শীতলকুচি কান্ডের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্যের দাবি তৃনমূলের ! পেছন থেকে গুলি, মাথায় ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত

305
শীতলকুচি কান্ডের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্যের দাবি তৃনমূলের ! পেছন থেকে গুলি, মাথায় ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত 1

অশ্লেষা চৌধুরী: শীতলকুচি কাণ্ডে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর প্রকাশ; মৃতদের কারও মাথায় আঘাতের চিহ্ন, কাউকে গুলি করা হয়েছে পেছন থেকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর আত্ম রক্ষার্থে গুলি চালানোর দাবীর অন্যরকম প্রমাণই দিচ্ছে এই ময়না তদন্তের রিপোর্ট।

শীতলকুচি কান্ডের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্যের দাবি তৃনমূলের ! পেছন থেকে গুলি, মাথায় ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত 2

সূত্রের খবর, শীতলকুচি কাণ্ডে মৃত হামিদুল মিঞার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পেছন থেকে গুলি চালানো হয়েছিল তাঁর দিকে, সম্ভবত ১০ মিটার দূরত্ব থেকে। এর থেকে অনুমান করা হচ্ছে, হয়তো হামিদুল পালানোর সময় তাঁকে পেছন থেকে গুলি করা হয়। মাঝারি রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ। মৃত নূর আলম মিঞা ও মনিরুজ্জামান মিঞার ওপরেও মাঝারি রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলা হয়েছে। মনিরুজ্জামানের একটি পাঁজর ভেঙে যায় এবং গুলি চালানোর সময় তাঁর কোমরের নিচে বা দেহের অন্য কোথাও গুলি করা হয়নি বলেও প্রকাশ রিপোর্টে।

শীতলকুচি কান্ডের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্যের দাবি তৃনমূলের ! পেছন থেকে গুলি, মাথায় ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত 3

মৃত সামিউল মিঞার বুকে স্প্লিনটারের ক্ষত, মাথায় ভারি ও ভোঁতা কিছুর আঘাত রয়েছে। এই আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে কোনওভাবে বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়াও তাঁর নাকে রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। পাশাপাশি রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যেকেরই পিঠে , বুকে এই জাতীয় জায়গায় আঘাত অর্থাৎ কোমরের নিচে শুধুমাত্র আহত করার জন্য আঘাতের কোনও প্রচেষ্টা এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। আঘাতের ধরণ জানান দিচ্ছে, আত্মরক্ষার স্বার্থে, নিজে বাঁচতে গিয়ে অন্যকে গুলি করার ধাঁচ এটা নয়। শুধু আঘাত করার জন্য গুলি করা হলে কোমরের নিচে বা শরীরের অন্য কোথাও করা যেত, এক্ষেত্রে সবই বুকে বা পিঠে গুলি। উল্লেখ্য, বাহিনীর দাবী ছিল, সেদিন তারা গুলি চালিয়েছে বলে গ্রামে কেউ গুজব রটায়। এর পরই ঘরে ব্যবহারের জিনিসপত্র ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায় গ্রামবাসীরা। তাদের রুখতে গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

রিপোর্ট ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা উঠেছে তুঙ্গে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যা । আমাদের দলের তরফে এই বিষয়ে আগেই বলা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য গণহত্যা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট । কোমরের উপরের অংশে সব আঘাত।” “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সব নয়। শুধু দুটো প্রশ্নের উত্তর দিক তৃণমূল। মাননীয় উস্কানি মূলক ভাষণ দিয়েছিলেন কেন? আর সেই উস্কানির জেরেই গ্রামবাসীরা বুথে হামলা চালিয়েছিল কিনা,” পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিজেপির জয়প্রকাশ মজুমদারের।

উল্লেখ্য, চতুর্থ দফা ভোটের দিন কোচবিহারের শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫/১২৬ নম্বর মাদ্রাসা বুথে গুলি চলে। ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়৷ মৃতরা প্রত্যেকেই দলীয় কর্মী বলে দাবী তৃণমূলের। ঘটনার পরেই ওই বুথে ভোট গ্রহণ পর্ব স্থগিত রাখা হয়। এই ঘটনা ঘিরে উত্তাল হয় রাজ্য রাজনীতি। একের পর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ উঠে আসে। এবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ঘিরে আবার উত্তপ্ত হল বঙ্গ রাজনীতি।

Previous articleএক নজরে আজকের রাশিফল 
Next articleসর্বকালের রেকর্ড ভেঙে করোনায় ছয়লাপ পশ্চিম মেদিনীপুরে আক্রান্ত ২২১! খড়গপুর একাই ৮০ ছুঁয়ে, মেদিনীপুর ৫০