সঙ্গে রুকস্যাক, ওড়িশা ভ্রমন-৫, মীর হাকিমুল আলি

228
Advertisement

ওড়িশা ভ্ৰমণ-৫                                                                           মীর হাকিমুল আলিধবলগিরি ও বৌদ্ধ শান্তি স্তুপ

Advertisement

কোনার্ক সূর্য মন্দির সংগ্রহশালা থেকে বেরিয়ে বাসে চেপে বসলাম l গাইড বললেন এবারের স্পট ধাওলী শান্তি স্তূপ l বন্ধুরা সবাই গল্প করতে করতে জানালা দিয়ে বাইরের সৌন্দর্য্য গিলতে গিলতে চললাম আমাদের গন্তব্যের দিকে l ঘন্টা খানেক পর বাস থামলো l বুঝলাম এসে গেছি l সামনে আরো বাস দাঁড়িয়ে সারি সারি l তাই আমরা একটু দূরেই নামলাম l হেঁটে হেঁটে কিছুটা যাওয়ার পর দেখতে পেলাম একটা গেট এর মতো করা আছে আর কয়েকটা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে এরকম জায়গা l আমরা সিঁড়ি বেয়ে উঠে দেখি একটা বিশাল অশোক স্তম্ভ l খুব লম্বা l সম্ভবত এটা কাঠের তৈরী l অনেকেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন l আমরাও দেখলাম খুব সুন্দর নকশা করা আছে l অনেক দিনের পুরানো এই স্তম্ভ টি l
আমরা সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম দেখি দুই দিকে বুদ্ধ দেবের মূর্তি বেশ কয়েকটা l সামনেই খুব সুন্দর বাঁধানো রাস্তা l যা বেঁকে বেঁকে চলে গেছে পাহাড়ের উঁচুতে l আমাদের কে অটো ওয়ালারা বার বার করে বলতে লাগলো খুব ঢালু রাস্তা, অনেক কষ্ট হবে, যেতে পারবেন না l আসুন অটোতে করে পৌঁছে দেবো l আমরা ভাড়া জিজ্ঞেস করতে তারা যা ভাড়া বলছিলো তা সত্যিই বেশি l দরকার নেই আমরা হেঁটেই উঠবো l এই বলে হাঁটতে শুরু করলাম l বেশ ঢালু রাস্তা হেঁটেই চলেছি আর একটু একটু করে উঁচুতে উঠছি l উঠতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো বটে কিন্তু আমরা সেই কষ্ট উড়িয়ে দিয়ে চলতে শুরু করলাম l একদম ওপরে উঠে দেখলাম সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার রাস্তা l উঠে দেখি একটি মন্দির l জুতো খুলে রেখে দিয়ে আমরা মন্দির প্রাঙ্গনে উঠলাম l গাইডের কাছে জানতে পারলাম মন্দিরটির নাম ধবলেশ্বর মন্দির l মন্দিরটি খুব প্রাচীন, এটি পুনরায় সংস্কার করা হয় 1972 সালে l হিন্দু, বৌদ্ধ সবাই এখানে আসেন l মান্দিদের সামনেই দুই দিকে দুটো সিংহের মূর্তি l বহু মানুষ লাইন দিয়ে পুজো দিচ্ছে l আমরা ছবি তুলে এগিয়ে চললাম l আসে পাশে কতকগুলো দোকান l সেগুলো পেরিয়ে গিয়ে আমরা আমাদের কাঙ্খিত বৌদ্ধ স্তূপটি দেখতে পেলাম l সাদা হলুদ রঙ করা এই বৌদ্ধ স্তূপটি অনেক নীচে থেকেও দেখা যায় l
গাইডের মুখ থেকে যা শুনলাম এই স্তূপ সম্পর্কে সেগুলো একটু বলি l ধবলগিরির এই বৌদ্ধ স্তূপ টি শান্তি প্যাগোডা নামেও পরিচিত l ভুবনেশ্বর থেকে এটি 7কিমি দূরে অবস্থিত l পুরী থেকে ভুবনেশ্বর যেতে গেলে পথে এটি পড়বে l সামনাসামনি আছে স্টেশন l
কলিঙ্গ যুদ্ধে বহু মানুষের প্রাণ হানি ঘটে l সম্রাট অশোক এতে খুবই কষ্ট পান l তিনি হিংসার পথ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন l মর্মাহত অশোক বুদ্ধদেবের শরণাপন্ন হন l তিনি বৌদ্ধ ধৰ্ম গ্রহণ করেন এবং শান্তির পথ অবলম্বন করেন l ধবলগিরি হল কলিঙ্গ যুদ্ধের শেষ সীমানা, তাই তিনি সেখানে এই শান্তি স্তূপটি স্থাপন করেন l এটি হয়ে ওঠে একটি ধর্মীয় স্থান l এখানে অসংখ্য বৌদ্ধ বিগ্রহ, স্তূপ, স্তম্ভ দেখাযায় l
এটি একটি গোম্বুজাকৃতি স্তূপ l এখানে বুদ্ধদেবের পায়ের চিহ্ন আছে l সম্রাট অশোক বুদ্ধদেবের পায়ের কাছে তাঁর তরবারি উৎসর্গ করছেন আর যুদ্ধের কথা মন থেকে মুছে ফেলছেন এরকম চিত্র এখানে আছে l কিন্তু আমরা দেখিনি সেটা l এখানে একটি মনাস্ট্রি দেখা যায়, নাম সাধ্বারমা বিহার মনাস্ট্রি l
এই স্তুপের ওপর থেকে আমরা নীচের গ্রাম শহর দেখতে পাচ্ছিলাম l খুব লাগছিলো চারদিক l
আমদের ফিরতে হবে এবার l আমরা আবার একই রাস্তা বেয়ে নামতে শুরু করলাম l
(পরের পর্ব….. ক্রমশ )

Advertisement
Advertisement