বিমল গুরুং নয়, পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখাই একমাত্র ফোকাস, দাবী বিনয়-অনীতের

240
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: বিমল গুরুং প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পাহাড়ের রাজনীতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। বিমল-বিনয় সংঘাতে উত্তাপ বাড়ছে পাহাড়ে। সেই উত্তাপে জল ডজালতে এগিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী, নবান্নে ডাক পড়েছে বিনয়-অনীতের। আজ ৩ নভেম্বর সেই বৈঠক। বৈঠকে যোগ দিতে গতকালই কলকাতার উদ্দেশ্যে উড়ে যান তিনি। সেখানে পা রেখেই বিমলকে তারা স্পষ্ট জানালেন, বিমল তাদের সিলেবাস নয়, পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখাই একমাত্র ফোকাস তাদের।

Advertisement

বিনয় তামাং সাফ জানিয়ে দেন, গত তিন বছর ধরে পাহাড়ে শান্তি বজায় রেখেছেন তাঁরা। বিমল গুরুং যদি পাহাড়ে যান তাহলে অশান্তি বাড়বে। পাহাড়, সমতল কোনও জায়গার মানুষই চান না বিমল গুরুংকে। সেই সঙ্গে বিনয় তামাংয়ের মন্তব্য, বিমল গুরুং হোন আর যেই হোন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।

Advertisement
Advertisement

উল্লেখ্য, ২১ অক্টোবর কলকাতায় আত্মপ্রকাশ করেন বিমল গুরুং। ঘোষণা করেন তৃণমূলকে সমর্থনের কথাও। তার পরদিন থেকেই পাহাড়ে বিমলের সমর্থনে তাঁর সমর্থকেরা সরব হতে থাকেন। পাশাপাশি বিমল বিরোধী সুরও গর্জে ওঠে। বিমল বিরোধী বিশাল মিছিল করে বিনয় তামাংদের যুব মোর্চা। কার্শিয়াঙে একই রকম মিছিল করে বিনয় তামাং, অনিত থাপাদের অনুগামীরা। বাদ জায়না মিরিকও। বিমল গুরুং গো ব্যাক স্লোগানে গর্জে ওঠে পাহাড়।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে যখন এমনই উত্তাপ বাড়ছে তখন বিনয়-অনীতদের বৈঠকে ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউএপিএ ধারা সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বিমল গুরুং তিন বছর ধরে ফেরার ছিলেন। হঠাত্‍ পঞ্চমীর বিকেলে কলকাতায় তাঁর আবির্ভাব হয়। প্রথমে সল্টলেকের গোর্খা ভবনে দেখা যায় গুরুংকে। সেখানে ঢুকতে বাধা পেয়ে সোজা চলে যান বিবাদী বাগে ললিত গ্রেট ইস্টার্নে। সন্ধেবেলা সেখানে সাংবাদিক বৈঠক করেন গুরুং। জানিয়ে দেন, বিজেপি তথা এনডিএ-এর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছেন তিনি। একুশে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানান। তৃণমূলও ঘটা করে স্বাগত জানায় গুরুংকে।

সেই থেকে পাহাড় রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে নয়া সমীকরণ। তবে কলকাতায় পা রেখেই বিমলের উদ্দেশ্যে বিনয়ের এমন কটাক্ষ, আর শুধু তাই নয়, কলকাতা যাওয়ার আগে বাগডোগরা বিমানবন্দরেও বিমলের উদ্দেশ্যে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের মতে, গুরুংয়ের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দিতেই বিনয়-,অনীতদের ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু নবান্নে সেই বার্তা দিলেও পাহাড়ে তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই। তবে আজকের এই বৈঠকে গুরুং থাকছেন না বলেই জানা গিয়েছে।