থানায় ঢুকে পুলিশের সামনেই লাথি মেরে উল্টে দিলেন তৃনমূল নেতা!  ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

648
থানায় ঢুকে পুলিশের সামনেই লাথি মেরে উল্টে দিলেন তৃনমূল নেতা!  ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা 1

অশ্লেষা চৌধুরী: দলীয় কর্মীদের থানা থেকে ছাড়াতে এসে মেজাজ হারালেন তৃণমূল নেতা। পুলিশের সামনেই ফেলে দিলেন চেয়ার উল্টে। আর ডিজিটাল যুগে সেই ছবি মোবাইল বন্দী হওয়ার সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হতে সময় নেয় না খুব বেশি। আর সেই ভিডিও ঘিরে তুঙ্গ রাজনৈতিক তরজা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে উত্তর হাওড়া তৃণমূল সভাপতি তথা প্রাক্তন মেয়র পরিষদ গৌতম চৌধুরী স্থানীয় গোলাবাড়ি থানায় নিজের দলের ছেলেদের ছাড়াতে এসে মেজাজ হারিয়ে বসেন। এমনকি তিনি থানার চেয়ার উল্টে ফেলে দিচ্ছেন। সেই ছবি কেউ বা কারা মোবাইল বন্দি করে নেন। প্রায় দু মাস আগের এই ঘটনার ছবি এখন ভাইরাল।

জানা গিয়েছে, গোলাবাড়ি থানা এলাকার কালিতলায় গত অক্টোবর মাসে বিজেপির একটি সভায় হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে দুজন টিএমসি কর্মীকে গ্রেফতারও করে। তাদের ছাড়াতে এসেই মেজাজ হারান তৃণমূল নেতা। আর এই ঘটনা ঘিরেই ইতিমধ্যেই চড়তে শুরু করেছে রাজনৈতিক পারদ।

থানায় ঢুকে পুলিশের সামনেই লাথি মেরে উল্টে দিলেন তৃনমূল নেতা!  ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা 2

বিজেপির জেলা সভাপতি সুরজিৎ সাহা বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনার নতুন নয়, আগেও ঘটেছে। তাই মানুষ পুলিশ প্রশাসনের উপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। পুলিশ তৃণমূল নেতা বা কর্মী হলে চুপ করে থাকে আর বিজেপি কর্মী বা নেতা হলে মিথ্যা মামলা সাজায় । এখানে গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে।‘
অন্যদিকে গোটা বিষয় নিয়ে গৌতম চৌধুরী বলেন , ‘তৃণমূল দলে কর্মীরাই আমাদের সম্পদ , মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর প্রতিবাদ করায় সেদিন গ্রেফতার করা হয়েছিল বেশ কয়েকজনকে। তাদের ছাড়াতে গিয়ে অশান্তি হয়। ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা উত্তর হাওড়ায় ঘটলে আবারও অশান্তি হবে।‘

সম্প্রতি ১৪ই সেপ্টেম্বর সুন্দরবন কোস্টাল থানা থেকে দলীয় কর্মীদের ছাড়াতে এসে পুলিশের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ইট ছোঁড়া হয় পুলিশকে। প্রায় ২৪ জন পুলিশ জখম হন।
১৪ ই নভেম্বর ২০১৪, রাতে আলিপুর থানায় ঢুকে পুলিশকে মারধর করে তৃণমূল কর্মীরা, যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য রাজনীতি । প্রায় আধঘণ্টা ধরে আলিপুর থানায় রীতিমতো তাণ্ডব চালায় তৃণমূল কর্মীরা ৷ মারের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশকর্মীরা উর্দি পরা অবস্থাতেই থানা ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে যান ৷ কেউ কেউ মাথায় ফাইল চাপা দিয়ে টেবিলের নীচে আশ্রয় নেন ৷

ক্ষমতায় আসার পর কলকাতায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের থানা ভাঙচুরের ঘটনা নতুন কোনও ঘটনা নয়৷ এর আগে ২০১১ সালে তারাতলা থানা এবং ২০১২ সালে ভবানীপুর থানায় পুলিশকর্মীরা তৃণমূল কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। থানা ভাঙচুরের মতো ঘটনাও সেখানে ঘটেছিল৷ ভবানীপুর থানায় গণ্ডগোলের সময় আবার উপস্থিত ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

তবে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, তাঁর ওপর আবার ঘাসফুল শিবিরে জমা পড়ছে একের পর এক পদত্যাগ পত্র। দলের প্রতি ক্ষুন্ন হচ্ছেন অনেকেই। কেউ দল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তো কেউ কেউ পা বাড়িয়েই আছেন, শুধু সময়ের অপেক্ষায়। এমতাবস্থায় এই ধরণের ভাইরাল ভিডিও শাসকদলের জন্য মোটেও সুখকর নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।