তোলা না দেওয়ায় দোকানঘরকেই দলীয় কার্য্যালয় বানিয়ে ফেলল তৃণমূল! সরগরম খেজুরি

911

ভীষ্মদেব দাশ, খেজুরিঃ দোকান চালু করার জন্য তোলা চেয়েছিল তৃণমূলের লোকজন। কিন্তু না দেওয়ায় দোকানে তালা লাগিয়ে দোকান বন্ধ করে দিল স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে খেজুরি-১ ব্লকের বীরবন্দর গ্রাম পঞ্চায়েতের বীরবন্দর বাজারে। স্থানীয় যুবক অতনু পানিগ্রাহী ব্যবসার তাগিদে দোকানঘর নির্মাণ করেন। ব্যবসা শুরু করতে গেলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা দেবদুলাল পন্ডা ৫০হাজার টাকা সেলামি চায় বলে অতনু পানিগ্রাহীর অভিযোগ। পরিস্থিতির চাপে পড়ে প্রায় ১০হাজার টাকা জোগাড় করে দেবদুলাল বাবুকে দেন বলেও জানান অতনু বাবু। বেশ কয়েকদিন ধরে অতনু বাবুকে নানা অছিলায় বাকি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন দেবদুলাল বাবু।

আরও পড়ুন -  দিঘা থেকে ১০০কিমি দুরে থাকতেই ঝড়ের দাপট শুরু হল খড়গপুর মেদিনীপুরে, বেলদায় ২০০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনল প্রশাসন

গত সোমবার রাতে এলাকার দুষ্কৃতীদের নিয়ে দেবদুলাল বাবু অতনু বাবুর দোকানের শাটার বন্ধ করে তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অতনু পানিগ্রাহী স্থানীয় বাজার কমিটির সঙ্গে কথা বলার পরে মঙ্গলবার সকালে তালা ভেঙ্গে দোকান খোলেন। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, দোকান খোলায় দেবদুলাল বাবু দলবল নিয়ে এসে দোকান থেকে বার করে দেয় অতনুকে এবং প্রাণে মারার হুমকিও দেন। শেষমেষ অতনু বাবু নিরুপায় হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। হেঁড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের আইসিকে বিষয়টি লিখিত আকারে জানান। হেঁড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের আধিকারিক দীপক চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অতনু পানিগ্রাহী বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে দেখি আমার দোকানে লেখা রয়েছে তৃণমূল কার্য্যালয়। টিএমসি এবং তৃণমূলের পতাকা লাগানো রয়েছে। দেবদুলাল পন্ডা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে নানা অছিলায় লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা তুলছেন। মূলত উনার ছেলে ভিলেজ পুলিশে কর্মরত। সেই কারণে পুলিশ কিছু করতে পারবে না বলেও মানুষজনকে হুমকি দেন। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা দেবদুলাল পন্ডার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। বীরবন্দর অঞ্চল তৃণমূল-কংগ্রেস সভাপতি সেক নওসেদ আলি বলেন, গত বিধানসভা ভোটের পর থেকে বীরবন্দর, কন্ঠিবাড়ি এলাকায় ত্রাস চালিয়েছিল অতনু পানিগ্রাহী।

আরও পড়ুন -  করোনায় ত্রানবিলি নিয়ে রাজনীতি, লকডাউন ভেঙে রাস্তায় ক্ষোভে ফেটে পড়ল বালুরঘাট

বাজার এলাকায় দোকান করে দেবে বলে বহু লোকের থেকে টাকা তুলেছে। কিন্তু দোকান করে দেয়নি। আমাদের দলীয় কর্মী কাজল গায়েনের দোকান। অতনু জোর করে দখল করেছিল। তাই বীরবন্দর বাজার কমিটি ও গ্রাম কমিটি অতনুকে বাধা দিয়েছে। এবিষয়ে খেজুরি-১ পূর্ব মন্ডলের বিজেপি সভাপতি সুমন দাস বলেন, তৃণমূল রাতের অন্ধকারে এইসব করছে। বীরবন্দর বাজার এলাকার লোকজন, ব্যাবসায়ীরা ভালো করে জানেন কে কার থেকে কত টাকা নিয়েছে। তাছাড়া অতনুর দোকানের ট্রেড লাইসেন্সও রয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স থাকার পরেও কি করে তৃণমূলের পার্টি অফিস হয় সেটা সাধারণ মানুষ বুঝে গেছেন। খেজুরিতে তৃণমূলের দিন শেষ।

তোলা না দেওয়ায় দোকানঘরকেই দলীয় কার্য্যালয় বানিয়ে ফেলল তৃণমূল! সরগরম খেজুরি 1