খড়গপুরকে করোনা হাব বানিয়েছে তৃনমূল আর চামচামি করে গেছে পুলিশ প্রশাসন: কটাক্ষ দিলীপের, মস্তিষ্ক বিকৃত হয়েছে ওনার বললেন অজিত

61

নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃনমূল পরিচালিত সরকারের ল্যাংচা হাব, শিল্প হাবের অনুকরনে এবার করোনা হাব কথার ব্যবহার করে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন দিলীপ ঘোষ। গত কয়েকদিনে ফের করোনার বাড় বাড়ন্ত খড়গপুর শহরে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন খোদ বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান আর কোয়ারেন্টাইনে গেছেন খড়গপুর পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান তথা বর্তমান পৌর প্রশাসক, বিধায়ক প্রদীপ সরকার। কোয়ারেন্টাইনে মহকুমা শাসক আর অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। পাশাপাশি ২০জনেরও বেশি বিদায়ী কাউন্সিলর কোয়ারেন্টাইনে। খড়গপুর শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ডজন আর তার এক তৃতীয়াংশের বেশিই সক্রিয় করোনা রুগী। এমতাবস্থায় খড়গপুরকে করোনা হাব আর সেই হাবের নির্মাতা হিসাবে তৃনমূলকেই দায়ী করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি খড়গপুর শহর জুড়ে করোনা ছড়াতে তৃণমূলের নেতাদের পুলিশ এবং প্রশাসন সাহায্য করেছে বলে দাবি করলেন সাংসদ।

আরও পড়ুন -  বেপরোয়া টোটোর দাপট , নিষ্প্রভ দীপাবলি, জাতীয় সড়কে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় রায়গঞ্জে মৃত ৫

শুক্রবার খড়গপুর ও মেদিনীপুরে দুটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ মুখ্যমন্ত্রী নিজে করোনার নিয়ম নীতি না মেনে যেমন ইতস্তত ঘুরে বেড়িয়েছেন তেমনি তাঁর দেখে ঘুরে বেড়িয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। খড়গপুরের নেতারা কোনও নিয়ম মানেননি। যেখানে সেখানে ঘুরেছেন, মাস্ক পারেননি। আর যখন একজনের করোনা ধরা পড়েছে তখন বিধায়ক, মহকুমা শাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে পুরো প্রশাসন ঘরে ঢুকে বসে আছে আর পুর পরিষেবা হীন হয়ে পড়েছেন খড়গপুরের মানুষ।”

তৃণমূলের পাশাপাশি খড়গপুর শহরের পুলিশ ও প্রশাসনকেও এরজন্য দায়ী করে দিলীপ ঘোষ বলেন- ” খড়গপুরের বিধায়ক দিনের পর দিন নিয়ম না মেনে রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছেন ৷তার সাথে সেখানকার ওসি, আইসি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক নেতাদের চামচাগিরি করেছেন বলেই তাঁদেরও কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়েছে ৷ যে কারনে প্রশাসন ঠিক করে চলছেনা ৷ রাস্তা পরিষ্কার, আবর্জনা পরিষ্কার সব স্থগিত হয়ে পড়েছে৷ পুরো শহরের প্রশাসন ভেঙে পড়েছে ৷সবাইকে বিপদে ফেলে পালিয়েছেন ৷ ওখানকার চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলার, পুলিশ অফিসার সবার নামে এফআইআর করা উচিত ৷তারা লকডাউন থেকে দুরত্ব কিছুই মানেনি ৷ ওদের জন্য মানুষ ভুল পথে যাচ্ছে ৷ আর দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর করছে ওরা ৷এই অকর্মন্য নিকম্মা অসত নেতাদের চামচাগিরি করে সবাইকে বিপদে ফেলেছেন ৷ আমরা করোনা ফাইটারদের সম্মান জানালাম, এখানে টিএমসি নেতারা করোনা কেরিয়ার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ৷ রাজনীতি করতে গিয়ে রাজ্যকে বিরাট বিপদের সামনে ফেলে দিয়েছে ৷ ”

আরও পড়ুন -  আলোর উৎসবে ভেজা কাপড় থেকেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়েই আলোকিত হবে খড়গপুর আইআইটি

দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকে পাগলের প্রলাপ বলে তৃনমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন-“ওই ভদ্রলোকের মাথার সুস্থতা নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ রয়েছে ৷ মুখ খুললেই ভুল কথা ও লোকের খুঁত দেখে বেড়ায় ৷ এতদিন করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে আসেন নি ৷এখন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে এসেছেন ৷ পাগলের প্রলাপ বলছেন ৷ তৃনমূল ওদের মতো নয়, করোনার ভয়ে কলকাতার অফিসে বসে থাকেনি৷টিএমসি মানুষের সেবা করেছে ৷ মানুষকে সাহস দিতে প্রতি পাড়ায় গিয়েছে ৷ করোনা টিএমসি ছড়ায় নি ৷ ছড়িয়েছে কেন্দ্র সরকারের ভুল পদক্ষেপ ৷সেটাকেই চাপা দিতে মিথ্যা বলে চলেছেন ওরা ৷”

আরও পড়ুন -  ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকার জাল নোট সহ উত্তরবঙ্গে গ্রেপ্তার ১২

দিলীপ ঘোষ বা অজিত মাইতির রাজনৈতিক চাপান উতোর যাই হোকনা কেন করোনা নিয়ন্ত্রনের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেই গেছে শহরে শুধু নয় প্রশ্ন উঠেছে খোদ তৃণমূলের ভেতরেই। ফেসবুকেই নেতাদের কটাক্ষ করে পোষ্ট করতে দেখা গেছে দলীয় কর্মীদের। প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর স্বীকার করে নিয়েছেন, মুখে মাস্ক ব্যবহার না করে ভুল করেছেন তিনি।

খড়গপুরকে করোনা হাব বানিয়েছে তৃনমূল আর চামচামি করে গেছে পুলিশ প্রশাসন: কটাক্ষ দিলীপের, মস্তিষ্ক বিকৃত হয়েছে ওনার বললেন অজিত 1