ফের সেই ডেবরাতেই উদ্ধার আদিবাসী রমণীর দেহ! রাতভর ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে দাবি করে পথ অবরোধ

2010
ফের সেই ডেবরাতেই উদ্ধার আদিবাসী রমণীর দেহ! রাতভর ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে দাবি করে পথ অবরোধ 1

শশাঙ্ক প্রধান: আবারও সেই ডেবরাতেই মিলল এক আদিবাসী গৃহবধূর দেহ, এবারও অভিযোগ উঠল ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই মহিলাকে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তুলে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে রাজ্য সড়ক ঘিরে। রবিবার সাত সকালে ওই মহিলার অবিন্যস্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা থানার বারুনিয়া এবং ইসলামপুর গ্রাম। দলে দলে স্থানীয় বাসিন্দারা জমায়েত হয়েছেন ডেবরা থেকে সবং যাওয়ার রাজ্য সড়কের ওপর গোদা বাজার এলাকায়। সেখানেই শুরু হয়েছে পথ অবরোধ। ফের সেই ডেবরাতেই উদ্ধার আদিবাসী রমণীর দেহ! রাতভর ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে দাবি করে পথ অবরোধ 2

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ডেবরা থানা এলাকার ১০/১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪২বছরের ওই মহিলার বাড়ি বারুনিয়া গ্রামে। বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দুরে ইসলামপুর এলাকার একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই গৃহবধূর দেহ। সাত সকালে রাস্তার পাশে একটি লেডিজ সাইকেল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দাদের। এদিক ওদিক তাকাতেই তাঁরা ঝোপের মধ্যে ওই মহিলার দেহ দেখতে পান। এরপর তারা খবর দেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে।

ফের সেই ডেবরাতেই উদ্ধার আদিবাসী রমণীর দেহ! রাতভর ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে দাবি করে পথ অবরোধ 3

তাঁর মারফৎ খবর পেয়ে ছুটে আসে ডেবরা থানার পুলিশ। সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করে জায়গাটি ঘিরে দিয়ে যায়।বারুনিয়া গ্রামের ওই মহিলার দেওর জানিয়েছে, ‘গতকাল সন্ধ্যে সাড়ে ৬টা নাগাদ একটি ফোন আসে বৌদির মোবাইলে। তারপরই বৌদি বেরিয়ে যায় যায় সাইকেল নিয়ে। এরপর বৌদি বাড়ি ফেরেনি। আজ সকালবেলায় ইসলামপুরের বাসিন্দারা ফোন করে জানান যে বৌদির মৃতদেহ পাওয়া গেছে।’

মহিলার দেওর আরও জানিয়েছেন, ‘আমার দাদা পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন। বৌদিই সংসার চালাত। কখনো রাজমিস্ত্রির যোগানদার, কখনও চাষের কাজ যখন যা পেত করত। পরিবারটি এতই গরিব যে দাদার ২ নাবালক ছেলেকেই কাজ করতে হত। এমতাবস্থায় আমার বৌদিকেই সবটা করতে হত। ফলে যখন তখন তাঁকে বাইরে যেতেই হত। এই পরিস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যায় যখন ফোন পেয়ে বৌদি বেরিয়ে যান আমরা কিছুই সন্দেহ করিনি।’

বারুনিয়া গ্রামের এক গৃহবধূ ঝর্না দেবনাথ জানিয়েছেন, “এত দরিদ্র পরিবার হওয়া স্বত্ত্বেও ওই মহিলার কোনোও খারাপ সঙ্গ নজরে আসেনি। সংসার চালাতে ২টি বাচ্চাকে পর্যন্ত কাজে যেতে হয়েছে কিন্তু নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেননি। গতকাল সন্ধ্যার সময় উনি পাড়ার টিউকলে জল নিতে এসেছিলেন। আমার সঙ্গে কথাও হয়। তারপর কখন ফোন পেয়ে বেরিয়ে গেছিল জানিনা। আজ সকালে শুনি এই ঘটনা। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। দোষী গ্রেপ্তার না হলে এই ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কাল আমার সঙ্গে, আমার মেয়ের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটতে পারে।”

বারুনিয়া থেকে ঘটনাস্থলে উঠে এসেছেন পড়শি মহিলারা। রাস্তা থেকে বেশ কিছুটা দুরে একটি ঝোপ জঙ্গল, যেখানে মহিলার মৃতদেহ পড়েছিল তা দেখে ক্ষুব্ধ মহিলারা বলেন, ‘রাস্তা থেকে এতদুরে এক মহিলা জঙ্গলের মধ্যে আসবে কেন যদি তাকে জোর করে না আনা হয়?’ এরপরই শুরু হয় পথ অবরোধ। পথ অবরোধে সামিল মহিলা পুরুষরা দাবি করেন, একের পর কিশোরী থেকে মহিলা ধর্ষনের, খুনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। একজন মহিলা মূখ্যমন্ত্রীর রাজ্যে কেন বারবার একই ঘটনা ঘটবে?’

উল্লেখ্য এটা ঘটনা যে ডেবরা এলাকায় একের পর এই ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আদিবাসী মহিলারাই শিকার হয়েছেন। গতবছরই জালিমান্দাতে এক বিবাহিতা নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ অবশ্য বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেছে। তার আগে রাধামোহনপুর,পশঙ, কাঁটাপুকুর, আষাঢ়ি ইত্যাদি জায়গায় একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পিছনে কে বা কারা জড়িত তার খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে ডেবরা থানার পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ধর্ষনের পর শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা অবধি মুখ খুলতে নারাজ পুলিশ। মহিলার মোবাইল ফোনটির সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। কে তাঁকে ফোন করেছিল খোঁজার পাশাপাশি মহিলার কোনোও ব্যক্তিগত শত্রু ছিল কিনা তারও খোঁজ চলছে।