শাসক শিবিরে আবারও প্রার্থী পদে বদল, ক্যাপ্টেনকে সরিয়ে প্রার্থী করা হল প্রাক্তন আমলাকে

635
শাসক শিবিরে আবারও প্রার্থী পদে বদল, ক্যাপ্টেনকে সরিয়ে প্রার্থী করা হল প্রাক্তন আমলাকে 1

নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: আচমকাই প্রার্থী পদে বদল আনল শাসক শিবির। ক্যাপ্টেনকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হল রাজেন সুন্দাসকে। দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহাকুমার অন্তর্গত মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন ক্যাপ্টেন নলিনী রঞ্জন রায়, সেখানেই আনা হল রাজেনকে, যিনি কিনা প্রাক্তন আমলা। রবিবার তৃণমূলের তরফে এক বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে।  তবে কেন আচমকা প্রার্থী বদল করা হল, সেই বিষয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি তৃণমূল নেতৃত্ব।

গোটা রাজ্যের ২৯১টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার সময় মাটিগাড়া নকশালবাড়ি আসনের জন্য ক্যাপ্টেন নলিনী রঞ্জন রায়ের নাম ঘোষণা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, নলিনী রঞ্জন রায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টের প্রাক্তন অফিসার।  আর প্রার্থী নির্বাচিত হতেই নলিনী রঞ্জন রায় শুরু করে দিয়েছিলেন প্রচার। দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে, এলাকায় ফ্লেক্স-পতাকায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন প্রার্থী। কিন্তু হঠাৎ করেই নলিনী রঞ্জনকে প্রার্থী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।

শাসক শিবিরে আবারও প্রার্থী পদে বদল, ক্যাপ্টেনকে সরিয়ে প্রার্থী করা হল প্রাক্তন আমলাকে 2

এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব মুখ না খুললেও সূত্রের খবর, নমিনেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কাগজপত্রের জটিলতা থাকায় আগেভাগেই নলিনী রঞ্জন রায়ের স্থানে রাজেন সুন্দাসকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এছাড়াও এর আরও একটি কারণ যা জানা যাচ্ছে, তা হল, ক্যাপ্টেন নলিনী রঞ্জন রায় বিজেপির সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন বিজেপির আইটি সেলের নেতা। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। আর তারই পুরষ্কার ছিল এই কেন্দ্রের প্রার্থী পদ। তবে সদ্য বিজেপি থেকে আসা একজনকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারছিলেন না শাসক দলের কেউ কেউ। এই নিয়ে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন তারা। এমনকি এই নিয়ে এলাকায় গোষ্ঠীকোন্দলও শুরু হয়, প্রার্থী বদলের দাবীও ওঠে। সেই আঁচ সামাল দিতেই এই প্রার্থী বদল বলে মনে করছেন সকলে।

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রার্থী রাজেন দীর্ঘদিন দার্জিলিং জেলার পরিবহন বিভাগের আরটিও (RTO) পদে ছিলেন। তার আগে উনি দীর্ঘদিন এআরটিও (ARTO) পদেও ছিলেন। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে বর্তমান প্রার্থীর পরিচিতি মহল অনেকটাই এবং পাশাপাশি নেপালি সম্প্রদায়ের ভোট তার ঝুলিতে অনেকটাই যাবে বলে মনে করছে শাসক দল।

প্রসঙ্গত, এবারেই প্রথম নয়, এর আগেও প্রার্থী ঘোষণার এক সপ্তাহের মাথায় চারটি কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছিল তৃণমূল। আমডাঙা, অশোকনগর, দুবরাজপুর এবং কল্যাণী কেন্দ্রের প্রার্থী বদল করে তৃণমূল। অশোকনগরে নারায়ণ গোস্বামী, আমডাঙায় রফিকূর রহমান, দুবরাজপুরে দেবব্রত সাহা এবং কল্যাণীতে তৃণমূলের নতুন প্রার্থী করা হয় অনিরুদ্ধ বিশ্বাসকে।