আবাস যোজনার ফর্দাফাই! লিনটেল ঢালাই সহ বাড়ি ভেঙে চাল খেল হাতি

405
আবাস যোজনার ফর্দাফাই! লিনটেল ঢালাই সহ বাড়ি ভেঙে চাল খেল হাতি 1
আবাস যোজনার ফর্দাফাই! লিনটেল ঢালাই সহ বাড়ি ভেঙে চাল খেল হাতি 2
ভেঙে চৌচির লিনটেল

নিজস্ব সংবাদদাতা: সরকারি আবাস যোজনা কার? বিজেপি বলে কেন্দ্রের আর তৃনমূল বলে রাজ্যের। কেন্দ্র নাম দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা আর রাজ্য নাম দিয়েছে বাংলার আবাস যোজনা। প্রতিবার নির্বাচন আসলে দু’দলেরই স্বর চড়ে আবাস যোজনা নিয়ে আর টানা হেঁচড়ার মাঝে ১লাখ ৩০ হাজারের বাড়ি দোল খায়। রবিবার ভোরে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় থানা এলাকায় এরকমই একটি আবাস যোজনার পাকাবাড়ি লিনটেল সমেত গুঁড়িয়ে দিয়ে জঙ্গলের হাতি জানিয়ে দিল যে আবাস যোজনা নিয়ে এত টানাপোড়েন আর কৃতিত্ব নেওয়ার দৌড় সেই আবাস যোজনার প্রকৃত হাল কী?

আবাস যোজনার ফর্দাফাই! লিনটেল ঢালাই সহ বাড়ি ভেঙে চাল খেল হাতি 3
আবাস যোজনার ভেঙে পড়া বাড়ি দেখতে ভিড়

রবিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে গোয়ালতোড়ের আমজোড় গ্রামে। শালবনি আর গোয়ালতোড় থানার মাঝামাঝি এই আমজোড় গ্রামের লাগোয়া একপাল হাতি জমিয়ে বসেছে সম্প্রতি। এই হাতির দলটির মধ্যে তিন চারটি হাতি হানা দেয় গ্রামের ভেতর। গ্রামের গায়েই বাড়ি কৃষি মজুর তপন মালের। সরকারি আবাস যোজনায় মাস ছয়েক হল বাড়ি বানিয়েছেন। নিজেরা থাকার পাশাপাশি বাড়ির ভেতরে ছিল কিছু ধান আর চাল। পাকা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে সেই ধান আর চাল লুট করে খেয়ে গেল দলমার দামালের দল।

আবাস যোজনার ফর্দাফাই! লিনটেল ঢালাই সহ বাড়ি ভেঙে চাল খেল হাতি 4

তপন মাল জানিয়েছেন,’ পরিবারে আমরা মোট সাতজন। বাড়ির বিভিন্ন অংশে ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোর চারটে নাগাদ হঠাৎই কড়মড় আওয়াজ শুনতে পাই। ঘরের ভেতর থেকে দেখতে পাই টিনের চাল নড়ছে। সেই সময় বাড়ির বাইরে হৈচৈ আওয়াজ। আমরা ভাবলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। সবাইকে জাগিয়ে, বাচ্চাদের টেনেটুনে বাইরে নিয়ে পালাই। বাইরে বেরিয়ে চক্ষু চড়কগাছ। দেখি তিন চারটা হাতি বাড়ির দেওয়ালে ধাক্কা মারছে। নিমেষের মধ্যে লিনটেল সমেত দেওয়াল ভেঙে পড়ল। সেই ভাঙা অংশ দিয়ে হাতি গুলো শুঁড় বাড়িয়ে ধান আর চাল খেয়ে হেলতে দুলতে ফের জঙ্গলে চলে গেল!”

আরও পড়ুন -  আবারও রাজ্যে গনপিটুনিতে মৃত্যু, গরু চোর সন্দেহে পিটিয়ে মারা হল দুই যুবককে
আবাস যোজনার ফর্দাফাই! লিনটেল ঢালাই সহ বাড়ি ভেঙে চাল খেল হাতি 5
কৃতিত্বের দাবিদার দুজনেই

কিন্তু সরকারি আবাস যোজনার বাড়ি। নরেন্দ্র মোদি থেকে মমতা ব্যানার্জী দুজনেই যে সভায় সভায় বলে বেড়াচ্ছেন গরিবের জন্য শক্তপোক্ত বাড়ি আর মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ করে দেওয়া হচ্ছে? তপন বাবু জানালেন, ‘১লাখ ৩০ হাজারে বাড়ি হয়না। সরকার বলেছে ১টি রুম, বারান্দা, রান্নাঘর আর ল্যাট্রিন বানাতে হবে। মাথার ওপর ছাদ হতে হবে ঢালাই। গ্রামের দিকে নরম মাটি। ১০/১২ একটি ঘর বানাতে গেলে চারটি পিলার আর টাই বিম তুলে শুধু ছাদ ঢালাই করার খরচই দেড় লাখ। এরপর ইটের দেওয়াল, প্লাস্টার, মেঝে, জানলা-দরজা, রঙ ইত্যাদি রয়েছে। সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়াবে আড়াই লাখ যদি নিজে শ্রম দেওয়া হয়।’
তাহলে তপন মালের বাড়ি হল কী করে?

আরও পড়ুন -  লকডাউনেই থাকছে আইআইটি খড়গপুর, উঠছে না কোনও বিধি নিষেধই

তপন মাল জানালেন, “বাড়ি সম্পূর্ণ করতে পারিনি। প্লাস্টার, কয়েকটা জানলা দরজার কাজ এখনও বাকি। ঢালাই ছাদ করতেই পারিনি টিনের চাল, ৫ইঞ্চির দেওয়াল করেছি। এতেই নিজের পকেট থেকে চলে গেছে ৫০ হাজার টাকা। চার কাটা জমি চাষ করি, আর দিন মজুরি করে কিছু জমিয়েছিলাম খেয়ে না খেয়ে। সেসব গিয়েছে। উল্টে বাজারে ধার হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম আস্তে আস্তে বাড়িটা শেষ করব কিন্তু হাতি বাড়ি ভেঙে আমার কোমরই ভেঙে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা লিনটেল ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে ফলে নতুন করে আবার সব করতে হবে।”
সব মিলিয়ে আবাস যোজনার ফর্দাফাই করে দিল হাতি। যে আবাস যোজনা নিয়ে এত লড়াই, এত প্রচার সেই আবাস যোজনার আসল রূপ হাতি না জানালে হয়ত জানাই যেতনা।