দলের তরফে পদত্যাগের নির্দেশ! নন্দীগ্রামে আমফান দুর্ণীতিতে নাম থাকা প্রধান মনসুরা বেগমকে তৃণমূলের কড়া বার্তা

215
দলের তরফে পদত্যাগের নির্দেশ! নন্দীগ্রামে আমফান দুর্ণীতিতে নাম থাকা প্রধান মনসুরা বেগমকে তৃণমূলের কড়া বার্তা 1

ভীষ্মদেব দাশ, নন্দীগ্রামঃ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে দলীয় নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলেরই জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৃণমূলের কোর কমিটি। আমফান দুর্ণীতিতে নাম থাকা নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ৩নং কেন্দ্যামারী জালপাই পঞ্চায়েতের প্রধান মনসুরা বেগমকে সাসপেন্ড করেছিল দল। পদত্যাগ করার পরে, দলীয় সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে গত মঙ্গলবার পুণরায় প্রধান পদে আসীন হয়েছিলেন মনসুরা বেগম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জল্পনা চলছে পরিবর্তনের ধাত্রীভূমিতে। দলের নির্দেশ না মেনে প্রধান পদে আসীন হওয়ার জন্য দলীয় বৈঠকের পর দল সিদ্ধান্ত জানাবে বলেই জানিয়েছিলেন নন্দীগ্রাম বিধানসভার তৃণমূল কোর কমিটির সভাপতি মেঘনাদ পাল। বৃহস্পতিবার কোর কমিটির বৈঠকে প্রধানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে।
দুর্ণীতির অভিযোগে বহিষ্কৃত প্রধানকে নিয়েই নন্দীগ্রামে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক কোন্দল। সম্প্রতি আমফান দুর্ণীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পরিবর্তনের আঁতুড়ঘর নন্দীগ্রাম থেকে ২০০জন নেতা-কর্মীকে শোকজ করেছিল তৃণমূল। যারমধ্যে তৃণমূলের ২৫জন হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীকেও সাসপেন্ড করেছিল দল। এরপরই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক চাপান উতর। ক্রমশ বাড়ছিল গোষ্ঠী দন্দও। প্রসঙ্গত আমফান দুর্ণীতি কান্ডে নাম জড়িয়ে ছিল নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ৩নম্বর কেন্দ্যামারী পঞ্চায়েত প্রধান মনসুরা বেগমের। দল মনসুরা বেগমকে শোকজ করার পরে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।
নন্দীগ্রাম তৃণমূল নেতৃত্ব কেন্দ্যামারী জালপাই পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে সাকিনা বেগমকে মনোনীত করেছিলেন। দলের তরফে মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচনের নির্ঘন্ট ছিল। ১৪৪ধারা জারি করে কড়া হাতে প্রধান নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিল প্রশাসন। কিন্তু ব্যাক্তিগত সমস্যার কারনে দল মনোনীত প্রার্থী সাকিনা বেগম মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। এরপরই দলের নির্দেশ অমান্য করে উপস্থিত ১৫জন পঞ্চায়েত সদস্যের মৌন সম্মতিতে ফের প্রধান হন দুর্ণীতিতে নাম জড়িত প্রাক্তন প্রধান মনসুরা বেগম।
দলের বিরুদ্ধে গিয়ে মনসুরা বেগমের পুনরায় প্রধান নির্বাচন হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ নন্দীগ্রাম তৃণমূল নেতৃত্ব। যারফলে বৃহস্পতিবার কোর কমিটির বৈঠক হবে জানিয়েছিলেন মেঘনাদ বাবু। তিনি বলেন, মনসুরা বেগম দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারনে দল তাকে বহিষ্কার করেছিল। দলের নির্দেশ অমান্য করেই মনসুরা বেগম পুনরায় প্রধান পদের জন্য মঙ্গলবার উপস্থিত ছিলেন। দলের মনোনীত প্রার্থী সাকিনা বেগম মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করায় উপস্থিত সকলের মৌন সম্মতিতে মনসুরা বেগম প্রধান হন। দল মনসুরা বেগমকে প্রধান হিসেবে চায় না। আজ কোর কমিটির বৈঠকে জেলা সভাপতির নির্দেশ মতো মনসুরা বেগমকে পদত্যাগ করার জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার সরকারিভাবে ব্লক প্রশাসনের হাতে পদত্যাগ পত্র জমা দিতে হবে মনসুরা বেগম কে। যদি দলের এই নির্দেশ মনসুরা বেগম অমান্য করেন তাহলে দল কঠোরভাবে ব্যাবস্থা নেবে।
গত মঙ্গলবার মনসুরা বেগম জানিয়েছিলেন, আমি নির্দোষ তাই দল আমাকে সমর্থন করেছে। সদস্যদের সমর্থনে আমি প্রধান হয়েছি। দলের তরফে শোকজ তুলে নেওয়া হয়েছে। বুধবার দলীয় সিদ্ধান্তের পরে মনসুরা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

দলের তরফে পদত্যাগের নির্দেশ! নন্দীগ্রামে আমফান দুর্ণীতিতে নাম থাকা প্রধান মনসুরা বেগমকে তৃণমূলের কড়া বার্তা 2

আরও পড়ুন -  ফের ভিজতে চলেছে খড়গপুর মেদিনীপুর সহ দক্ষিনবঙ্গ, সময় পিছাল উম্ফানের