জঙ্গলমহলে ছত্রধরের প্রত্যাবর্তন ও প্রাসঙ্গিকতা

326
Advertisement

Advertisement
জেলে যাওয়ার আগে ও জেল থেকে বেরিয়ে ছত্রধর মাহাত 

 জঙ্গলমহলে ছত্রধরের প্রত্যাবর্তন ও  প্রাসঙ্গিকতা :তপন কান্তি মাহাত     

  (তপন কান্তি মাহাত অদ্যন্ত জঙ্গলমহলের মানুষ। ২০০৮-২০১১ জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা যখন নির্বিচার নিধন পর্ব চালিয়েছিল সেই সময়ে কাছ থেকে মৃত্যু মিছিল দেখেছেন। জ্ঞানেশ্বরী কান্ড ধরলে মাওবাদীদের হাতে নিহত মানু্ষের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। সেই মৃত্যু তালিকায় পুলিশ, শিল্পী , শিক্ষক থেকে শুরু করে হাভাতে মানুষও ছিলেন। এমন কি গুপ্তচর সন্দেহে পাগল, ভবঘুরে, ভিখিরিকে মারা হয়েছে। বহু মানুষের লাশ আজও মেলেনি। এই সব ধ্বংস প্রায় পরিবার গুলির পরমাত্মীয় ছিলেন ও আজও আছেন তপন কান্তি। জঙ্গলমহল বর্তমানে আবার শাসক বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে। একের পর এক নির্বাচনে শাসক দিশেহারা। সেই পরিস্থিতিতেই কি ছত্রধর মাহাত র প্রত্যাবর্তন? আর ছত্রধরের এই প্রত্যাবর্তনকে কি ভাবে দেখছেন জঙ্গল মহলের মানুষ ? কই মিডিয়াতো তাঁদের মতামত নেয়নি ! তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সহজ সরল ভাবে বলেছেন তপন কান্তি মাহাত। মতামত লেখকের নিজস্ব।)

