বিয়ে দিতে অস্বীকার করায় প্রেমিকা সহ মা ও বোনকে ধারালো অস্ত্রের কোপ, মৃত ১, আত্মসমর্পণ প্রেমিকের

238
বিয়ে দিতে অস্বীকার করায় প্রেমিকা সহ মা ও বোনকে ধারালো অস্ত্রের কোপ, মৃত ১, আত্মসমর্পণ প্রেমিকের 1

ওয়েব ডেস্ক : দুপুর ১২ টা, সাধারণত, নামাজ পড়ার সময় ফাঁকাই থাকে একবালপুরের ডাঃ সুধীর বোস রোড। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ভর দুপুরে এক মহিলাকে নৃশংসভাবে খুন করলেন এক ব্যক্তি। গুরুতর জখম ওই মহিলার দুই মেয়ে। জানা গিয়েছে, সুধীর বোস রোডের একটি বহুতলের তৃতীয় তলে বাস করতেন আকদা খাতুন, তাঁর দুই মেয়ে ও স্বামী। ভর দুপুরে রাস্তা ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে আচমকা ওই বহুতলের তৃতীয় তলের আকদা খাতুনের ঘরে ঢুকে যান অভিযুক্ত সুলতান আনসারি।

অভিযোগ, ঘরের মধ্যে ঢুকে আকদা খাতুন নামে বছর ৪৫ এর ওই মহিলাকে মারধর শুরু করেন ওই ব্যক্তি। এরপর রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন আকদাকে। এই ঘটনা চোখের সামনে দেখে ছুটে আসে দুই মেয়ে। কিন্ত তাদেরও একইভাবে কোপায় অভিযুক্ত। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মা ও দুই মেয়ে। এদিকে ওই বহুতল থেকে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে একবালপুর থানা। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত থানায় গিয়ে সমস্ত ঘটনা পুলিশকে জানিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরপরই অভিযুক্ত সুলতান আনসারিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিয়ে দিতে অস্বীকার করায় প্রেমিকা সহ মা ও বোনকে ধারালো অস্ত্রের কোপ, মৃত ১, আত্মসমর্পণ প্রেমিকের 2

দিকে ঘটনার মিনিট দশেক পর ওই বহুতলের তৃতীয় তল থেকে আচমকা আর্তনাদ কানে যায় বহুতলের অন্যান্য বাসিন্দাদের। কি হয়েছে বুঝতে না পারলেও চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দৌড়ে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে মা ও দুই মেয়ে। সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ। এরপর স্থানীয়দের তরফে দ্রুত একবালপুর থানায় খবর দেওয়া হয়৷ পুলিশ গিয়ে তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মারা যান আকদা খাতুন। তাঁর দুই কন্যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন -  ২৪ঘন্টায় ভারতে আক্রান্ত বাড়ল ৭০৪, রাজ্যগুলিকে সতর্ক করল কেন্দ্র

এদিকে অভিযুক্ত সুলতান আনসারিকে গ্রেফতার করার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, সুলতান আহমেদ সম্পর্কে আকদার খাতুনের স্বামীর খুড়তুতো ভাই। তার বড় মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুলতানের। তাকে বিয়ের কথা জানিয়েছিল সুলতান। কিন্তু আকদা ও তার স্বামী সুলতানের সঙ্গে বড় মেয়ের বিয়ে দিতে নারাজ ছিলেন। বিয়ের কথা বললেই সুলতান আনসারিকে অপমান করা হত। তাতেই রেগে যান অভিযুক্ত। এরপর পরিকল্পনা করে তাদের খুন করার কথা ভাবেন অভিযুক্ত। সে জানায়, মারামারির সময় রাগের মাথায় রান্নাঘরে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে সে। ঘটনার পর শনিবার অভিযুক্তকে আলিপুর কোর্টে তোলা হয়।