একই সময়ে গতবারের তুলনায় সংক্রমণ বৃদ্ধির হার এবছর বেশি: মন্ত্রিসভার সচিব

296
একই সময়ে গতবারের তুলনায় সংক্রমণ বৃদ্ধির হার এবছর বেশি: মন্ত্রিসভার সচিব 1

 বিশ্বজিৎ দাস: বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে মন্ত্রিসভার সচিব জানিয়েছেন,’এই সময়ে গতবারের তুলনায় সংক্রমণ বৃদ্ধির হার এবছর বেশি। মার্চ ২০২১-এ বৃদ্ধির হার রেকর্ড ৬.৮ শতাংশ। গতবছর জুনে রেকর্ড হার ছিল ৫.৫ শতাংশ। ২০২০-র সেপ্টেম্বরে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৯৭,০০০ কোভিড সংক্রমণ হয়েছে ভারতে, বর্তমানে সেই হার পৌঁছে গিয়েছে প্রতিদিন ৮১,০০০-এ।’

এই বছর মার্চ মাস থেকে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে উত্তরোত্তর বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এদিন বৈঠকে বসেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,” করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোও প্রতিকূলতার মধ্যে পড়ার আশঙ্কা থাকছে।”একইসঙ্গে এদিন তিনি মহারাষ্ট্রবাসীকে আরও একবার সংযত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আজ আরও একবার সবাইকে সংযত হওয়ার আর্জি জানাচ্ছি। আমাদের প্রত্যেকের এমন আচরণ যেন করোনা পাকাপাকিভাবে চলে গিয়েছে। বিয়ে, সভা সব কিছুই চলছে। আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।”

একই সময়ে গতবারের তুলনায় সংক্রমণ বৃদ্ধির হার এবছর বেশি: মন্ত্রিসভার সচিব 2

আগামী দিনে দৈনিক আড়াই লক্ষ আরটিপিআর পরীক্ষা করা লক্ষ্য সরকারের, তাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্ধব ঠাকরে বলেন, ভ্যাকসিন বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতার মতো কাজ করবে। কিন্তু এটা শুধু বৃষ্টি নয়, এটা একটা ঝড়। আমরা পরিকাঠামো আরও উন্নত করার চেষ্টা করছি। তাঁর প্রশ্ন কিন্তু চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী কোথায় পাব? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ শুধুমাত্র লকডাউনের সতর্কতার কথা বললাম। আাগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির অবনতি হলে সেক্ষেত্রে লকডাউন জারি করা হতে পারে।

মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ হাজার ৮২৭ জন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২০২ জনের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ জনকে টিকা দিয়েছে। গতকাল টিকা দেওয়া হয়েছে ৩ লক্ষ জনকে। টিকাকরণের পরেও কেন বাড়ছে সংক্রমণ? মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”টিকাকরণের হলেও অনেকেই মাস্ক পরছেন না। তাই বাড়ছে সংক্রমণ।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হলেন ৮৯ হাজার ১২৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭১৪ জনের। আর একদিনে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন মাত্র ৪৪ হাজার ২০২ জন। এই মুহূর্তে দেশে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯০৯। এই পরিসংখ্যান প্রতিদিনই একটু একটু চিন্তা বাড়িয়ে চলেছে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ১৭০০ মানুষ। করোনার বলি হয়েছেন ৪ জন।