আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ কাটেনি পুরসভা, ডাল ভেঙে মৃত মহিলা, চাঞ্চল্য চুঁচুড়ায়

89

ওয়েব ডেস্ক : মাস চারেক আগে আমফানের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাস্তার ধারের একটি কদম গাছ বাড়ির উপর বেঁকে পড়েছিল। সে সময় বারংবার ওই বাড়ির বাসিন্দারের তরফে গাছটি কেটে ফেলতে অনুরোধ করা হলেও প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এতদিন এভাবেই বাড়িতে বাস করছিলেন তারা। কিন্তু আচমকা গাছের সেই ভাঙা ডালটি বাড়িতে পড়ে মৃত্যু হল এক মহিলার। জানা গিয়েছে মৃত মহিলা বছর ৪৫ এর বিজলি দাস৷ রবিবার ভোর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হুগলি চুঁচুড়ার পৌরসভার ২৮ নং ওয়ার্ড কনকশালী বোসের ঘাট এলাকায়।

আরও পড়ুন -  এবার ট্রেনে করেই করোনা আসছে গ্রামে গ্রামে, পশ্চিম মেদিনীপুরেই একদিনে সনাক্ত ৬ আক্রান্ত

জানা গিয়েছে, আমফানের জেরে কদম গাছটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গাছটি গোড়া থেকে অর্ধেক বেঁকে রাস্তার পাশের বাড়িটিতে ঝুঁকে পড়ে৷ রবিবার ভোরের দিকে আচমকা সেই গাছের একটি ডাল ভেঙ্গে পাশে থাকা বাড়িটির টালির চাল ভেদ করে ভিতরে পড়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাছের ডাল চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থাতেই মৃত্যু হয় বিজলি দাস নামে ওই মহিলার। সে সময় মৃতার স্বামী বিশ্বনাথ দাস ও ছেলে সুজয় দাস সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন। আচমকা আওয়াজে ঘুম ভেঙে দেখেন ঘরের মধ্যে গাছের ডাল ভেঙে চাপা পড়ে রয়েছেন বিজলি দেবী। আচমকা আওয়াজ পেয়ে প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন। এরপর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিংসক সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় মৃতার ছেলের অভিযোগ, আমফানের পর কদম গাছটি কেটে সরিয়ে ফেলার জন্য পুরসভায় একাধিকবার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনও কথাই শোনেন নি৷ তিনি আরও বলেন,গাছের ভাঙা ডালটি ক্রমশ তাদের বাড়ির দিকে সরে আসছিল। যখন তখন বিপদের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। আর তাই হল। এদিকে ঘটনার পর রবিবার সকালে পৌরসভার তরফে গাছ কাটা শুরু করে। এবিষয়ে পুর প্রশাসক জানিয়েছেন, গাছটির বিপজ্জনক ডালগুলো কেটে ফেলা হয়েছিল। বাকি অংশ অক্ষত থাকায় তা কাটার অনুমতি ছিল না। তাই সে সময় কাটা যায়নি। আর সেই অংশের ডাল ভেঙেই বিপত্তি হল। এদিকে পুরসভার গাফিলতির কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ কাটেনি পুরসভা, ডাল ভেঙে মৃত মহিলা, চাঞ্চল্য চুঁচুড়ায় 1