সরকারী স্বীকৃতি সহ একাধিক দাবিতে আমরণ অনশনের ডাক কলেজের অস্থায়ী কর্মীদের

740
সরকারী স্বীকৃতি সহ একাধিক দাবিতে আমরণ অনশনের ডাক কলেজের অস্থায়ী কর্মীদের 1
সরকারী স্বীকৃতি সহ একাধিক দাবিতে আমরণ অনশনের ডাক কলেজের অস্থায়ী কর্মীদের 2

ওয়েব ডেস্ক : স্থায়ী কর্মীর অভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ রাজ্যের বিভিন্ন কলেজগুলিতে পরিষেবা দিয়ে এসেছে অস্থায়ী কর্মীরা৷ কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ আবেদন করা হলেও কিছুতেই তাদের বেতন বৃদ্ধি করছে না রাজ্য সরকার। ফলে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ক্যাজুয়াল এমপ্লয়ীজ সমিতির পক্ষ থেকে একটি আবেদন পত্র জমা দেওয়া হয়। বাম সরকারের আমলে যখন রাজ্যের কলেজগুলি একেবারে স্থায়ী কর্মী শূন্য, সে সময় একপ্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কলেজের একাধিক পরিষেবা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেসময় ব্যাপক অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছিল কলেজ পড়ুয়াদের। সে সময় ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা সহায়ক অফিসিয়াল পরিষেবাকে সচল রাখতে, কলেজ পরিচালন সমিতি সেসময় বহু অস্থায়ী কর্মচারীদের নিয়োগ করেছিলেন। এরপর বাম জমানার পতনের পর এরাজ্যের শাসনের দায়িত্বে তৃণমূল এলে ক্রমে কলেজগুলিতে অস্থায়ী কর্মীদের সংখ্যাটা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে রাজ্যের কলেজগুলি মিলিয়ে শুধুমাত্র ক্যাজুয়াল কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৮০০০ জন।

তবে এই অস্থায়ী কর্মীরা শুধুমাত্র যে ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতেন তা কিন্তু নয়, এছাড়াও তারা এতদিন যাবৎ শিক্ষা সহায়ক যাবতীয় কাজ করতেন। অস্থায়ী কর্মচারী ছাড়া একপ্রকার অচল কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতকিছুর পরেও এই সব কর্মীরা এখনও অস্থায়ী। এখনও পর্যন্ত তাদের কোনোরকম সরকারী স্বীকৃতি মেলেনি৷ এমনকি নেই কর্মজীববের নিশ্চয়তা৷ এখনও পর্যন্ত তাদের বেতন সামান্য ২০০০ থেকে সর্বাধিক ৬০০০টাকা। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের অস্থায়ী কর্মীদের অত্যন্ত অসহায়ভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে। এদিকে অস্থায়ী কর্মচারীদের মতই কলেজ পরিচালন সমিতি দ্বারা একি ভাবে নিযুক্ত রাজ্যের পার্ট টাইম টিচার ও ২০১৩ সালের পর নিয়োগ হওয়া অতিথী অধ্যাপকদেরও রাজ্য সরকার তাদের যথাযোগ্য স্বীকৃতি, নিরাপত্তা বেতনের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু শিক্ষাকর্মীদের বারংবারই এযাবৎ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

সরকারী স্বীকৃতি সহ একাধিক দাবিতে আমরণ অনশনের ডাক কলেজের অস্থায়ী কর্মীদের 3

এ বিষয়ে অস্থায়ী কর্মীদের অভিযোগ, অস্থায়ী কর্মচারীদের তরফে উচ্চশিক্ষা দফতর সহ উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীকে বারবার আবেদন নিবেদন করলেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একি ছাদের তলায় কাজ করা সত্ত্বেও শিক্ষাকর্মীদের বছরের পর বছর বঞ্চিত করে, অসহায় দিশেহারা পরিস্থিতিতে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এদিন অস্থায়ী কর্মীরা দাবি করেন, কলেজে কর্মরত ক্যাজুয়াল কর্মচারীদের সরকারী স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মীকে ৬০ বছরের কর্মনিশ্চয়তার নিরাপত্তা দিতে হবে৷ একই সাথে এদিন উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, সরকারী আদেশনামা 3998 F(P2) লাগুর দাবীতে রাজ্যব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করলেও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সহ উচ্চশিক্ষা দপ্তর প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই দেয়নি।সরকারী স্বীকৃতি সহ একাধিক দাবিতে আমরণ অনশনের ডাক কলেজের অস্থায়ী কর্মীদের 4

এদিকে এদিন কলেজের অস্থায়ী কর্মচারীরা যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি পূরণ না হবে ততক্ষণ আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছে। এ বিষয়ে এক অস্থায়ী কর্মী জানান, “যতক্ষন পর্যন্ত না দাবীপূরণ হয় আমাদের এই অনশন চলবে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো স্বেচ্ছামৃত্যুর। কারন কলেজ ক্যাজুয়াল কর্মচারীদের জীবন যন্ত্রনার থেকে মৃত্যু অনেক ভালো।”