টেম্পোতে সজোরে ধাক্কা মেরে গভীর খাদে উল্টে গেল বাস; উদ্ধার ১৭ টি দেহ, বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা

217
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত প্রায় ৩০ জন। মঙ্গলবার  রাতে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে কাছে সাচেন্দিতে। বাস ও টেম্পোর মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০ ফিট গভীরে পড়ে যায় বাসটি। আহতদের উদ্ধার করে লালা রাজপথ রাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কানপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

Advertisement

জানা যায়, কল্পনা ট্রাভেলসের ডবল ট্রেকার বাস মঙ্গলবার রাত প্রায় ৮ টা নাগাদ ফজলগঞ্জ থেকে আহমেদাবাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। বাসে ১০০ জনের কাছাকাছি যাত্রী ছিলেন। এরপর সাড়ে ৮ টা নাগাদ কিসান নগর ভারত গ্যাস এজেন্সির কাছাকাছি পৌঁছাতেই উল্টো দিক থেকে আসা টেম্পোর সঙ্গে জোরে সংঘর্ষ হয় এবং বাসটি রাস্তার পাশে থাকা গভীর খাদে পড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, টেম্পোতে চালক সমেত থাকা ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনেরই মৃত্যু হয়েছে এবং তারা সকলেই স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক।

Advertisement
Advertisement

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। প্রায় এক ঘন্টার প্রচেষ্টার পর মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রাত ২ টো থেকে শুরু করে সকাল ৬ টা পর্যন্ত চলে ময়নাদন্তের কাজ। এরপর দেহগুলি সৎকার করা হয়। এদিকে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে তাদের খোঁজখবর নেন পুলিশ কমিশনার অসীম অরুন, কানপুর আইজি মোহিত আগরওয়াল, অ্যাডিশনাল সিপি আকাশ কুলহরি সহ অন্যান্য পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা।

কানপুরের আইজি মোহিত আগরওয়াল জানান, সাচেন্দির কাছে কিসান নগর এলাকাতে একটি টেম্পোর সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ হয়। দ্রুত গতিতে আসা বাসটি টেম্পোতে ধাক্কা মারে। এর জেরে দু’টি গাড়িই উল্টে যায় এবং বাসটি খাদে পড়ে যায়। তিনি এও বলেন, এই দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে। এডিজি ভানু ভাস্করের ধারণানুযায়ী বাসের দুজন চালকই নেশাগ্রস্ত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ফাঁকা হাইওয়েতে বাসটির গতি যথেষ্টই দ্রুত ছিল। বাস চালক হয়তো ভাবতেই পারেননি যে, উল্টো দিক থেকে এভাবে অন্য একটি গারি চলে আসবে। এই কারণেই হয়তো চালক সামলে ওঠার কোনও সুযোগ পাননি এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্র অনুযায়ী পাওয়া মৃতদের নামের তালিকা-

রজনীশ (২০), শিবভজন (২২), রাম মিলন (২৪), লবলেশ (২০), গোলু পরিহার (২০), ধর্মরাজ(২২), করণ সিং(৩৫), গৌরব (২২), ননহু পাশোয়ান (২২), সুভাষ পাসী (২০), উদয় নারায়ণ যাদব (৬০), জ্ঞানেন্দ্র সিং পরিহার (৫০), এরা সকলেই লালেপুর সাচেন্দির বাসিন্দা। এছাড়াও রয়েছেন  ধনীরাম কুরিল (৫৫), বলবির যাদব (৫০), সুরেন্দ্র যাদব (৪৫), অন্নু সিং (১৮), যারা সাচেন্দি ঈশ্বরীগঞ্জের বাসিন্দা এবং টেম্পো চালক মান সিং (৩২)।

পথ দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আহতদের সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।