মহাকালীর বোধনে চাই ‘উমা’ কেই! জঙ্গলমহলের মণ্ডপে মণ্ডপে মানু্ষের আর্তি, আবার এসো মা

324
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: রবিবার জঙ্গলমহলের কালীপুজোর উদ্বোধনের তালিকাটা হাতে দাঁড়িয়ে ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন সাংসদ ডাক্তার উমা সরেনের এক সঙ্গি। সেই তালিকায় চোখ বুলিয়ে দেখা গেল লালগড় থেকে ১০কিলোমিটার দুরে রামগড় কালীপুজো কমিটির পুজোর উদ্বোধনের সময় দেওয়া আছে রাত ৯টা চল্লিশ।

Advertisement

Advertisement
Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
অথচ ঝাড়গ্রাম শহরের চতুর্থ পুজার উদ্বোধন প্রাক্তন সাংসদ যখন করছেন তখন ৭টা বেজে গেছে। যার অর্থ হেলিকপ্টারে করে গেলেও ৯টা ৪০য়ে রামগড়ের পুজা উদ্বোধন সম্ভব নয়, অন্তত ১২টা বাজবেই। হ্যাঁ, এবার জঙ্গলমহলের কালীপুজো উদ্বোধনে এমনই সিডিউল প্রাক্তন সাংসদের। রবিবারই তাঁকে উদ্বোধন করতে হচ্ছে ১৭টি পুজোর।

 প্রথমে ঠিক হয়েছিল ১৬টি দিয়ে শেষ করবেন কিন্তু মহাকালীর পুজোর উদ্বোধন ‘উমা’ ছাড়া করাতেই রাজি নন এমন এক ক্লাব কর্তাদের নাছোড়বান্দা অনুরোধে সেটা ১৭তে দাঁড়িয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহরের চতুর্থ পুজার পর রামগড়ে পৌঁছানোর মাঝখানে আরও গোটা ন’য়েক পুজোর উদ্বোধন করতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে ২০মিনিট আর যাতায়তের সময় ধরলে কমপক্ষে পাঁচ ঘন্টা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
প্রথম শুরু হয়েছে ইয়ুথ ক্লাব দিয়ে সেখানেই দেরি হয়ে গেছে আধঘন্টা।এরপর পুকুরিয়া শালুকগেড়িয়া হয়ে শহরের বর্ণালী, শীতলা স্পোর্টিং, হরিমন্দির পৌঁছাতেই সাতটা পেরিয়ে গেছে। এরপর অগ্রগামী, শালতলা, তরুনতীর্থ, নিউটাউন হয়ে ইয়ং ইলেভেন , বন্ধুমহল হয়ে ঠেকনা। তারপর শহর ছাড়িয়ে দহিজুড়ির দুটো পুজো উদ্বোধন করে রামগড়!
  ২০১৯য়ের মে মাসে প্রাক্তন হয়ে যাওয়া এই সাংসদকে ঘিরে ক্লাবগুলির এই উন্মাদনা রীতিমত অবাক করেছে সাধারন মানুষকে। সদ্য জয়ী বিজেপির সাংসদ কিংবা শাসকদলের বিজিত প্রার্থী তথা তৃনমূল জেলা সভাপতি এই পুজোয় সেই তুলনায় কার্যত নিষ্প্রভ হয়ে গেছেন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সেই অর্থে সাংসদ ক্ষমতা কিংবা শাসকদলের প্রভাব কিছুই নেই ডাক্তার সরেনের। তাঁকে উদ্বোধনে আমন্ত্রন জানিয়ে সিকি পয়সার সুবিধা পাবেনা ক্লাবগুলি। তাহলে ? এই তাহলের মধ্যেই বোধহয় লুকিয়ে আছে এই লোকসভায় শাসকদলের পরাজয়ের রসায়ন। গোষ্টি কোন্দলে বিপর্যস্ত , দুর্নীতি , পদ এবং ক্ষমতার লালসায় জঙ্গলমহলে দলের খারাপ অবস্থার সমস্ত দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই মুখচোরা প্রচার বিমুখ মানুষটির ওপর। কান দিয়ে দেখার মত তাই বিশ্বাস করে এবার লড়তেই দেওয়া হয়নি তাঁকে। ফলও হয়েছে তেমন, গো-হারা হয়েছে দল।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
রবিবার কালীপুজো উদ্বোধোনের এই তালিকা আর উমাকে পাওয়ার জন্য মানু্ষের উন্মাদনা প্রমান করে দিয়েছে তাঁদের জন্য নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া ডাক্তার উমা সরেনকে ভুলে জাননি তাঁরা। দল সরে গেলেও জনতা এখনও হাসি মুখে রাত জাগে তাঁকে একটি বার দেখার জন্য। রাতের জঙ্গলমহলে মহাকালী পুজোর  মণ্ডপ উদ্বোধন করে গাড়িতে ওঠার সময়  তাই মানুষের একটাই আর্তি, ‘ আবার এসো মা।’