কালিম্পংয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে ২ জনের মৃত্যু, গুরুতর জখম আরও ৫

247
কালিম্পংয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে ২ জনের মৃত্যু, গুরুতর জখম আরও ৫ 1

অশ্লেষা চৌধুরী: বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের দিনেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা, অনুষ্ঠান দেখতে এসে ভিড়ে চাপা পড়ে মৃত্যু হল দুই জনের। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কালিম্পংয়ের মেলা গ্রাউন্ডে।

কালিম্পংয়ের মেলা গ্রাউন্ডে ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষ্যে নেপালের ম্যাড ডগ নামে একটি সংস্থার গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের মাঠে উপচে পরেছিল ভিড়। সেই অনুষ্ঠানের মাঠে ঢোকার গেটে প্রবেশপথে এতোটাই ভিড় হয় যে মানুষ পরেই যায়। এরপর সেই ভিড়ে চাপা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি আরও ৫ জন জখম হয়েছেন।

কালিম্পংয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে ২ জনের মৃত্যু, গুরুতর জখম আরও ৫ 2

পুলিশ সূত্রে খবর, পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় অনিতা ছেত্রী (৪০) এবং বনিতা গুরুঙের (৪৬)। দু’জনেই কালিম্পঙের চন্দ্রালোকে থাকতেন। এছাড়াও জখম ৫ জনের মধ্যে মিক্সন তামাং এবং অনিতা সুব্বা নামে দুই যুবতীকে আঘাত গুরুতর হওয়ায় শিলিগুড়ি রেফার করা হয়েছে এবং প্রতীক্ষা ছেত্রী, অনিতা রাই, পরিমা রাই কালিম্পং জেলা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা গিয়েছে, নেপালের কাঠমান্ডু এবং দার্জিলিঙের গায়কদের নিয়ে ওই মেলায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষত যুবক-যুবতীদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সেই উৎসাহ ও উদ্দীপনাই বিপদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কালিম্পং পুরসভার চেয়ারম্যান রবি প্রধান বলেন, ‘টিকিট কাউন্টারে প্রবল ভিড় ছিল। অনুষ্ঠানের জায়গায় যাওয়ার জন্য উৎসুক ছিলেন তাঁরা। টিকিট কাউন্টারের পরেই একটি সিঁড়ি ছিল। সেখান দিয়ে মাঠে ঢুকতে হয়। গেট খোলার পরেই অসংখ্য মানুষ মাঠে ঢোকার জন্য তাড়াহুড়ো করতে থাকেন। তার জেরে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। অনেকেই সিঁড়ি থেকে পড়ে যান।’

কালিম্পঙের পুলিশ সুপার বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।‘ কারণ কালিম্পং স্টেডিয়ামের সেই মেলার মাঠে ২০,০০০ মানুষ জমায়েত করতে থাকেন। সেরকম অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মহকুমা শাসকের অনুমতির প্রয়োজন হয়। রবিবারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য উদ্যোক্তারা অনুমতি নিয়েছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি মৃত এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ এবং সবরকমের সাহায্য করা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।