“তৃণমূল থেকে নেতা এসেছে তাই আমাকে সরতে হল”, সর্বভারতীয় নেতৃত্বে পদ খোয়ানোয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এক হাত নিলেন রাহুল সিনহা

219
"তৃণমূল থেকে নেতা এসেছে তাই আমাকে সরতে হল", সর্বভারতীয় নেতৃত্বে পদ খোয়ানোয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এক হাত নিলেন রাহুল সিনহা 1

ওয়েব ডেস্ক : প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবন৷ প্রথম থেকেই গেরুয়া শিবিরে আছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা। কিন্তু দিন যত এগিয়েছে সময় ততই বদলেছে৷ এক সময় বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদ থেকে রাহুল সিনহাকে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় বসানো হয় দিলীপ ঘোষকে। এরপর যত দিন গেছে দলের অন্দরে দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়ের চাহিদা যত বেড়েছে, ততই ক্রমশ ‘কোণঠাসা’ হয়েছেন এককালের বঙ্গ বিজেপির ভরসা রাহুল সিনহা। এদিকে পর পর দু’বার রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদ পাওয়ার পর পরই চলতি মাসের জুনেই নতুন করে রাজ্য কমিটি গঠন করেন। কিন্তু সেই কমিটি থেকে বাদ পড়ে রাহুল সিনহার নাম। কিন্তু দলের পুরনো সৈনিক হিসেবে একেবারে ছেটে ফেলা সম্ভব নয়। সেকারণে তাকে জায়গা দেওয়া হয়েছিল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে। কিন্তু সেই পদ শুধুমাত্রই ‘নাম কে ওয়াস্তে’। আদতে সর্বভারতীয় কোনও ক্ষেত্রেই সেভাবে দেখা যায়নি রাহুল সিনহাকে। শনিবার সেই পদও খোয়ালেন রাহুল সিনহা।

আরও পড়ুন -  কাটোয়ায় ঐতিহ্যবাহী হরিশচন্দ্র মেমোরিয়াল শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন ন'নগর অম্বুজা স্পোটিং ক্লাব

এদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তালিকা প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই সর্বভারতীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাহুল সিনহা। এদিন সন্ধ্যায় এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে বলেন, “৪০ বছর বিজেপির সেবা এবং বিজেপির একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করে এসেছি। জন্মলগ্ন থেকে বিজেপির সেবা করার পুরস্কার এটাই! তৃণমূল থেকে নেতা আসছে তাই আমাকে সরতে হল। এর থেকে দুর্ভাগ্যের কিছু হতে পারে না। পার্টি আজ যে পুরস্কার দিল সেই পুরস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে কিছু আমি বলতে চাই না।” একই সাথে এদিন রাহুল সিনহা জানান, “যা বলার আমি আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বলব এবং আগামী কর্মপন্থা তখনই জানাব।”

"তৃণমূল থেকে নেতা এসেছে তাই আমাকে সরতে হল", সর্বভারতীয় নেতৃত্বে পদ খোয়ানোয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এক হাত নিলেন রাহুল সিনহা 2

এদিকে শনিবার নতুন তালিকায় জাতীয়স্তরে বেশ কিছুটা রদবদল করেছে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন নতুন কমিটিতে আচমকা সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয় মুকুল রায়কে। জাতীয় সম্পাদকের পদে বসানো হয় অনুপম হাজরাকে। এদিকে আশ্চর্যজনকভাবে কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় রাহুল সিনহাকে। অথচ মুকুল রায়, অনুপম হাজরা এরা দুজনেই মাত্র ৩ বছর আগে শাসকদল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। অথচ দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে যিনি গেরুয়া শিবিরেই রয়েছেন, তাকেই ক্রমশ কোণঠাসা করায় এদিন দলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দেন রাহুল সিনহা। তবে মাত্র কয়েকবছর আগে শাসকদল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া হেভিওয়েট নেতাদের এভাবে দলে বেধি গুরুত্ব দিয়ে, পুরনোদের অবহেলা করায় স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গ বিজেপিতে ভাঙনের আশঙ্কা একেবারেই অস্বীকার করতে পারছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা