উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহী বিধায়কের মুখেও শুভেন্দুর নাম! তাহলে কী তাঁরই হাত ধরে উত্তর বিজয়ে মন্ত্রী

400
উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহী বিধায়কের মুখেও শুভেন্দুর নাম! তাহলে কী তাঁরই হাত ধরে উত্তর বিজয়ে মন্ত্রী 1
উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহী বিধায়কের মুখেও শুভেন্দুর নাম! তাহলে কী তাঁরই হাত ধরে উত্তর বিজয়ে মন্ত্রী 2

অশ্লেষা চৌধুরী: দক্ষিণের পর উত্তরবঙ্গ জুড়ে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি সহ ফ্লেক্স ধন্দে ফেলেছে তৃনমূল নেতৃত্বকে। ফ্লেক্স পড়েছে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডুয়ার্সের কিছু জায়গায়। প্রশ্ন উঠেছিল কার হাত ধরে কাঁথি থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দুরে হিমালয়ের পাদদেশে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন পরিবেশ মন্ত্রী। বড় মাথাটি কে বা কারা? উত্তর এখনও মেলেনি ঠিকই তবে হঠাৎ করেই উত্তরের বিদ্রোহী তৃনমুল বিধায়ক মিহির গোস্বামীর কিছু কথা যেন ইঙ্গিত দিয়েছে কিছু বিষয়ের। অন্ততঃ এটুকু বোঝা গেছে উত্তরবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর অনুরাগী কিছু কম নেই।

একটানা ৯ দিন আত্মগোপনের পর নিজের বিধানসভার দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে দেখা গেল কোচবিহার দক্ষিণ বিধান সভার বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে। আর প্রকাশ্যে আসতেই ফের বিস্ফোরক মিহির, “দল, রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও অধিকারী পরিবারের সঙ্গে সুমধুর সম্পর্ক থাকবে।” সাংবাদিক বৈঠকে এমনই মন্তব্য করলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। জানান, অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা। রাজ্য-রাজনীতির এই চাপানতরের মাঝে বিধায়কের এই মন্তব্যে উঁকি দিচ্ছে নানান প্রশ্ন।

উত্তরবঙ্গের বিদ্রোহী বিধায়কের মুখেও শুভেন্দুর নাম! তাহলে কী তাঁরই হাত ধরে উত্তর বিজয়ে মন্ত্রী 3

সম্প্রতি উদয়ন, দলের পঞ্চায়েতদের ৬ মাসের জন্যে মানুষের খাবার মানুষের মুখে তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এই নিয়ে তীব্র ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন মিহির গোস্বামী। সব দায়িত্ব কর্তব্য থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। আজ জানালেন আগামীতে সিদ্ধান্ত নেবেন, কি করবেন। সোমবার দুপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের কার্যালয়ে বসে সাংবাদিকদের সামনে দলের বিধায়ক ও সাংসদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি যখন দেখলাম এক বিধায়ক বলছে, যা খেয়েছ খেয়েছ এখন ৬ মাস না খেয়ে কাজ করলে পরে আবার অনেক খাওয়ার সুযোগ পাবে, তেমনই এক সাংসদকে বলতে শুনি তিনি মাইক নিয়ে বলছেন যা নিয়েছে তা দলীয় ফান্ডে ৭৫ শতাংশ দিন। কোথায় কে কি করছেন সব আমাদের নজরে আছে। এই সব কথা বলে যারা কর্মীদের ছোট করছেন সেই সমস্ত বিধায়ক ও সাংসদদের বলবো কর্মীদের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের সততার দিকে আঙুল তুলে দেখুন। এই সমস্ত কথা আমাকে ব্যথিত করে। আমি এই নয় দিন নিজের মধ্যে নিজেকে খোঁজার চেষ্টা করলাম। বর্তমান রাজনীতিতে কোন কাজের জন্য উৎকোচ নেওয়া একটি নিয়ম হয়ে গেছে। আমি মনে করছি নিজেই নিজের ঘরে অপ্রাসঙ্গিক। তাই নিজেকে অনেক দিন আগেই তৃণমূলের সমস্ত বিষয় থেকে গুটিয়ে নিয়েছি।“

সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর নামে প্ল্যাকার্ড ও পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে উত্তর ও দক্ষিণের জেলাগুলো। সেই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন উঠছে, সে প্রসঙ্গে মিহির বাবু বলেন, “শুভেন্দু অনেক বড় মাপের নেতা। তাই ওকে যা মানায়, আমাকে তা মানায় না। তবে আমি আমার মতো করে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করব।“ এদিন তিনি আরও বলেন, “রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও অধিকারী পরিবারের সঙ্গে থাকবে। ওদের সঙ্গে আমার ৪০ বছরের সম্পর্ক। শুভেন্দু অধিকারীর বাবা আমার পিতৃসম।“

এদিন দলবদল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ফের মিহির বাবু জানান, এখনও পর্যন্ত তাঁর তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে তাঁর দলত্যাগ নিয়ে যে জল্পনা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এক রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়ে অন্য দলের কারও সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করা অন্যায় নয়। এটা অত্যন্ত সাধারণ বিষয়।”

প্রসঙ্গত, জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর গত ৩ রা অক্টোবর কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় কার্যালয়ে নিজের সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়েছিলেন। তবে এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তার গলায় তৃণমূলের নেতা-নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সুর যেমন স্পষ্ট ছিল, তেমনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ যদি তাকে ডেকে পাঠান তাহলে তার সাথে দেখা করতে যাবেন বলেও তিনি জানান। তার অব্যহতির পর অনেক নেতা কর্মীদের দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যায়। সেই বিষয়ে তিনি বলেন, “বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধার কেউ ছিল না। আমি সেই কাজটা করেছি।” তাহলে কী দক্ষিনে যে ঘন্টা শুভেন্দু বাঁধছেন বলে মনে হয় উত্তরে সেই কাজটা মিহিরদের মতই আরও অনেকে করে চলেছেন শুভেন্দুর হয়ে?