আসামের জঙ্গলে ভয়াবহ বজ্রপাত! মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল ১৮ হাতির দল

161
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: একসঙ্গে ১৮ টি হাতির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল আসামের নওগাঁয়। অসমের নওগাঁ জেলার কান্দোলি প্রোপোজড রিজার্ভ ফরেস্টে ঘটা বুধবারের এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। তবে বন আধিকারিকদের অনুমান, সম্প্রতি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছিল এলাকায়। তাতেই মৃত্যু হতে পারে ওই হাতিগুলির। বন বিভাগের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, একদিন আগে রাতে প্রবল বজ্র-বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হয় নওগাঁর কুন্ডলী এলাকায়। যে সময় বাজ পড়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৮টি হাতি।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দা এবং বন দফতর সূত্রে খবর, জঙ্গলের ভিতরে হাতিদের মৃতদেহগুলি প্রথমে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। একসঙ্গে এতগুলি হাতির মৃতদেহ দেখে দ্রুত বন দফতরের আধিকারিকদের খবর দেন তাঁরাই। বন দফতরের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে দেখেন একটি টিলার উপরে ১৪ হাতির মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে নিচে ৪ টি মৃতদেহ পড়ে ছিল। একসঙ্গে এতগুলো হাতির মৃত্যুতে শোকের আবহ সেখানকার স্থানীয়দের মধ্যেও।

Advertisement
Advertisement

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে কুন্ডলীর কাঠাইয়াতোলি রেঞ্জের প্রিন্সিপাল চিফ কনভারসেটর অফ ফরেস্ট (ওয়াইল্ডলাইফ) অমিত সহায় জানিয়েছেন, ‘এলাকাটি ভীষণই দূর্গম। উদ্ধারকারী দলের সেখানে পৌঁছতে এদিন দুপুর গড়িয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় দুটি জায়গায় মোট ১৮টি হাতি মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাহাড়ের উপরে ১৪টি হাতির মৃতদেহ ও পাহাড়ের নীচে ৪ টি হাতি পড়েছিল।

 

‘তিনি এও জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বজ্রপাতের কারণে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়েই হাতিগুলির মৃত্যু হয়েছে। হাতিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, যে রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে মৃত্যুর আসল কারণ কী ছিল।

অসমের বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য কাঠাইয়াতোলী রেঞ্জে ১৮টি হাতির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে সেই ঘটনাস্থলেও যান বনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক। বজ্রাঘাতের কারণেই হয়তো হাতিগুলির মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পরই আসল কারণ সামনে আসবে।’ তবে অনেকেই আবার এই হাতি মৃত্যুর ঘটনায় চোরা শিকারিদের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন। এর পেছনে যদিও তাঁদের তেমন কোনও যুক্তি প্রকাশ্যে আসেনি।

উল্লেখ্য, সর্বাধিক হাতির সংখ্যা বিচারে আসাম দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, প্রথম স্থান কর্ণাটকে; ২০১৭-র সেনসাস অনুযায়ী। ২০১৭ সালের সেনসাস অনুযায়ী আসামে বর্তমানে হাতির সংখ্যা ৫ হাজার ৭১৯টি। এছাড়াও পরিসংখ্যা অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত প্রায় ১০০ হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে অসমে এবং এর পেছনে রয়েছে চোরাশিকারিদের হাতে প্রাণ হারানো থেকে শুরু করে, ট্রেনলাইনে এসে পড়া একাধিক কারণ। তবে একসঙ্গে এই এতগুলো হাতি মৃত্যুর ঘটনা আসামে গত ২০ বছরেও ঘটেনি বলে জানা গিয়ে গিয়েছে।