স্কুলের অতীত খুঁড়ে দাঁতনের ইতিহাস চর্চায় নতুন উপাদান যোগ করলেন তরুণ গবেষক

326
স্কুলের অতীত খুঁড়ে দাঁতনের ইতিহাস চর্চায় নতুন উপাদান যোগ করলেন তরুণ গবেষক 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানা বাংলার ঐতিহ্যবাহী দাঁতন হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠা বর্ষ ১৯২৩ সাল বলেই সর্বজনবিদিত । কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছর ধরে নিরলস পরিশ্রম করে বিশিষ্ট শিক্ষক ও আঞ্চলিক ইতিহাসের নিষ্ঠাবান গবেষক সন্তু জানা রচনা করেছেন ‘ দাঁতনের ইতিহাসের আলোকে ঐতিহ্যের স্কুল বাড়ি : এক ঐতিহাসিক অনুসন্ধান ‘ । শতাধিক দুষ্প্রাপ্য দলিল , দস্তাবেজ , মানচিত্র , নথি ও আলোকচিত্র উদ্ধার করে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে ১৯২৩ নয় দাঁতন হাইস্কুলের রহস্যাবৃত প্রকৃত জন্ম লগ্নকাল হল ১৮৬৮ সাল এবং সেই সঙ্গে ব্রিটিশ যুগে দক্ষিণ – পশ্চিম মেদিনীপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্ত ইতিহাসটাই বদলে গেলো । মেদিনীপুর তথা বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে এই অমূল্য গবেষণা গ্রন্থ চিরকালীন স্থান লাভ করলো। তৎসহ সেকালের অর্থনৈতিক , সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তথা জমিদারদের অবদান , স্বাধীনতা সংগ্রাম , শিক্ষা ব্যবস্থায় মেদিনীপুর সিস্টেম প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে এযাবৎ কাল অবধি অপ্রকাশিত বহু তথ্য ও প্রায় ৩০০ টি আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটিতে ।
অন্যদিকে একটি লেখকের গবেষণা অনুসারে অবিশ্বাস্যকর ঘটনার উদ্রেক করা যেতে পারে । ভারতের স্বাধীনতা লাভের প্রায় ১২ বছর আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তৎকালীন অধিপতি রাজা ষষ্ঠ জর্জের অনুপ্রেরণায় রাজত্বের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে মেদিনীপুর জেলার এক দোর্দন্ডপ্রতাপ ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট মিস্টার এম. ও কার্টার সাহেব ওড়িশা সীমানায় অবস্থিত দক্ষিণ – পশ্চিম বাংলার দাঁতনের হাই – ইংলিশ স্কুলের ‘ সিলভার জুবিলী হোস্টেল ‘ নির্মাণের লক্ষ্যে তৎকালীন সময়ের হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রায় ১৫০০ টাকা অনুদান দিয়ে দিলেন সানন্দে ।স্কুলের অতীত খুঁড়ে দাঁতনের ইতিহাস চর্চায় নতুন উপাদান যোগ করলেন তরুণ গবেষক 2

আরও পড়ুন -  খড়গপুরের আশঙ্কা সত্যি করেই ফের এক গন্ডা পজিটিভ, শহরের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললেন স্বাস্থ্যকর্তা

এবং শুধু তাই নয় , ৫/ ৪/ ১৯৩৬ তারিখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে দাঁতনে এসে সসৈন্য – সপারিষদ জেলাশাসক সাহেব ঘটা করে প্রস্তর ফলক উন্মোচন করে একটি সুবৃহৎ এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির উদ্দেশ্যে নির্মিত ছাত্রাবাসটির দ্বারোদ্ঘটন করলেন । দেশের শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে ইংরেজদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু বাংলার একেবারে প্রান্তিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আজ থেকে ৮৫ বছর আগে এমন ঘটনা ঘটে গেছে কে জানতো । ইতিহাসে তো এই কথা কোথাও লেখা নেই। দাঁতন হাইস্কুলের ইতিহাসেও অনুচ্চারিত থেকে গিয়েছিল বহু বছর পূর্বে হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহাসিক নিদর্শনের কথা ।

স্কুলের অতীত খুঁড়ে দাঁতনের ইতিহাস চর্চায় নতুন উপাদান যোগ করলেন তরুণ গবেষক 3

তবে অবশেষে ৮৫ বছর পরে সেই হারিয়ে যাওয়া প্রস্তর ফলকটি উদ্ধার করে নতুন ইতিহাস তৈরী করেছেন দাঁতন থেকে প্রকাশিত
‘ দণ্ডভুক্তি ‘ পত্রিকার সম্পাদক তথা আঞ্চলিক ইতিহাসের গবেষক শ্রী সন্তু জানা । উদঘাটন করেছেন ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহ্যশালী দাঁতন হাইস্কুলের চিরকালীন জন্ম রহস্য । ৩৬০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থ প্রমাণ করেছে যে চিরকালীন বিশ্বাস্য ১৯২৩ সাল নয় , এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় এর জন্মলগ্নকাল হল ১৮৬৮ সাল । যেনো একটি প্রান্তিক বিদ্যালয়ের কক্ষ পথ ধরে সমগ্র দক্ষিণ – পশ্চিম সীমানা বাংলার ব্রিটিশ যুগের অনালোকিত ইতিহাস পরিক্রমণ। বিশেষজ্ঞদের অভিমত মেদিনীপুর জেলার আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে এটি একটি আকর গ্রন্থ ।
দাঁতন হাইস্কুলের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত দণ্ডভুক্তি বৈঠকে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রাক্তনী বিজন বান্ধব শাঁড়েশ্বরি , কটকের রেভেন্সা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা ড. রুমা সরকার সহ প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মন্মথ নাথ গোরায়, দাঁতন হাইস্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক সূর্য কান্তি নন্দ , বেল দা গঙ্গাধর একাডেমির প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল শিট , শিব শংকর সেনাপতি, সঞ্চালক অখিল বন্ধু মহাপাত্র , দাঁতন ভগবত চন্দ্র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অরবিন্দ দাস , মনোহর পুরের রাজা তীর্থঙ্কর রায় বীরবর , অরবিন্দ দাস , অতুল কৃষ্ণ রায়, তুষার কান্তি পায়রা, পূর্ণিমা মহান্টি প্রমুখ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব । ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতা থেকে বইটি উদ্বোধন করেন নদিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ও দাঁতন হাইস্কুলের প্রাক্তনী প্রায় ৯০ বছর বয়স্ক ড. নিমাই কুমার রায় মহাশয় এবং ব্যারাকপুরের গোপাল চন্দ্র মেমোরিয়াল কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপিকা ড . যুথিকা রায় ।