Homeএখন খবরনিখোঁজ শিক্ষক, দু' দিন পর প্রধান শিক্ষককে দায়ি করে মিলল আত্মহত্যার...

নিখোঁজ শিক্ষক, দু’ দিন পর প্রধান শিক্ষককে দায়ি করে মিলল আত্মহত্যার জবানবন্দি, রহস্য খুঁজছে পুলিশ

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা : দু’দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন স্কুল শিক্ষক। সোমবার হঠাৎই স্ত্রী ব্যাঙ্কে পাশ বই খুলে চমকে ওঠেন। দেখেন পাঁচ পাতার জবানবন্দিতে ওই শিক্ষক লিখে গেছেন আত্মহত্যাই করছেন তিনি এবং তার জন্য দায়ি কর্মরত স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক। ঘটনায় তোলপাড় পুর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানা এলাকা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জানা গেছে পাঁশকুড়ার সাহড়দার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক হিমাদ্রি শেখর সম্মিগ্রাহী(৩৪) শনিবার সকালে ব্যাঙ্কে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা মোবাইলে যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর সঙ্গে। ওই দিন রাত ১০টা নাগাদ পাঁশকুড়া থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন তারা ।  এরপর দুদিন পরিবারের দুশ্চিন্তাময় বিনিদ্র রাত কেটেছে । পুলিশও কোনও সন্ধান দিতে পারেনি।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সোমবার সকালে তাঁর স্ত্রী কোনও কারনে ব্যাঙ্কের পাশ বই খুলে দেখতে পান পাঁচ পাতার জবানবন্দি লিখে গেছেন ওই শিক্ষক এবং মৃত্যুর জন্য দায়ি করে গেছেন তারই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে।
জবানবন্দিতে হিমাদ্রি লিখেছেন,”আমার মৃত্যুর জন্য আমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয় চঞ্চল কুমার মাইতি দায়ী।চঞ্চল কুমার মাইতির জন্য আমাকে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হয়েছে।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পাঁশকুড়ার পুলশিটা ভোলানাথ বিদ্যানিকেতনের গণিতের শিক্ষক হিমাদ্রি শেখরের অভিযোগ  স্কুলের প্রধান শিক্ষক চঞ্চল কুমার মাইতিকে বছর চারেক আগে দুটি ব্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন জনের থেকে সুদে টাকা এনে দিয়েছিলেন হিমাদ্রি।যে টাকা শোধ করেননি প্রধান শিক্ষক।সুদে-আসলে যা এখন বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ২০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।টাকার জন্য তাগাদা দিতে বাড়িতে আসছিল পাওনাদাররা।প্রধান শিক্ষক যে টাকার কথা অস্বীকার করবেন সে কথাও সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন হিমাদ্রি।লিখছেন,”উনি কিন্তু সব অস্বীকার করবেন।তোমরা চঞ্চলবাবুকে ছাড়বে না।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
প্রাথমিকভাবে পরিবারের লোকেদের ধারণা, পাওনাদারদের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছেন হিমাদ্রি।যদিও হিমাদ্রির কোনও খোঁজ মেলেনি।তিনি কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছেন নাকি তার নিখোঁজ হওয়ার পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে তা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।আপাতত সেই রহস্য ভেদ করার চেষ্টা চালাচ্ছে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ।ওসি অজয় মিশ্র বলেন,”নিখোঁজ ডায়েরি পেয়েই আমরা ওই শিক্ষকের সন্ধান খোঁজ শুরু করেছি।সুইসাইড নোট উদ্ধারের ব্যাপারে আমরা পরিবারের লোকেদের অভিযোগ জমা করতে বলেছি।বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে শনিবার  দুপুরে স্ত্রী মানসীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল শিক্ষকের।  ফোন করে বলেছিলেন,খেয়ে নিতে। তাঁর ফিরতে দেরি হবে বাড়ি।এরপর বাড়ি না ফেরায় রাতে  নিখোঁজ ডায়েরি করেন বাবা নারায়ণ।কিন্তু কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
হিমাদ্রির শ্যালক গোপাল চক্রবর্তী বলেন,”প্রধান শিক্ষককে মৃত্যুর জন্য দায়ী করে জামাইবাবু একটি সুইসাইড নোট লিখে রেখে গেছেন।আমরা বিষয়টা পুলিশকে জানিয়েছি।” এদিকে প্রধান শিক্ষক চঞ্চল কুমার মাইতির বক্তব্য,”হিমাদ্রিবাবুর দুটো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ছিলাম।প্রতি মাসেই আমি সে ঋণ শোধ করছি এবং প্রায় শোধ হয়ে এসেছে।বাকি টাকার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।”
ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন হিমাদ্রির সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মানসী। হতভম্ব হয়ে গেছেন তিনি । গোটা পরিবারের মাথায় ভেঙে পড়েছে আকাশ। 

Advertisement

Advertisement

RELATED ARTICLES

Most Popular