেছেন সুজন চক্রবর্তী, তন্ময় ভট্টাচার্য, ফুয়াদ হালিম, শতরূপ ঘোষরা। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক পুরোপুরি অবরুদ্ধ। সার সার দাঁড়িয়ে লরি, বাস, ম্যাটাডোর, টেম্পো। কিন্তু কারও কোনও ক্ষোভ নেই। সবাই দেখছেন ‘ঘরের ছেলে’ ঘরে ফিরছেন।
এ যেন রূপকথার গল্প, যে গল্পে নির্বাসন থেকে ফিরলেন কোনও রাজকুমার!

কঙ্কালকে নতুন জাঙ্গিয়া গেঞ্জি পরালো কারা? নির্বাসন থেকে ফিরে প্রশ্ন সুশান্ত ঘোষের 2
কঙ্কালকে নতুন জাঙ্গিয়া গেঞ্জি পরালো কারা? নির্বাসন থেকে ফিরে প্রশ্ন সুশান্ত ঘোষের 3
সুশান্ত ঘোষের অপেক্ষায়!

নিজের এলাকা ছেড়ে এত দীর্ঘ বছর এই ‘নির্বাসন’ ভারতের আর কোনও রাজনীতিকের আছে কিনা জানা নেই তবে সুশান্ত ঘোষের আছে। দীর্ঘ ৯বছর নিজের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরে ফিরলেন সুশান্ত ঘোষ। রবিবার পৌঁছালেন চন্দ্রকোনা রোডে। একজন মানুষকে ঘরে ফেরাতে এত মানুষের জনপ্লাবন এর আগে কখনও দেখেনি কেউ। মানুষের ঢেউ যেন আছড়ে পড়ছে তাঁর যাত্রা পথে।

৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ঘেঁষেই স্টেশন পাড়ার মাঠে জনসভার মাঠ উপচে পড়ছে ভিড়ে। আবাল বৃদ্ধ বনিতা এসেছেন সভায়। এসেছেন সুশান্ত ঘোষের কথা শুনতে। ঘোষ বলছিলেন, ‘কিছু মৃত মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেল। তাদের কিছু হাড়গোড়। শরীর গুলো গলে পচে শেষ কিন্তু নতুন ধুতি, গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া, গামছা রয়ে গেল! কোনও আহাম্মকও এই গল্প বিশ্বাস করবেনা। আসলে পুরোটাই একটা চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র। যা বরাবর কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে, লাল পতাকার বিরুদ্ধে হয়ে এসেছে।’

ঘোষ জনতাকে জানিয়েছেন, “সিআইডি জেরা করার নামে আমাকে অসুস্থ করে মেরে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে দিনের পর দিন জেরা। ঘুমোতে পর্যন্ত দিচ্ছেনা। একজন জেরা করে ক্লান্ত হয়ে পড়লে আরেকজন জেরা শুরু করছে। ওঁদের মধ্যেই এক অফিসার বললেন, স্যার আপনাকে জেরা করেই অসুস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনি তাড়াতাড়ি অসুস্থ হওয়ার ভান করে হাসপাতালে চলে যান যদি বাঁচতে চান। আমি তাঁদের বলেছিলাম, মিথ্যে ভান করবনা। যতক্ষন জেরা করবে এবং আমি যতক্ষন সুস্থ থাকব জেরার সম্মুখিন হয়ে যাব।”

এদিন সভাতেই সুশান্ত ঘোষ জানিয়েছেন, “এই যে এত মানুষ আমাকে দেখতে এসেছেন এঁরা এসেছেন কারন আমি লালঝান্ডার তলায় আছি। মানুষ এসেছেন লালঝান্ডাকে ভালবাসা দেখতে। এই লালঝান্ডাই আমাদের আশ্রয়।” বাংলায় বাম সমর্থকদের একটা অংশ তৃনমূলের অত্যাচার কিংবা বিরোধিতা থেকে বিজেপির দিকে ঝুঁকছে এই উপলব্ধি থেকেই ঘোষ তাঁর দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তৃনমূলের বিকল্প বিজেপি নয়। লাল ঝান্ডাকে দুপক্ষেরই মোকাবিলা করতে হবে।