নজির বিহীন ঘটনা মেদিনীপুর জেলে! পালালো ২জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী, তোলপাড় শহর

889
নজির বিহীন ঘটনা মেদিনীপুর জেলে! পালালো ২জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী, তোলপাড় শহর 1
নজির বিহীন ঘটনা মেদিনীপুর জেলে! পালালো ২জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী, তোলপাড় শহর 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: একেবারেই নজির বিহীন ঘটনা ঘটে গেল মেদিনীপুর জেল বা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে। সোমবার বিকালের এই ঘটনায় রীতিমত তোলপাড় শহর। গোটা মেদিনীপুর শহর এবং তার আশেপাশের থানা এলাকা গুলিকে সতর্ক করা হয়েছে, চলছে নাকা চেকিং কিন্তু অনেক রাত অবধি দুই পলাতক বন্দীর কোনও সন্ধান মেলেনি।

জেল সূত্রে জানা গেছে গত কয়েক দশকের ইতিহাসে জেলের ভেতর থেকে বন্দী পালানোর নজির নেই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে পলাতক দুই বন্দীর নাম মিঠুন দাস ও মনোজিত বিশ্বাস। দুজনেই একটি খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। উল্টোডাঙা এবং বারাসতের এই দু’জন প্রথমে বারাসত এবং পরে দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে সাজা খাটছিল। মে মাসে দুজনকে নিয়ে আসা হয়েছিল মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। ধৃতদের বিরুদ্ধে দমদম জেলেও মারপিটের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।

নজির বিহীন ঘটনা মেদিনীপুর জেলে! পালালো ২জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী, তোলপাড় শহর 3

সোমবার নিয়ম মত বিকাল বেলায় অন্য বন্দিদের জেল চত্বরের মধ্যেই ছাড়া ছিল ওই দুই বন্দী। ওই সময় জেলের চত্বরে খেলাধুলা সহ বিভিন্ন কাজকর্ম করে থাকেন বন্দীরা। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ নাম ডেকে সংখ্যা মিলিয়ে তাঁদের নিজ নিজ সেলে পাঠানো হয়। এই নাম ডাকার সময় নজরে আসে দুই বন্দি নিখোঁজ। সঙ্গে সঙ্গে জেলের বিভিন্ন অংশ খুঁজেও তাঁদের খোঁজ না মেলায় জেল কর্মীরা নিশ্চিত হয়ে যান পালিয়েছে দুজন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে জেলের উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে পালিয়েছে তারা।

ভেতরের অংশে একটি লোহার বাঁকানো শিক মিলেছে। সেই শিক ব্যবহার করা হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার প্রাচীর লাগোয়া বেশ কয়েকটি গাছ রয়েছে। সেই গাছ গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কী? খোঁজ চলছে তারও। সবচেয়ে বড় কথা প্রাচীরের সমস্ত প্রান্তেই রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার যেখানে সাধারণ ভাবে সিভিক ভলেনিটিয়াররা পাহারায় থাকেন। তাঁদের নজর এড়ালো কী ভাবে সেটাও প্রশ্নের।

ঘটনার পরেই দুই বন্দীকে খোঁজে তৎপর হয় পুলিশ। ইতিমধ্যেই শহরের এন্ট্রি ও এগজিট পয়েন্টগুলিতে নাকা চেকিং চালানো হচ্ছে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশের পক্ষ থেকে। আশেপাশের থানা, জাতীয় ও রাজ্য সড়ক সর্বত্রই নজরদারি চলছে। তবে সন্ধ্যার মুখে গা ঢাকা দেওয়ার সুবিধাকেই তারা ব্যবহার করেছে বলেই মনে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি জেল কর্তৃপক্ষ। জেল সুপারের আত্মীয় বিয়োগ হওয়ায় ছুটিতে রয়েছেন।