৪৫ মিনিটের আলোচনাতেও গললনা বরফ! ব্যর্থ রবীন্দ্রনাথ, অটল মিহির গোস্বামী

357
Advertisement

অশ্লেষা চৌধুরী: মিহিরের মান ভাঙাতে আসরে রবি। সোজা গিয়ে হাজির হলেন ক্ষুদ্ধ বিধায়কের বাসভবনে। আঠারো বছর পরে সমস্ত অভিমান ভুলে অবশেষে কোচবিহার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সর্বোচ্চ স্থানীয় নেতৃত্ব মুখোমুখি হলেন। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর বাড়ীতে এলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। টানা ৪৫ মিনিট বৈঠকের পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, “কিছুদিন আগে বিজয়া সন্মেলনী করতে মিহির দার বাড়ীতে এসে ছিলাম। কিন্তু সেই সময় তার দেখা পাইনি। তাই আবার আজ এসেছি। দুজন যখন একসাথে বসে, তো সেই সময় রাজনৈতিক আলোচনা তো হবেই।”

Advertisement

বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভ ও বিদ্রোহের সুর শোনা যাচ্ছিল মিহির বাবুর গলায়। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের উত্তরবঙ্গের প্রতি উদাসীনতা, ক্রমাগত দলীয় নেতৃত্বদের মধ্যে গোষ্ঠী তৈরি করে কোন দল সৃষ্টি করা এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ইত্যাদি ছিল মূল বিষয়। এদিন এই সমস্ত বিষয়ে ক্ষুব্ধ বিধায়ককে পুনরায় দলের প্রতি আগের মনোভাব ঘুরিয়ে আনতেই কি গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ? দলে কি ফিরছেন বিধায়ক? উঠছে নানান প্রশ্ন।

Advertisement
Advertisement

প্রসঙ্গত, কোচবিহার জেলায় তৃণমূল দলের নতুন জেলা ও ব্লক কমিটির তালিকা প্রকাশের পরই কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী চাইলে বিধায়কের পদও তিনি ছেড়ে দিতে পারেন পারেন বলেও জানিয়েছিলেন মিহির বাবু। তারপর থেকে দলের কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি বিধায়ককে। দলীয় অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দলীয় পতাকা ও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি।

শুধু এখানেই শেষ নয়, একাধিক ইস্যুতে কখনও দলের বিরুদ্ধে আবার কখনও ঠিকাদারে নাম নিয়ে বি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি তোপ দেগেছেন মিহির বাবু। ক্রমশই দল বদল নিয়ে উঠছিল চাপা গুঞ্জন। চারিদিকে চলছিল জল্পনা। সেই জল্পনার আগুনে ঘি পড়ে, যখন কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক তৃণমূলের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর সাথে দেখা করতে তাঁর বাড়ীতে আসেন। যদিও একে বিজয়া সম্মেলনীর জন্য সৌজন্যতা মুলক সাক্ষাৎকার বলেই দাবী করেন উভয়ে। এর সাথে রাজনৈতিক কোন যোগ নেই বলেই স্পষ্ট জানান তারা।

এই পরিস্থিতিতে গত ৩০ অক্টোবর বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়ীতে গিয়েছিলেন রাজ্য সরকারের দুজন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও বিনয় কৃষ্ণ বর্মন। তবে, মিহির বাবুকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি। জানানো হয়েছি,ল তিনি তাঁর দিদির বাড়ী আলিপুরদুয়ারে গিয়েছেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও পাওয়া যায়নি তাঁকে। এই নিয়ে জেলায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কারন, তার একদিন আগেই কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিকের সঙ্গে বাড়ীতেই সাক্ষাৎ করেছিলেন মিহির গোস্বামী। এই ঘটনা ঘিরেও বেশ শোরগোল পড়ে যায় জেলায়।

এরপর গত সোমবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ফের সুর চড়িয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এরপর আজ সকাল হতেই বিধায়ক মিহির গোস্বামীর বাড়ীতে ছুটলেন তৃনমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এদিন দুজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে বিধায়ক মিহির গোস্বামী জানান, “রবির সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের জন্যই আজ তিনি আমার বাড়ীতে এসেছেন এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “দলে আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাই আমি অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করছি।”
তবে যেভাবে একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ করে যাচ্ছেন মিহির বাবু। আর আজকের বৈঠকের পর তাঁর যে প্রতিক্রিয়া তিনি দিলেন, তাতে তিনি যে আর তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরবেন না তা একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।