প্রয়াত প্রখ্যাত গায়ক-অভিনেতা শক্তি ঠাকুর, বাবার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দুই মেয়ে মেহুলি-মোনালি

397
প্রয়াত প্রখ্যাত গায়ক-অভিনেতা শক্তি ঠাকুর, বাবার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দুই মেয়ে মেহুলি-মোনালি 1

ওয়েব ডেস্ক : চলে গেলেন প্রখ্যাত গায়ক তথা অভিনেতা শক্তি ঠাকুর। বেশকিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন সঙ্গীতশিল্পী মোনালি ঠাকুরের বাবা শক্তি ঠাকুর। মৃত্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। রবিবার রাতে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। এরপর গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি৷ সোমবার সকালে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। জানা গিয়েছে, এর আগেও একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রথমবার স্ট্রোক হওয়ার পর দ্বিতীয়বার ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হন শক্তি ঠাকুর। বাবার মৃত্যুতে রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন বাবার ‘কার্বন কপি’ বড়ো মেয়ে মেহুলি গোস্বামী ঠাকুর। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে প্রয়াত বাবার উদ্দেশ্যে নিজের মনের দুঃখ ভাগ করে নেন মোনালি ঠাকুরের দিদি৷ এদিকে করোনা পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘ কয়েক মাস যাবৎ সুইজারল্যান্ডে আটকে পড়েছেন মোনালি ঠাকুর। ফলে বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়েও শেষ বেলায় দেশে ফিরতে পারেননি ছোটো মেয়ে সঙ্গীত শিল্পী মোনালি ঠাকুর। তবে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ড থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তিনি। ৭ই অক্টোবর তিনি ফিরিছেন।

আরও পড়ুন -  আমফান বিধ্বস্তদের পাশে দাঁড়াতে 'দিদিকে বলো'-র অনুকরণে দিলীপ ঘোষের 'দিলীপ দা কে বলো' কর্মসূচি

এদিকে বাবার মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন বড়ো মেয়ে মেহুল। রবিবার রাতে বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে মেহুল গোস্বামী ঠাকুর লেখেন, “আমার বাবা…. আর নেই… নেই। ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট…..কয়েক ঘন্টার মধ্যেই চলে গেল….আমার বাবা….. কিচ্ছু করতে পারলাম না……।” সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের তিনি একটি পোস্ট করেন। এদিন প্রয়াত বাবার উদ্দেশ্যে মেহুল ঠাকুর লেখেন, “আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে বাবা মায়েরা একদিন চলে যায়…. জীবনে কোনোদিনও স্মশানে আসিনি…. আজ সবই জীবনে প্রথম বার…… বাবা ছাড়া আজ থেকে নতুন জীবন…….. তুমি কি কোনোদিনও কোনো পাপ করোনি বাবা?….. নইলে এভাবে দুঘন্টার মধ্যে কে চলে যায়? “ধুর আর ভাল্লাগছেনা” বলে চলে গেলে…… সব কিছুতেই তাড়াহুড়োর জন্য কত বকা বকি করতাম…… আজ চলে যাওয়ার সময়ও এমন অদ্ভুত তাড়াহুড়ো কে করে বাবা?…..আমি তো তোমার কার্বন কপি…. আমিও তোমারি মতন তাড়াহুড়ো করে চলে যাবো দেখো……… কষ্টটা লিখে ফেলতে পারলে বোধহয় নিঃশ্বাস নিতে পারতাম……।”

অনুরাগীরা গায়ক-অভিনেতা হিসেবে চিনলেও প্রথম জীবনে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন শক্তি ঠাকুর। ছিলেন অঙ্কের শিক্ষক। পরবর্তীকালে অভিনয় ও সংগীত জগতে পা রেখেছিলেন। এরপর একসময় তপন সিনহার ‘হারমোনিয়াম’ ছবিতে নেপথ্য শিল্পী হিসেবে গান গেয়েছিলেন এই প্রখ্যাত শিল্পী। এভাবে একে একে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অজয় দাস, আর ডি বর্মনের সুরে গেয়ে ধীরে ধীরে ক্রমশ জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছিলেন শক্তি ঠাকুর। গানের পর পা রাখেন অভিনয় জগতে। গানের পাশাপাশি অভিনয়েও চর্চা ছিল শক্তিবাবুর। ‘দাদার কীর্তি’, ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’-র সহ ছবিতে বরাবরই অভিনয় করেছিলেন এক সময়কার জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা।

প্রয়াত প্রখ্যাত গায়ক-অভিনেতা শক্তি ঠাকুর, বাবার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দুই মেয়ে মেহুলি-মোনালি 2