লোকাল ট্রেন নিয়ে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই বুধবার ফের বৈঠকে বসলেন রেল-রাজ্য

298
লোকাল ট্রেন নিয়ে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই বুধবার ফের বৈঠকে বসলেন রেল-রাজ্য 1

ওয়েব ডেস্ক : ‌পশ্চিমবঙ্গে লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু নিয়ে বৃহস্পতিবারই রেল-রাজ্যের চূড়ান্ত বৈঠক। এর আগে বুধবার ফের এক দফা আলোচনায় বসলেন রেল ও রাজ্য। জানা গিয়েছে, বুধবারের বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, পরিবহণ সচিব ও অন্যান্য আধিকারিকরা। পাশাপাশি রেলের তরফে থেকে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া, শিয়ালদহ এবং খড়গপুরের ডিআরএম এবং পূর্ব রেলের চিফ অপারেশন ম্যানেজার। লোকাল ট্রেন চালুর আগে একাধিক বিষয়ে এদিন ২ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেন রাজ্য ও পূর্ব রেল ও দক্ষিণ–পূর্ব রেলের আধিকারিকরা।

জানা গিয়েছে, যেহেতু এই মূহুর্তে রাজ্যের করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, সেহেতু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সংক্রমণ এড়িয়ে কিভাবে সুষ্ঠুভাবে ট্রেন চলাচল করানো যায়, তার জন্য ঠিক কী কী প্রস্তুতি নেওয়া হবে মূলত সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্যই এদিন বৈঠক ডাকা হয়। সূত্রের খবর, ট্রেন চালু হলে সেক্ষেত্রে সকাল ও বিকেলের অফিস টাইমে শুধুমাত্র হাওড়া ও শিয়ালদহ,এই দুটি স্টেশন মিলিয়ে ২০০–র বেশি ট্রেন চালানোর জন্য রেলকে আবেদন করা হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে রাজ্যের বড়–ছোট বিভিন্ন স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের ঢোকা এবং বেরোনো নিয়ে কী কী নির্দেশিকা থাকা দরকার তা নিয়েও এদিন দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এদিন রেলের তরফে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র অফিস টাইম নয়, অফিস টাইম ছাড়া অন্য সময়েও কোন কোন রুটে কটি ট্রেন চালানো হবে তারও তালিকা তৈরি করতে শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

লোকাল ট্রেন নিয়ে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই বুধবার ফের বৈঠকে বসলেন রেল-রাজ্য 2

সোমবারের বৈঠকে জানানো হয় পরিষেবার শুরুতে রেল একটি লোকাল ট্রেনে ৬০০ জন যাত্রী পরিবহণ করাতে চায়। কিন্তু তা নিয়েই সমস্যা দেখি দিয়েছে। এভাবে রেলযাত্রীদের সংখ্যা বা ভিড় নিয়ন্ত্রণ বিশাল বড় একটা চ্যালেঞ্জ। কারণ, ট্রেন চালু শুরু হলে সেদিকেই ঝুঁকবে বেশিরভাগ মানুষ। সেই অসংখ্য যাত্রী থেকে একটি ট্রেনে ৬০০ জন যাত্রীকে উঠতে দেওয়া— এ সব কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে?‌ এদিন রেলের কাছে এই প্রশ্ন রাখে রাজ্য।

সোমবারের বৈঠকে জানানো ট্রেন চালু হলে প্রথমদিকে প্রতি ট্রেন পিছু ৬০০ জন যাত্রী তোলা হবে। এর ভিত্তিতে বুধবারের বৈঠকে রাজ্যের তরফে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয়, যেহেতু শহরতলীর বহু মানুষ প্রতিদিন কলকাতায় যায়, আর ট্রেনই তাদের নির্ঝঞ্ঝাট মাধ্যম, সেক্ষেত্রে যদি কোনও সময় ৬০০ জন যাত্রীর বেশি প্লাটফর্মে থাকে এবং ভিড় তৈরি হয় তবে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কী করণীয়?‌ কোনও স্টেশনে যাতে ভিড় তৈরি না হয় তা আগে থেকে কি কোনওভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?‌ পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে রেলপুলিশ কি আদেও এত পরিমাণ ভিড় সামাল দিতে পারবে? এ জাতীয় একাধিক প্রশ্ন করা হয়।

পাশাপাশি করোনা আবহে লোকাল ট্রেন চালু করার আগে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারও রয়েছে। সেক্ষেত্রে ট্রেনে ওঠার আগে প্রত্যেক যাত্রী মাস্ক পরছেন কিনা, শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে কিনা— এ সব রেলের হাতে না থাকলেও যাত্রীদের থার্মাল স্ক্যানিং এবং স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রেলকে আগেই করতে বলেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, এবার আর সব স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াবে না। বেশকিছু স্টেশনে গ্যালপিং ট্রেন চালানোর কথা ভাবছে রেল। পাশাপাশি আর আগের মতো যাত্রীরা যাতে বিনা টিকিটে রেলযাত্রা না করতে পারে সেজন্য স্টেশনে স্টেশনে টিকিট পরীক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেশনচত্ত্বরে যাতে হকাররা প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।