ফাইনাল সেমিস্টার বাতিলের আবেদন পড়ুয়াদের, সোমবার পড়ুয়াদের কথা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

51

ওয়েব ডেস্ক : বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল সেমিস্টার নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। কিছুদিন আগেই ইউজিসি কমিশনের তরফে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ফাইনাল সেমিস্টার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছে। এবার মুখ খুললেন পড়ুয়ারা৷ ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফাইনাল সেমিস্টার বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন কয়েকজন পড়ুয়া। সোমবার বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ পড়ুয়াদের আর্জি শুনবেন।

চলতি মাসের শুরুতেই ইউজিসি কমিশনের তরফে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বাধ্যতামূলকভাবে ফাইনাল সেমিস্টার নেওয়ার যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। তা নিয়ে এর আগে জল ঘোলাও কম হয়নি৷ পশ্চিমবঙ্গ সহ পঞ্জাব, দিল্লি মতো রাজ্যগুকিতে এই মূহুর্তে করোনা পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে কোনোভাবে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ফলে দেশের ৫টি রাজ্য ইউজিসি-র সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে৷ এবার পড়ুয়াদের স্বার্থে ইউজিসি-র এই সিদ্ধান্ত খারিজের আর্জি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩১ জন ছাত্রছাত্রী। তাঁদের মধ্যে ১ জন পড়ুয়া ইতিমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

এবিষয়ে মোট ১৩ টি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৩১ জন পড়ুয়া শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন জানান, তাদের আর্জি, রাজ্যগুলিতে যেভাবে করোনা সংক্রমণ ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে তাতে এই মূহুর্তে পরীক্ষা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়৷ ফলে ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট কিংবা আগের ফলের ভিত্তিতে নম্বর হিসাব করে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে মার্কশিট দেওয়া হোক। পাশাপাশি তারা আরও আবেদন করেন, যে সমস্ত পড়ুয়ারা সেই নম্বরে সন্তুষ্ট হবেন না, সিবিএসই-র ধাঁচে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাঁদের জন্য পরে পরীক্ষার বন্দোবস্ত করা হোক।

আরও পড়ুন -  করনা আবহে পঙ্গপালের দাপট, খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কার মধ্যে বিমান দুর্ঘটনার সতর্কতা কেন্দ্রের

যদিও এবিষয়ে আগেই কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ও উন্নয়নমন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল জানিয়েছিলেন, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি খারাপ হলে পরীক্ষা এগিয়ে আনা বা পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই পরীক্ষা বাতিল করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ যে কোনও পরিস্থিতিতেই পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন পোখরিয়াল। রমেশ পোখরিয়াল বলেন, “কোনও অভিভাবক বা প্রতিষ্ঠানই চাইবেন না যে বিনা পরীক্ষায় পড়ুয়াদের পাশ করিয়ে দেওয়া হোক। পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্তে দেশের ৯০% অধ্যক্ষ সহমত প্রকাশ করেছেন।”

আরও পড়ুন -  করোনা চিকিৎসায় এখনও পরীক্ষার স্তরে প্লাজমা থেরাপি জানাল কেন্দ্র, ভুল প্রয়োগে বিপদও ঘটতে পারে

পাশাপাশি তিনি আরও জানান, পড়ুয়াদের উপর যাতে কোনোভাবেই সংক্রমণের প্রভাব না পড়ে সে কথা মাতগায় রেখেই ফাইনাল টার্মের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনার ছাপ বলতে তিনি যা বোঝাতে চেয়েছেন সেই ব্যাখ্যাও দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, যদি বিনা পরীক্ষায় ডিগ্রি পেয়ে যান পড়ুয়ারা, তাহলে ভবিষ্যতে বড় চাকরিতে গিয়ে তাঁদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হতে পারে। তাঁদের মার্কশিট বাঁকা চোখে দেখে বলা হতে পারে। বলা হতে পারে, “এরা তো করোনার সময়ের, বিনা পরীক্ষায় পাশ করা।” মন্ত্রীর কথায়, “এই জন্য চাই না, কোনও পড়ুয়ার ভবিষ্যতের উপর করোনার ছাপ না পড়ুক।”

ফাইনাল সেমিস্টার বাতিলের আবেদন পড়ুয়াদের, সোমবার পড়ুয়াদের কথা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট 1