সংঘাত চরমে! রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের অপসারণ চেয়ে এবার প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখছেন মমতা

142
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যপাল ধনকড়ের অপসারণ চেয়ে এবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকদিন আগেই সংঘাত চরমে উঠেছিল রাজ্য এবং রাজ্যপালের। কিন্তু এবার তা মাত্রা ছাড়িয়েছে। এমনটাই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই রাজ্যপাল পদে জগদীপ ধনকড়ের অপসারণ চেয়ে এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যপালের অপসারণ বিষয়ে এবারে সত্যিই সিরিয়াস মমতা। এমনকী প্রয়োজনে বিধানসভায় তাঁর অপসারণের দাবীতে প্রস্তাবও পেশ করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস।

Advertisement

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে জগদীপ ধনকড় রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই কার্যত সরকার বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। একেবারে শুরু থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা সরকারের বহু নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে বিধানসভা ভোটের আগে একেবারে নিয়ম করে রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন তিনি, যা নিয়ে বারবার প্রতিবাদ করেছে তৃণমূলও।

Advertisement
Advertisement

তৃণমূলের দাবী ছিল, বিজেপি নেতাদের ভাষায় কথা বলছেন ধনকড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর ধনকড়ের রাজ্য সরকারের প্রতি ‘ক্ষোভ’ যেন আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের এই রাজ্যপাল নজিরবিহীনভাবে মুখ্যমন্ত্রীর শপথের দিনও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তাঁকে খোঁচা দিয়েছেন। একই কাণ্ড তিনি ঘটিয়েছেন মন্ত্রীদের শপথের দিনও।

এরপর কয়েক দিন আগে কোচবিহারে গিয়েছিলেন ধনকড়। অভিযোগ, শাসকদলের মদতে কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যাচারিত হচ্ছে বিজেপি সমর্থক বেশ কিছু পরিবার। কোচবিহারে গিয়ে তেমনই কিছু পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন ধনকড়। রাজ্যপালকে দেখে নানা অভাব-অভিযোগের কথাও জানিয়েছেন ‘আক্রান্ত’ পরিবারের সদস্যরা। কোচবিহারে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল ধনকড়কে। রাজ্যপালকে ঘিরে গো-ব্যাক স্লোগান ওঠে।

তারপরেই রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অসমে পাড়ি  ধনকড়। ধুবুড়ি জেলার একটি প্রাথমিক স্কুলে বাংলা থেকে রাজনৈতিক অশান্তিতে ঘরছাড়া কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাঁদের ফের বাড়িতে ফেরানোর আশ্বাসও দিয়েছেন রাজ্যপাল। পরে শিলিগুড়িতে ফিরে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে তুলোধনা করেছেন রাজ্যপাল। শাসকদলের মদতেই হামলার অভিযোগ তোলেন রাজ্যপাল। শেষে নন্দীগ্রামেও গিয়েছিলেন ধনকড়। রাজ্যের পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেন রাজ্যপাল। নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যপালের এহেন ‘তৎপরতা’-য় বেজায় চটেছে শাসক শিবির৷ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের অপসারণ চেয়ে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

সোমবার সেই সংঘাত যেন আরও চরমে পৌঁছায়। এদিন নারদ কাণ্ডে নেতা-মন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যের পরিস্থিতি ৷ তারই প্রেক্ষিতে পরপর ট্যুইট করেন রাজ্যপাল। তিনি লেখেন, “উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত ৷ সাংবিধানিক নিয়ম ও আইনশৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে ফোনে বলেছি ৷ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ করা উচিৎ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কলকাতা পুলিশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। ”

এমনকি কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুঃখজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তোপ দেগেছেন ধনকড় ৷ তিনি রাজ্য সরকারকে একপ্রকার তুলোধোনা করে ট্যুইটে লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেসেজ করে জানিয়েছি, সম্পূর্ণ অনাচার ও আরাজকতা চলছে ৷ পুলিশ ও প্রশাসন নীরব হয়ে রয়েছে৷এ ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতার কী ফল হতে পারে তা আশা করি বুঝতে পারছেন ৷ মিনিটে মিনিটে খারাপ হওয়া বিস্ফোরক পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না-হয় তার ব্যবস্থা করার সময় এসেছে ৷”

এতে করে আরও চটেছে শাসক দল। তাই শুধু রাজ্যপালের অপসারণ দাবী করেই নয়, সরাসরি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকেও চিঠি লিখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই জানা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার দিল্লিতে ঐ চিঠি পাঠাবেন মুখ্যমন্ত্রী।