করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রথম কুকুরের মৃত্যু হল আমেরিকায়

114

ওয়েব ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই মারণ ভাইরাসের কবলে পড়েছেন প্রায় কয়েক কোটি মানুষ। মারাও গিয়েছেন প্রায় কয়েক লক্ষের। কিন্তু কোনও পোষ্যও যে করোনায় আক্রান্ত হতে পারে, কিংবা তার প্রাণহানি হতে পারে তা কিন্তু এ পর্যন্ত শোনা যায়নি। সদ্য এমনি এক ঘটনার সাক্ষী থাকলো মার্কিন মুলুক। মারণ ভাইরাস প্রাণ কাড়লো একটি কুকুরের। জার্মান শেফার্ড প্রজাতির এই কুকুরটির নাম বাডি। লং ড্রাইভ, সাঁতার কাটা কিছুই বাকি রাখত না সে। এমনকী হ্যালোউইনেও সুন্দর করে সাজতে ভালোবাসত সকলের প্রিয় বাডি। বড় দাদার মতোই ১০ মাসের ছোট্ট ডিউককে সামলে রাখত সে। এপ্রিল মাসে ছিল তার সপ্তম জন্মদিন।করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রথম কুকুরের মৃত্যু হল আমেরিকায় 1

এদিকে জন্মদিনের কিছুদিন আগে এপ্রিলের মাঝামাঝিতেই আচমকা শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বাডির। কিছুদিন কষ্ট করেই শ্বাস নিচ্ছিল সে। এভাবে ছ’সপ্তাহ কাটার পর চিকিৎসককে দেখালে জানা যায় বাডির করোনা পজিটিভ। এরপর ১১ জুলাই মারা যায় বাডি। আমেরিকায় এই প্রথম কোনো কুকুর করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেল। এরপরই বাডির মালকিন অ্যালিসন ম্যাহনি তার পোষ্যের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার যাবতীয় রিপোর্ট ন্যাশন্যাল জিয়োগ্রাফির কাছে পাঠায়। মৃত্যুর আগে বাডির কি কি উপসর্গ দেখা গিয়েছিল তা স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে ওই রিপোর্টে। বাডির মৃত্যুর পর সেই রিপোর্ট দেখে দুই পশু চিকিৎসক জানিয়েছেন, বাডি দীর্ঘদিন ‘লিম্ফোমা’ নামক এক বিরল ক্যানসারে ভুগছিল। সে কারণেই সহজেই এই মারণ ভাইরাস বাডির শরীরে থাবা বসাতে পেরেছিল।

তবে শুধুমাত্র ক্যনাসার কিংবা করোনা ভাইরাস না। একই সঙ্গে অন্য কোনও ভাইরাসও তার শরীরে বাসা বেঁধেছিল। কিন্তু করোনা কালে সঠিক চিকিৎসার অভাবেই বাডিকে হারালো ওর পরিবার। বিষয়টি জানার পর কৌতুহল বশত বাড়িতে পোষ্য রয়েছে নিউ ইয়র্কের এমন কিছু পরিবারের সাথে আলিসান যোগাযোগ করেন৷ তাঁদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে অনেকেরই পোষ্যই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। এমনকি এদের মধ্যে ২৫ টি পোষ্যর শরীরে করোনা সংক্রমণও ধরা পড়ে। এছাড়া সম্প্রতি নিউ ইয়র্কেই আরও ২টি কুকুর মারা গিয়েছে। তাদের মধ্যে একটি কুকুর হার্ট ফেল করে মারা যায়, অন্যজন মারা যায় সব অঙ্গ বিকল হয়ে। তবে এবিষয়ে বাডির পরিবারের তরফে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তারা জানান, সাধারণত করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত পরীক্ষা করাতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রথমবারের পর আর কোনও রকম রক্ত পরীক্ষা করা হয়নি বাডির। এমনকি করোনা হলে পশুদের কীরকম যত্ন নিতে হবে সেই সংক্রান্ত কোনও গাইডলাইনও দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন -  ১১বছরের রেকর্ড ইলিশ উৎপাদন বাংলাদেশের, দিঘার দিকে তাকিয়ে বাংলা

২১ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত, টানা ২৫ দিন বাডির ওজন ক্রমশ কমতে থাকে। এরপর আর অপেক্ষা না করে তাকে পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে বেশকিছু পরীক্ষার পর জানা যায় বাডি করোনায় আক্রান্ত। চিকিৎসকও প্রথমে ধারণা করতে পারেন নি যে বাডি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তিনি একটি আল্ট্রাসাউন্ড এবং এক্স-রে করানোর পর পশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন এটি হার্টের সমস্যা। আড়াই সপ্তাহ অ্যান্টিবায়োটিক এবং দুটি হার্টের ওষুধ খাওয়ার পর তাকে স্টেরয়েড দেওয়া হয়। এরপরই আলিসনের ফ্যামিলি ফিজিসিয়ন প্রথম সন্দেহ করেন বাডি করোনায় আক্রান্ত। তখনও তার ক্যান্সারও শনাক্ত হয়নি।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রথম কুকুরের মৃত্যু হল আমেরিকায় 2