লকডাউনেই ‘চড়ুইভাতি’র আয়োজনের অভিযোগ তৃনমূলের বিরুদ্ধে, বিক্ষোভ এলাকাবাসীর

375

ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে৷ ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন চলবে বলে ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই নির্দেশ মানছে না খোদ শাসকদলের কর্মীরাই। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের তরফে ১০ জনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ কিন্তু বাস্তবে সে কথা মানছে কে? লকডাউন, করোনা সংক্রমণ, স্বাস্থ্যবিধি সব শিকেয় তুলে বনভোজনে মেতেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ লাগোয়া বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্যে এমনই অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি এলাকার বাসিন্দাদের নজরে আসতেই তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

আরও পড়ুন -  ফাইনাল সেমিস্টারে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে না ২৪ ঘন্টা সময়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পদ্ধতি বদলের নির্দেশ ইউজিসির

করোনা সংক্রমণে ইতিমধ্যেই আতঙ্কিত বনগাঁবাসী। এমনিতেই প্রথম থেকেই রেড জোনে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা। দিন দিম আক্রান্তের সংখ্যা কমছে তো নাই বরং বাড়ছে৷ তার ওপর পরিযায়ী শ্রমিকেরা ঘরে ফেরার পর থেকে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁয়। ফলে সরকারি নির্দেশ অনুসারে লকডাউনের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য (পারমদন ফরেস্ট)। রবিবার দুপুরে বাগদা এলাকার একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওই বন্ধ অভয়ারণ্যের ভিতর ভিড় করতে দেখা যায়। যেখানে সরকার বারংবার ভিড় করতে মানা করছেন সেখানে এত লোক একসঙ্গে অভয়ারণ্যের ভিতর কি করছেন তা জানতে স্থানীয় বাসিন্দারা কৌতুহলবশত ভিতরে উঁকি মারতেই দেখেন সেখানে রীতিমতো বনভোজন চলছে।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্য পরিতোষ সাহা, অরূপ পাল-সহ শাসকদলের বহু নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের সিকি ভাগও মানা হচ্ছে না। এরপরই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় অভয়ারণ্যের মূল ফটকের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপিকর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

আরও পড়ুন -  নিরাপদ ও দ্রুত করোনা পরীক্ষার নমুনা গ্রহনে এক লপ্তে ৩২ কিয়স্ক বসাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর, প্রতিদিন ৬০০ নুমনা পরীক্ষার উদ্যোগ

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বনগাঁ থানার পুলিশ পৌঁছে কোনোভাবে স্থানীয়দের রোষের হাত থেকে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যান। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন শাসকদলের কর্মীরা। তাদের দাবি, তারা বনভোজনের উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি বরং আমফানে পারমদন ফরেস্টে প্রচুর গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেগুলিকে পুনরুদ্ধার ও নতুন করে বেশ কিছু বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই এদিন ফরেস্টের মধ্যেই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ, চূড়ান্ত মিথ্যে কথা বলছে শাসকদল৷ তারা আমফানের ত্রাণের টাকা ও কাটমানি দিয়ে এই পরিস্থিতির মধ্যেও বনভোজনে এসেছিল।

লকডাউনেই 'চড়ুইভাতি'র আয়োজনের অভিযোগ তৃনমূলের বিরুদ্ধে, বিক্ষোভ এলাকাবাসীর 1