Advertisement
Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ছত্রধর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার খবর শাসককে খুশি করতে মিডিয়া সুনিপুন ভাবে বাজারে ছেড়েছে।মিডিয়ার দৌলতে রাজ্য রাজনীতি ছত্রধরকে নিয়ে অবশ্যই আলোড়িত।জঙ্গলমহলের বাইরের মানুষ ওকে নিয়ে একটু বেশী মাত্রায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।প্রতিক্রিয়া রাজনীতির নেতা নেত্রী,কর্মী সবাই দিচ্ছেন।আর মিডিয়াও সেসব ফলাও করে প্রচার করছে।নির্দেশটা সেভাবেই দেওয়া আছে।ভেবে দেখুন ছত্রধর ছাড়া পাওয়ায় লালগড়,ঝাড়গ্রামের সেই সময়কার সন্ত্রাসকবলিত এলাকার গ্রামের মানুষদের প্রতিক্রিয়া কি? সেটা কিন্তু কোনো মিডিয়া উল্লেখ করছে না।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ছত্রধরকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল?কেনইবা এতদিন পর বেকসুর ছাড়া পেলো?তখনকার সরকার যদি মিথ্যা কেস দিয়েই থাকে তবে তৃণমূল সরকার ১০ বছর পর সেই মিথ্যা বুঝতে পারলো।দিদি কিন্তু এত বোকা নয়।ছত্রধর হঠাৎ ছাড়া পায়নি।যতদিন লালগড় ,ঝাড়গ্রাম এলাকাতে নিরঙ্কুশ ভাবে জিতছিল তখন শাসক দলের ওকে দরকার মনে হয়নি,তাই তখন কারো আগ্রহ দেখা যায়নি।যখন তৃণমূল ঐ সব এলাকায় হারলো,তখন  এলাকার দখল ফেরাতে দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা যে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন তারই একটি অধ্যায় ছত্রধরের প্রত্যাবর্তন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
অনুগত মিডিয়া ওর প্রত্যাবর্তনের রঙচঙে প্যাকেজ তৈরী করে তার জেল থেকে ছাড়া পাওয়াটাকে একটা বিশেষ রূপ দিতে সচেষ্ট।তাই জায়গায়,জায়গায় তৃণমূলের নেতারা খরচ করে মন্ঞ্চ বেঁধে পুরনো মাওবাদী(আমি খুব সচেতন ভাবেই জনগনের কমিটির লোক বলছি না।কারন তখনো জনগণ কোনো কমিটি বানায়নি।যা বানিয়েছিল সেটা মাওবাদীরা তাদের লোকেদের নিয়ে তাদের রক্ষা করার জন্য এই গালভরা নাম দিয়েছিল।এই কমিটির নামে জনগণের পেছনে বন্দুক ঠেকিয়ে শশধর,সুচিত্রা ও তাদের দলবল বাধ্য করতো গ্রামের মানুষকে তাদের মিছিলে হাঁটতে।)সহ দলীয় লোক এনে ছত্রধরকে সম্বর্ধনার আসর বসিয়েছে।এলাকার সাধারন মানুষ কেউ এই সম্বর্ধনায় উপস্থিত হয়নি।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ছত্রধর ছাড়া পাওয়া নিয়ে তাদের কোনো উচ্ছাস নেই।বেশীরভাগ গ্রামের মানুষ তাকে নিয়ে ভাবিত নয়।আমি ওর আসার পর বেশ কিছু গ্রামের নানা পেশার মানুষের সাথে ছত্রধরের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া নিয়ে তাদের মতামত জানতে চেয়েছিলাম। একটা কথাই উঠে এসেছে ,ওর ভাই শশধর,আর শশধরের বউ সুচিত্রা জল্লাদ বাহিনী নিয়ে এলাকাতে ছিল ।ওরাই ওকে নেতা বানিয়েছিল।সবাই জানে তখন ওর সভাতে মাওবাদীরা জোর করে সবাইকে যেতে বাধ্য করতো।এমন একজন মানুষ দেখাতে পারবেন ছত্রধর যার ভালো করেছে।ছত্রধর হাজার মানুষের চরম ক্ষতি করেছে সেটা কিন্তু দেখানো যায়।আর এখন এইসব এলাকায় জোর করে কেউ ওদের মিটিঙ,মিছিলে নিয়ে যেতে পারবে না।চেষ্টা করলে ওদের গ্রামছাড়া করবে মানুষ।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
কথা হচ্ছিল ঘৃতখাম গ্রামের মানুষদের সাথে।যে গ্রামে মাওবাদীরা  দিনমজুর মহিলাকে পুলিশের চর বলে হত্যা করেছিল ।চার পাঁচ জন ঐ গ্রামের ছেলে তখন বড় মাওবাদী।তাদের এতটাই দাপট ছিল তাদের অবাধ্য যারাই হয়েছিল তাদেরকেই ওরা খুন করেছে বা চরম মারধর করে বাড়ি ভাঙচুর করে গ্রামছাড়া করেছিল।জেনে রাখুন পরে গ্রামবাসীরা তাদের বেধড়ক মারধর করে তাদের বাড়ি ধূলিস্যাত করে তাদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়ছে।তারা হোমগার্ডের চাকরি করলেও আর গ্রামে আসার সাহস দেখায়নি।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পাশের নেদাবহড়া গ্রাম পন্ঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের দিন শাসক দল এরকম পুলিশে চাকরি করা পুরনো মাওবাদীকে সামনে রেখে বোর্ড দখল করতে গেছলো।এলাকার লোক তার দাদাগিরি দেখে তাকে চিনে ফেলে।ব্যস জনতা এতটাই মারমুখী হয় যে পূলিশ ওকে রক্ষা করতে পারেনি।গ্রামবাসীরা ওকে টাঙি দিয়ে কোপায়।কোনরকম পুলিশ ওর প্রাণ বাঁচায়।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
আমি শুধু দুটি ঘটনার উল্লেখ করলাম ছত্রধর,শশধর দের বাহিনী যদি এখনো গ্রামে দাদাগিরি করতে আসে তাহলে গ্রামের মানুষ কি করতে পারে এটা বোঝানোর জন্য।না শাসকদল বা তার পুলিশ বাহিনী কেউ গ্রামবাসীদের আটকাতে পারবে না।ছত্রধর,শশধরদের বাহিনীর অত্যাচার,জুলুম ফিরে আসুক সেটা কোনো গ্রামবাসী চায় না।আর ওদের আটকাতে সব তৈরী আছে,তার প্রমান দিয়েছে। তাই ছত্রধর কে নিয়ে এলাকায় যারা স্বপ্ন দেখতে চায় সেটা তাদের দিবাস্বপ্ন।  শাসক নেতারা যত পরিকল্পনাই করুক–
          দিনের শেষে পরী যাবে উড়িয়া,
               কল্পনা থাকিবে পড়িয়া।