বিজেপি কর্মীদের থানার ভেতরেই জামাই আদর করে মাংসভাত খাইয়ে বদলি হলেন আই.সি

122
বিজেপি কর্মীদের থানার ভেতরেই জামাই আদর করে মাংসভাত খাইয়ে বদলি হলেন আই.সি 1

মঙ্গলবার দুটি বিক্ষোভে দু’ধরনের চিত্র দেখেছে রাজ্যবাসী। কলকাতার হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে ঠাঁই না হওয়া দুই তরুনের মৃত্যুর প্রতিবাদে বাম যুব কর্মীদের বিক্ষোভে পুলিশের বেধড়ক মার আর অন্যদিকে হেমতাবাদের বিধায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিবাদে জলপাইগুড়িতে বিক্ষোভরত বিজেপি কর্মীদের থানায় নিয়ে এসে সরু চালের ভাত সহযোগে খাসির মাংস খাওয়ানো। বিক্ষোভরত মানুষদেরকে পুলিশ পেটাবে এতে খুব বেশি আশ্চর্য হয়না মানুষ কিন্তু থানার মধ্যে চেয়ার টেবিলে বসে, একজন আবার টেবিলের ওপরেই বসে কব্জি ডুবিয়ে ধৃত রাজনৈতিক কর্মীরা মাংস ভাত খাবে তাতে একটু আশ্চর্য হওয়ার আছে বৈকী। আশ্চর্য যেমন পুলিশের আচরনে তেমনই আশ্চর্য বিজেপি কর্মীদের আচরনেও। দলের বিধায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যু, তার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এসে কিনা খাসির মাংস ভাত!

আরও পড়ুন -  বংশ রক্ষার জন্যই চুরি সদ্যজাত অপরের পুত্র সন্তানকে, মেদিনীপুর মেডিক্যালে শিশু চুরিতে এমনই স্বীকারোক্তি ধৃত মহিলার

বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। সেই বিতর্কের আঁচ পৌঁছেছিল নবান্ন অবধি। তারই জেরে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালী থানার আইসি বদল করে দেওয়া হল। মঙ্গলবার তৈরি হওয়ার বিতর্কের জেরেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদল করে দেওয়া হল থানার আইসি’কে। যদিও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ করেছে বিজেপি।

মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া বিজেপি নেতা কর্মীদের মেনুতে ছিল
খাসির মাংস,গরম ভাত আর সঙ্গে ডাল ও সোয়াবিন। জলপাইগুড়ি কোতয়ালি আইসির ব্যবস্থাপনায়
এই ক’টিপদ দিয়ে জলপাইগুড়ি থানায় মধ্যাহ্ন ভোজন সেরেছিলেন ধৃত বিজেপি নেতারা। হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের খুনের জেরে মঙ্গলবার বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টা উত্তরবঙ্গ বনধের সমর্থনে পিকেটিং করেছিলেন ওই বিজেপির নেতা-কর্মীরা। সেখানে পুলিশকে শাসকদলের দালাল, ক্ষমতায় এলে দেখে নেওয়ার হুমকি-সহ বিভিন্ন বিশেষণে পুলিশের সমালোচনা করেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। বনধের সমর্থনে রাস্তায় মিছিল করার অভিযোগে নেতা-কর্মীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তারপর ওই সামান্য অতিথি আপ্যায়ন।
বিজেপির মজদুর মোর্চার জেলা সভাপতি মানস মুস্তাফি বলেন, ‘দুপুরে আমরা কী খাব, থানা থেকে জানতে চান পুলিশকর্মীরা। আমরা খাসির মাংস আর ভাতের কথা বলি। সময় মতো চলে আসে সেই খাবার। সঙ্গে ছিল ডাল, সোয়াবিনের তরকারি। খুব শান্তি করে খেয়েছি।’ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বাইরে ক্ষোভ থাকলেও খাওয়াতে খামতি রাখেনি বলে জানিয়েছিলেন মানস। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশ আধিকারিকরা।
তবে, থানার আইসি বদলি হয়ে যাওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিজেপি কর্মীদের জন্যে কেবল ডাল, ভাত, সোয়াবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। খাসির মাংসের ব্যবস্থা করেছিলেন বিজেপি কর্মীরাও। কিন্তু সেখানেও প্রশ্ন উঠছে, থানায় বসে ধৃতরা কি নিজেদের ব্যবস্থা করা খাওয়ার খেতে পারেন?
অবশ্য এই সামান্য হলেও বিজেপি নেতা কর্মীদের জামাই আদরে অন্য একটি মনস্তত্ত্বও কাজ করে থাকে এবং তা’হল পুলিশের ভাবনায় পালাবদলের নিশ্চয়তা ঢুকে পড়েছে। জলপাইগুড়ি আইসির মতই অনেক পুলিশকর্মীই ভাবতে শুরু করেছেন যে বর্তমানের সরকারের আয়ু শেষ হয়ে আসছে, হয়ত তাঁরা ভাবছেন ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। তাই কী এত জামাই আদর? প্রশ্নটা ঘুরছে।

বিজেপি কর্মীদের থানার ভেতরেই জামাই আদর করে মাংসভাত খাইয়ে বদলি হলেন আই.সি 2