শুভেন্দু ‘ভাইরাস’ বিদায়! ঘাসফুল শিবিরে, উচ্চস্বরে স্পিকার বাজিয়ে চলল তুমুল নাচ

685
শুভেন্দু 'ভাইরাস' বিদায়!  ঘাসফুল শিবিরে, উচ্চস্বরে স্পিকার বাজিয়ে চলল তুমুল নাচ 1

অশ্লেষা চৌধুরী: ভাইরাস বিদায় হয়েছে, সেই খুশিতে আত্মহারা ঘাস্ফুল শিবির, রীতিমত ডিজে বাজিয়ে চলল উদ্যাম নাচ, নেতৃত্বে মদন মিত্র।
শনিবার মেদিনীপুরে শাহী সভায় সমস্ত জল্পনা সত্যি করে অমিত শাহের হাত ধরে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন সদ্য দলত্যাগী তৃণমূল বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তার সাথেই আরও এক ঝাঁক নেতাও নাম লিখিয়েছেন পদ্ম শিবিরে। আর শুভেন্দুর দলবদল নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শুভেন্দুর এই আচরণের জন্য জোড়া ফুলের অনেকেই তাঁকে নিশানা করেছেন।
কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেল কামারহাটিতে। বিট রোডের পাশে উচ্চ স্বরে স্পিকার বাজিয়ে নাচতে দেখা যায় তৃণমূল কর্মীদের। সামনে একটি গাড়িতে ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক মদন মিত্র।

শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদান করায় রীতিমত উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায় তৃণমূলকর্মীদের। শনিবার সন্ধ্যায় প্রাক্তন বিধায়ক মদন মিত্রের নেতৃত্বে কামারহাটিতে হয় এই উল্লাস। সেখানে মদন মিত্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘দল থেকে ভাইরাস বিদায় হয়েছে।‘ উল্লাস-উজ্জাপনের কারণ জানতে চাইলে মদন বাবু বলেন, ‘আজ দল ভাইরাস ও দুর্নীতিমুক্ত হল হল। এতে আমরা খুশি। আসন্ন নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতবে তৃণমূল।’

শুভেন্দু 'ভাইরাস' বিদায়!  ঘাসফুল শিবিরে, উচ্চস্বরে স্পিকার বাজিয়ে চলল তুমুল নাচ 2

শনিবার মেদিনীপুরে শাহী সভামঞ্চে বিজেপিতে যোগদান করেন তৃণমূল সরকারের সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গেরুয়া পতাকা হাতে তুলেই অমিত শাহকে আন-বান-শান বলে অভিবাদন জানান। তারপরেই পুরোনো দলের বিরুদ্ধে একের পর এক ইস্যু ধরে ধরে তোপ দাগেন শুভেন্দু। তাঁর গলায় শোনা যায় ভাইপো হঠাও স্লোগান। একপ্রকার তাচ্ছিল্যের সুরেই তিনি বলেন, ‘আমি নিজের মায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি? কে আমার মা? আমার জন্মদাত্রী মা গায়ত্রী অধিকারী, অন্য কেউ নয়। মা বলতে হলে ভারতমাতাকে বলব, অন্য কাউকে নয়।‘

তিনি দাবী করেন, এই বাংলায় বিজেপিরই সরকার হবে। নরেন্দ্র মোদীকে দায়িত্ব দিতে হবে, কাল থেকেই কাজ শুরু করব। দেশ বাঁচাও, তোলাবাজ ভাইপো হটাও। এদিন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী মাতব্বরি করতে বিজেপিতে আসেনি, আপনাদের ওপর খবরদারি করবে না শুভেন্দু অধিকারী। দল যা নির্দেশ দেবে তাই করব, ‘পতাকা লাগাতে বললে লাগাব,’ দেওয়াল লিখন করতে বললে তাই করব।‘ এর আগে অবশ্য তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠিও দিয়েছেন শুভেন্দু। ওই খোলা চিঠিতে শুভেন্দু লিখেছেন, তৃণমূলের দলটা ভিতর থেকে পচে গিয়েছে। অসাচ্ছন্দ্যে ভরে গিয়েছে। যে দলে সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছি, সেই পরিস্থিতি আর নেই।‘

এদিন শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগদানে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ফিরহাদ, অভিষেক সকলেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তাঁকে। দলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সাড়ে ন’বছর ক্ষমতা ভোগ করে ভোটের আগে মনে হয়েছে তৃণমূল কপচে গিয়েছে? শুভেন্দুকে বিশ্বাসঘাতক বলেও কটাক্ষ করেছেন একাধিক তৃণমূল নেতা। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চমক দিয়েছেন মদন মিত্র। ভাইরাস বিদায় হয়েছে বলে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন তিনি।