জামিন আটকাতে একটু পরেই আদালতে চার্জশিট দিতে চলেছে সিবিআই ! পথ আটকে তৃণমূল কর্মীরা, নিজাম প্যালেসে খোদ মমতা

79
Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নারদাকাণ্ডে গ্রেফতার রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই সঙ্গেই গ্রেফতার মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও। রাজ্যজুড়ে কার্যত লকডাউনের মাঝেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এদিকে আজই নারদা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিতে চলেছে সিবিআই, এমনটাই জানা গেছে। আইনজীবীদের একাংশ জানিয়েছেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার করার পর চার্জশিট পেশ করা হলে জামিন পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে যায়। কারন চার্জশিট দেওয়া মানেই মামলার ট্রায়াল বা বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়া। সেক্ষেত্রে অভিযুক্তরা জামিন পেলে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এমন যুক্তি তুলে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের প্রভাবশালী আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রেখেই বিচার প্রক্রিয়া চালানোর আবেদন করা হবে। যেহেতু এই চারজনই প্রভাবশালী যারমধ্যে আবার ২জন মন্ত্রী তাই জামিন মেলা দুষ্কর হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।

Advertisement

সোমবার সকালে কলকাতার চেতলার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। নারদকাণ্ডে তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতেই আইনি পথে সিবিআইয়ের মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ। উল্টোদিকে এই একই মামলায় আজ নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজ্যের সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে। সিবিআই সূত্রের খবর, আজই এই চারজনের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্কশাসল আদালতে চার্জশিট জমা দেবে সিবিআই। সূত্রের খবর, এই চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সিবিআইয়ের তরফে এখনও এব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

Advertisement
Advertisement

এদিন সাত সকালে নারদ মামলায় সিবিআই জালে ফিরহাদ হাকিম। একই মামলায় আটক শোভন চট্টোপাধ্যায় , মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই আচরণে যারপরনাই ক্ষুব্ধ তৃণমূল। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Roy) বলেন, ‘‘এটা প্রতিহিংসামূলক গ্রেফতার। রাজ্যপালের চার্জশিটে অনুমতি দেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা আদালতে লড়াই করব।’’ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় আবার এই ইস্যুতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে নিশানা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার কাছে সিবিআই এই গ্রেফতারের বিষয়ে কোনও চিঠি দেয়নি। অনুমতি নেয়নি। রাজ্যপাল কী করে এটা করলেন? কী করে অনুমতি দিলেন? এটা বেআইনি কাজ।‘

পাশাপাশি চার্জশীট পেশ করার আগে গ্রেফতার করাকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, মন্ত্রী-বিধায়কদের জামিন আটকাতেই সিবিআই এই কাজ করেছে বলে মত তাঁদের।

আরেকদিকে, তৃণমূলের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, নারদা কাণ্ডে ফিরহাদরা গ্রেফতার হলে মুকুল রায় আর শুভেন্দু মালিক এখনও অধরা কেন? তৃণমূলের তরফ থেকে সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতে চাইছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও, শুধু মুকুল অথবা শুভেন্দুই নন, এখনও এই মামলায় অধরা সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো হেভিওয়েট তৃণমূল নেতারা।

নারদাকাণ্ডে সিবিআইয়ের এই তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই মামলায় নাম রয়েছে বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীরও। তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নয়? প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। নারদ মামলায় নাম রয়েছে আইপিএস অফিসার এসএমএইচ মির্জারও। নাম রয়েছে বিজেপির যুব নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডারও। সিবিআই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই তৎপরতা নিয়েছে বলে অভিযোগ রাজ্যের শাসকদলের। জানা গিয়েছে, এদিন রাজ্যপালের অনুমতি নিয়ে প্রথমে ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এমনকী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়দের আটক করা নিয়েও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সম্মতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারপরেই চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয় নিজাম প্যালেসে। সেখানে চারজনকেই অ্যারেস্ট মেমোতে সই করানো হয়েছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর।

আর সিবিআই-এর এই ধরপাকড় কানে যাওয়ার পর সটান নিজাম প্যালেসে হাজির হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও নিজাম প্যালেসে গিয়ে হাজির হয়েছে তৃণমূলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ও সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। জানা গিয়েছে সিবিআই ওনাকেও তলব করেছে।