আছড়ে পড়ার মুখে করোনার তৃতীয় ঢেউ! রাজ্যবাসীকে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

129
আছড়ে পড়ার মুখে করোনার তৃতীয় ঢেউ! রাজ্যবাসীকে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: সমুদ্রে যাঁরা স্নান করেছেন তাঁরা জানেন কীভাবে একটা ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও একটা ঢেউ আছড়ে পড়ে। পরের ঢেউটা আরও বড়, আরও, আরও। এমনই অবস্থা এখন মহারাষ্ট্রের। দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কাতেই নাজেহাল মহারাষ্ট্র আর তারমধ্যেই খবর মিলেছে দ্রুত আছড়ে পড়তে চলেছে তৃতীয় ঢেউ! এমনই আশঙ্কা ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে
বলেছেন, কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে চলেছে রাজ্য কিন্তু আরও খারাপ অবস্থার স্বাক্ষী হতে চলেছেন রাজ্যবাসী। রাজ্যের এই ভয়াবহ আগত ভবিষ্যতের মধ্যেই মহারাষ্ট্রবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বর্তমানের একটি ঘটনা। ভ্যাকসিনের প্রবল সঙ্কট দেখা দেওয়ায় আজ, ৩০শে এপ্রিল থেকে তিনদিন টিকাকরণ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে মহারাষ্ট্র। এমনটাই জানা গেছে গ্রেটার মুম্বই পুরসভা সূত্রে।

আছড়ে পড়ার মুখে করোনার তৃতীয় ঢেউ! রাজ্যবাসীকে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী 2

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তোপে বলেছেন, জুলাই-আগস্টে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলেই বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে, অক্সিজেনে আত্মনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছে মহারাষ্ট্র। রাজ্যের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে মে মাসের শেষ দিকে সংক্রমণ গগনচুম্বি হয়ে যেতে চলেছে আর তার ওপর জুলাই কিংবা আগস্টে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়লে, তার সঙ্গে লড়াই করা প্রশাসনের পক্ষে সত্যিই কঠিন হয়ে উঠবে। এমন অবস্থায় ফের রাজ্যবাসীর কাছে তোপের আবেদন, আরও সতর্ক থাকুন, আরও সচেতন হোন সবাই।

আছড়ে পড়ার মুখে করোনার তৃতীয় ঢেউ! রাজ্যবাসীকে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী 3

ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজেশ তোপে। কোভিড মোকাবিলায় সবরকমভাবে প্রস্তুত থাকতে চাইছে মহারাষ্ট্র। হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেন, ওষুধের ঘাতটি পূরণেও তৎপর প্রশাসন। কিন্তু এরই মধ্যে ভাইরাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ভ্যাকসিনেরই অভাব দেখা দিয়েছে সে রাজ্যে। যে কারণে আজ অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত গোটা রাজ্যে টিকাকরণ প্রক্রিয়া বন্ধের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামিকাল থেকেই যেখানে দেশজুড়ে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে টিকাকরণ শুরু হতে চলেছে, সেখানে মহারাষ্ট্র সরকারের ঘোষণায় অশনি সংকেত দেখছেন রাজ্যবাসী।

এদিকে রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে, প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ করোনার বলি হচ্ছেন, সেখানে তিনদিন টিকাকরণ বন্ধ মহারাষ্ট্রের লড়াই আরও কঠিন করে তুলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারও কারও অভিমত আরও কঠোর ভাবে করোনা বিধি বলবৎ করুন সরকার কারন করোনা শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা ছাড়া এর থেকে মুক্তি নেই। রাস্তাঘাট, বাজার হাটে ভিড় কমাতে কঠোর হতে হবে প্রশাসনকে। প্রথম দফার লকডাউনে দেশের আর্থিক মেরুদন্ড ভেঙে গিয়েছে ফলে লকডাউন এড়িয়ে আর যা

অবশ্য শুধু মহারাষ্ট্র কেন? করোনার তৃতীয় ঢেউ যে দেশের সর্বত্রই আছড়ে পড়বে সেতো বলাই বাহুল্য। আর সর্বত্রই এই একই অভিজ্ঞতার স্বাক্ষ্য হতে হবে দেশবাসীকে। উচিত ছিল তার আগেই যদি দেশ জুড়ে টিকা করন শেষ করে দেওয়া কিন্তু বাস্তবে তা হওয়ার নয় বলেই মনে হচ্ছে। দ্বিতীয় উপায় প্রতিটি রাজ্য নিজের প্রয়োজন অনুসারে অক্সিজেন ভান্ডার ও হাসপাতালের শয্যাকে বৃদ্ধি শক্তিশালী করুক কারন কো-মর্বিডিটির পরেই বেশিরভাগ মৃত্যু হচ্ছে অক্সিজেন আর শয্যার অভাবে। তৃতীয় এবং সর্বাধিক কার্যকরী উপায় রয়েছে আমার আর আপনার হাতেই। মাস্ক পরুন, মাস্ক পরুন এবং মাস্ক পরুন।

 

Previous article২৪ ঘন্টায় সাড়ে ৩হাজার মৃত্যু নিয়ে দৈনিক সংক্রমন ৪ লক্ষ ছুঁতে যাচ্ছে ভারত! রাজ্যে একদিনেই মৃত্যু ৮৯, আক্রান্ত ১৭ হাজার ছাড়ালো
Next articleকেন্দ্রের কাছে ৩ কোটি করোনার ভ্যাকসিন চাইলো রাজ্য