রাজীবকে ঢাল করেই শুভেন্দুর সভার দিনেই হঠাৎ হলদিয়াতে মহামিছিল ও সমাবেশের ডাক দিল যুব তৃনমূল

1621
রাজীবকে ঢাল করেই শুভেন্দুর সভার দিনেই হঠাৎ হলদিয়াতে মহামিছিল ও সমাবেশের ডাক দিল যুব তৃনমূল 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দুর মতই রাজীব ব্যানার্জীও একটি বির্তকিত নাম। তাঁকে ঘিরেও জল্পনা রয়েছে যথেষ্ট। একটা অংশ মনে করেন শুভেন্দু দল ছাড়লে দল ছাড়তে পারেন মন্ত্রী রাজীৱ ব্যানার্জীও। সেই রাজীব ব্যানার্জীকে সামনে রেখেই একরাতের নোটিশে শুভেন্দুর পাল্টা সভা করতে চলেছে তৃনমূল কংগ্রেস। ২৯শে নভেম্বর, রবিবার মহিষাদলে একটি স্মরণসভায় উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর এটাই তাঁর প্রকাশ্য সভা যে সভার ঘোষণা তিনি করেছিলেন ১৬দিন আগে ১৩ই নভেম্বর। ওই দিনই প্রয়াত হন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী রঞ্জিত কুমার বড়াল। প্রায়ত বড়ালের প্রতি শোক প্রকাশ করতে সেদিন মহিষাদলে স্বাধীনতা সংগ্রামীর বাড়ি গিয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী। সেখানেই ঘোষনা করেন এই স্মরণসভার কথা।

এর আগে নন্দীগ্রাম, নিমতৌড়ি, রামনগর ও খেজুরিতে একের পর এক সভা করে গেছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান জানার জন্য প্রতিটি সভাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ যার মধ্যে নন্দীগ্রামের সভার পাল্টা সভা করেছিল তৃনমূল, নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই। এবার মহিষাদলেরও পাল্টা সমাবেশ ও সভা করার উদ্যোগ নিল তৃনমুল কংগ্রেস। এই সমাবেশে মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জীর পাশাপাশি থাকছেন মন্ত্রী সুজিত বসুও। স্বাভাবিক ভাবেই রবিবারের দুই সভার দিকে তাকিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল।

রাজীবকে ঢাল করেই শুভেন্দুর সভার দিনেই হঠাৎ হলদিয়াতে মহামিছিল ও সমাবেশের ডাক দিল যুব তৃনমূল 2

অন্য সভা গুলির চেয়ে মহিষাদলের সভার পার্থক্য এটাই যে শুভেন্দু এই সভার আগে মন্ত্রীত্ব এবং সরকারের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, সরকারি নিরাপত্তা ছেড়েছেন। রামনগরের সভা থেকে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘ মূখ্যমন্ত্রী আমাকে তাড়াননি, আমিও মন্ত্রীত্ব ছাড়িনি। পদে থেকে কোনও সমালোচনা করা যায়না।’ প্রশ্ন এটাই তা’হলে পদ ছাড়ার পর মহিষাদলের সভায় কী তিনি কিছু বলবেন? যদিও সম্ভবনা কম কারন শুভেন্দু এর আগেও বলেছেন অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাজনীতির কথা বলবেননা। মহিষাদলের সভা শুধুমাত্র অরাজনৈতিক নয়, এটি একটি স্মরণসভাও বটে। ফলে এই সভায় তিনি তেমন কিছু বলবেন বলে মনে হয়না। তবে হয়ত কিছু ইঙ্গিত দিতে পারেন। আর সেই ইঙ্গিতের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া যাতে পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি থেকে দেওয়া যায় তারজন্যই কী রাতারাতি মহিষাদল থেকে ৩০কিলোমিটার দুরে হলদিয়াতে মহামিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে যুব তৃনমূল?

শুভেন্দুর সভা বেলা ৩টা নাগাদ অন্যদিকে হলদিয়াতে যুব তৃণমূলের মহা মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে দুপুর আড়াইটায়। হলদিয়ার সিটি সেন্টার থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পূর্বে কদমতলা মোড় থেকে শুরু হবে যুব তৃণমূলের মহামিছিল যা আসবে সিটি সেন্টারে। সেখানে সোনারতরি কমপ্লেক্সে সভা। উপস্থিত থাকবেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ও বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জী যিনি অনেকটাই শুভেন্দু পথের পথিক বলে পরিচিত ছিলেন।

এই সভা বা মহামিছিল শুধুমাত্র মহিষাদলের পাল্টা এমনটাই নয় পাশাপাশি শুভেন্দুর নেতৃত্বে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল জুড়ে যে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম হয়েছিল তাকেও চ্যালেঞ্জ জানাবে এই কর্মসূচি। অনেকের মতে মিছিলের পথ তাই হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের পাশ দিয়েই করা হয়েছে যেখানকার চেয়ারম্যান পদটিও ৭২ঘন্টা আগে ছেড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে মহিষাদলেও জোর প্রস্তুতি চলছে শুভেন্দু অনুগামীদের। ব্যাপকতম সমাবেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর মাত্র কয়েকঘন্টার ব্যবধানে এই দুই কর্মসূচিকে ঘিরে টানটান উত্তেজনায় শাসকদল। এখন দেখার নন্দীগ্রামের শুভেন্দুর সভা ও পাল্টা ফিরহাদ হাকিমের সভার মত পারস্পরিক কিছু বৈরী উক্তির সম্ভবনা সৃষ্টি হয় কিনা।