পূর্ব মেদিনীপুরে দুই শিশুর শরীরে মিলল কোভিড-১৯ অ্যান্টিবডির সন্ধান! মাতৃগর্ভেই করোনা আক্রান্ত বলে অনুমান

441
পূর্ব মেদিনীপুরে দুই শিশুর শরীরে মিলল কোভিড-১৯ অ্যান্টিবডির সন্ধান! মাতৃগর্ভেই করোনা আক্রান্ত বলে অনুমান 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: পূর্ব মেদিনীপুরে দুই শিশুর দেহের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডির সন্ধান মেলায় রীতিমত বিস্মিত চিকিৎসকরা। দুজনেই মাতৃগর্ভে থাকাকালীনই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠেছে এবং সেই কারণেই তাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।

পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে একটি নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন দুই শিশুর চিকিৎসা করতে গিয়েই সামনে এসেছে এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি। নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন ওই দুই শিশুর একজন পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই হলদিয়ার যার বয়স মাত্র ৯ দিন এবং অন্যজনও ওই একই জেলার ভগবানপুরের যার বয়স ৩০ সপ্তাহ। ওই দুই শিশুই শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয় নার্সিং হোমে।

পূর্ব মেদিনীপুরে দুই শিশুর শরীরে মিলল কোভিড-১৯ অ্যান্টিবডির সন্ধান! মাতৃগর্ভেই করোনা আক্রান্ত বলে অনুমান 2

জানা গেছে অবস্থা সঙ্কট জনক হওয়ায় দুজনকেই  ভেন্টিলেশন দেওয়া হয় তাদের। পরীক্ষায় দু’জনেরই ফুসফুস এবং হৃৎপিণ্ডে সংক্ৰমণ ধরা পড়ে। পরে রক্ত নমুনা পরীক্ষায় পাঠানোর পর দেখা যায়, দুই শিশুরই করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। গর্ভাবস্থায় ওই শিশুরা মায়ের থেকে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। অর্থাৎ, ওই দুই শিশুর মায়েরা গর্ভাবস্থায় কোনও সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তা নিজেরা বুঝতেও পারেননি। উপসর্গ না থাকায় করোনা পরীক্ষাও করা হয়েছিল না তাঁদের।

এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণের দিন থেকে পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে তাঁদের অজান্তেই গর্ভস্থ ভ্রূণে সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। মায়ের শরীর থেকে কোভিড-১৯ সন্তানের শরীরে যে সংক্রমিত হয় তা এই ঘটনায় প্রমাণিত বলে জানিয়েছেন শুশ্রূষা নার্সিং হোমের কর্নধার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞা ডাঃ প্রবীর ভৌমিক। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যা নতুন তথ্য বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে সরকারি স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো উচিত বলেও মনে করেন তিনি। প্রবীর ভৌমিক বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় মায়ের থেকে সন্তানের শরীরে করোনা সংক্রমিত হতে পারে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া এবং অন্যান্য উপসর্গ থাকার অর্থ মায়ের শরীর থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছিল দুই শিশুই।

করোনা পরিস্থিতি তীব্র হওয়া কালীন বেশ কয়েকজন মা করোনা আক্রান্ত অবস্থায় প্রসব করেছেন যাঁদের সন্তানরা কিন্তু সুস্থ অবস্থায় জন্ম নিয়েছেন। আবার প্রসবের পর হাসপাতালে থাকার সময় মা সুস্থ থাকা স্বত্ত্বেও শিশুকে সংক্রমিত হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু গর্ভে সংক্রমনের ঘটনা খুবই বিরল ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।

Previous articleআজকের রাশিফল।। ৩১শে ডিসেম্বর’২০২০
Next articleফিরে দেখা ২০২০।। শুধু যাওয়া আসা