শুভেন্দুর গড়ে হানা অভিষেকের, পূর্ব মেদিনীপুর দখলের লড়াই শুরু

871

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাংসদ শিশির অধিকারীকে ফোন করে তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিচ্ছেন আর অন্যদিকে হলদিয়াতে তৃনমূল কর্মীরা শিশির অধিকারীর ছেলে সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে হলদিয়ায় দলীয় নিয়ন্ত্রনে থাকা একটি ইউনিয়নের শীর্ষ পদ থেকে ছেঁটে ফেলছেন। বিষয়টি এমন ভাবে দেখানো হচ্ছে যে ঘটনাটি ঘটেছে নেহাৎই স্থানীয় ভাবে এর পেছনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও যোগাসূত্র নেই। দিব্যেন্দুকে বাদ দিয়েছে হলদিয়ার নেতারা, মমতা ব্যানার্জী কিন্তু অধিকারী পরিবারের সঙ্গেই রয়েছে। হলদিয়ার তৃনমূল নেতাদের বিশেষ করে দিব্যেন্দু অধিকারীকে বাদ দিয়ে সদ্য সভাপতি হওয়া দেবপ্রসাদ মন্ডলের হঠাৎ করে মনে হয়েছে যে কাঁথি থেকে অনেক দূরত্বের হলদিয়ায় সাংসদ ঠিক মত সময় দিতে পারছেন না। যদি এই যুক্তি ঠিকই হয় তবে একই কারনে আগামী দিনে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে শুভেন্দু আধিকারিকে সরানো হচ্ছেই এ ব্যাপারে সন্দেহ কী? কারন দুই ভাইয়ের ঠিকানা একই। আসলে তৃণমূলে মমতা ব্যানার্জী বা ইদানিং অভিষেক ব্যানার্জীর নজরের বাইরে কিছু হয়না এটা সবারই জানা। তাই দিব্যেন্দুর অপসারন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রীটের নজরের বাইরে গিয়ে হয়েছে এটা ভাবার কোনও কারন নেই বরং বলা ভাল যে যা হয়েছে তা ওখান থেকেই হয়েছে এবং ওখানের নির্দেশ মেনেই হয়েছে। এই প্রথম সরাসরি কালীঘাট পূর্ব মেদিনীপুর থেকে অধিকারী সাম্রাজ্য উৎখাত করতে নেমেছে।

আরও পড়ুন -  করোনা যুদ্ধে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বই একমাত্র ভরসা, মন কি বাতে মোদি

পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্যর তিনটি স্তম্ভ। তমলুক হল প্রশাসনিক স্তম্ভ, হলদিয়া অর্থনৈতিক স্তম্ভ এবং কাঁথি অধিকারী পরিবারের সামাজিক স্তম্ভ যে সামাজিকতা অধিকারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতার মর্যাদা দিয়েছে। পরিবারের কর্তা থেকে শুরু করে প্রায় ৯০% সদস্যই আপাদ মস্তক রাজনৈতিক এবং প্রশাসক। অধিকারী পরিবারকে পূর্ব মেদিনীপুরের গড় থেকে উৎখাতের সেনাপতি অবশ্যই অভিষেক ব্যানার্জী কারন জেলার যুব সভাপতি পদ থেকে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ সংগ্রামজিৎ দলুই কে সরিয়ে
শুভেন্দু বিরোধী যে পার্থ সারথী মাইতি সভাপতি হয়েছেন তিনি গোটা তমলুক শহর জুড়ে শুভেন্দুর ছবি সম্মিলিত ফ্লেক্সের মাঝে মাঝে অভিষেককেও গুঁজে দিয়েছেন।

তমলুকের বিভিন্ন জায়গায় রাজ্যের শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতার পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। পার্থ সারথী মাইতি জেলা যুব সভাপতির পদ পাওয়ার পরই তমলুক জুড়ে অভিষেকের সমর্থনে পোস্টার। ওই পোস্টারের নীচে লেখা রয়েছে জেলা যুব সভাপতি পার্থ সারথী মাইতির নাম। অথচ, একই জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীরও পোস্টার পড়েছে। তবে সেখানে তাঁকে সমাজসেবী বলে তুলে ধরা হয়েছে। আবার, কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যানার ছাড়াই। এই ব্যানার যুদ্ধের মধ্যেই তমলুকের প্রশাসনিক ক্ষমতার অন্দরে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে আদতে অধিকারী পরিবারকেই।
তমলুক শহরের মানিকতলা থেকে নিমতলা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ব্যানার কিংবা ফ্লেক্স টাঙানো যে রাজ্য যুব সভাপতির নির্দেশ মেনেই করা হয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন পার্থ সারথি।
ঠিক পরের ধাপেই ধরা হয়েছে হলদিয়াকে যেখানে ভাইয়ের হাত ধরেই শিল্প তালুকের নিয়ন্ত্রক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আগে এই কাজটা তিনি করতেন হলদিয়া পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান শ্যামল আদকের হাত ধরেই। তখন পুরসভার চেয়ারম্যান সদ্য শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া দেবপ্রসাদ মন্ডল। হলদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে মন্ডলকে সরিয়ে আদককে এনেছেন শুভেন্দু। খুব স্বাভাবিক ভাবেই হলদিয়ায় একটি বিকল্প মুখ পেতে কষ্ট হয়নি অভিষেক ব্যানার্জীর।
পরের কাজটি কঠিন কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগেই অভিষেক ব্যানার্জীকে করতেই হবে তা’হল কাঁথির দুর্গে আঘাত করা এবং অধিকারী পরিবারের সামাজিক প্রতিপত্তিকে দুর্বল করা। এই কাজের জন্য একজন ‘জুডাস’ খুঁজছে পূর্ব মেদিনীপুরের তৃনমূল কংগ্রেস। না, এখুনি হয়ত কাঁথির বুক থেকে সেই জুডাস কে তুলে আনা মুশকিল হবে তাই আপাতত রামনগর আর এগরায় খোঁজ চলছে বলেই জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন -  অনাহারে, বিনাচিকিৎসা, অবসাদে মৃত্যু ৫৩,দুর্ঘটনায় ৩৫, সংঘর্ষে ৭ নিয়ে লকডাউনের ফলে মৃত্যু ছাড়ালো ২০০

শুভেন্দুর গড়ে হানা অভিষেকের, পূর্ব মেদিনীপুর দখলের লড়াই শুরু 1