মেদিনীপুরের গ্রামকে ১১ কুইন্টাল রুই কাতলা মৃগেল দিয়ে গেল আমফান

5690
মেদিনীপুরের গ্রামকে ১১ কুইন্টাল রুই কাতলা মৃগেল দিয়ে গেল আমফান 1
মেদিনীপুরের গ্রামকে ১১ কুইন্টাল রুই কাতলা মৃগেল দিয়ে গেল আমফান 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক্ষেত্রে প্রবাদটা একটু উল্টে নিয়ে বলা ভাল কারও সর্বনাশ তো কারও পৌষ মাস। আমফানে যখন লন্ডভন্ড অর্ধেক রাজ্য বিশেষ করে দক্ষিনবঙ্গ তখন মেদিনীপুর শহরের গা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কংসাবতী নদীর উজানে শহর ছড়িয়ে ৬ কিলোমিটার দুরে কঙ্কাবতী গ্রামে বৃহস্পতিবার খুশির হুল্লোড়। গোটা গ্রাম মাছ ধরেছে সাড়ে ১০ কুইন্টাল থেকে ১১ কুইন্টাল। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন ১১০০কেজি মাছ। আর কী নেই সেই মাছের মধ্যে? মাছের রাজা রুইয়ের সাথে রয়েছে কাতলা, মৃগেল, সাইপিনাস, কালবাউস।মেদিনীপুরের গ্রামকে ১১ কুইন্টাল রুই কাতলা মৃগেল দিয়ে গেল আমফান 3

বুধবার বৃষ্টি হয়েছে সারা রাত। নদীর গায়েই একটু উঁচুতে সবে মাত্র বালি তোলার কাজ শুরু হয়েছিল এমন একটি অগভীর খাতের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে সেই খাত উপচে রাতে জল গড়িয়ে গেছে নদীর দিকে। মাছেরদের এমনই স্বভাব যে উঁচুতে থেকে গড়িয়ে আসা জলের দিকে উজান বেয়ে যাওয়া। মাছের দলের ভাবনা ওপরে যেখান থেকে জল নামছে তা আরও বড়, আরও গভীর। আর সেভেবেই বড় বড় মাছের দল সারি দিয়ে উঠে পড়ে গেছে নদীর অগভীর অংশে । রাতের দিকে বৃষ্টি কমেছে, খাতের স্রোত কমেছে, মাছের দল আটকে গেছে ডোবাতেই।

মেদিনীপুরের গ্রামকে ১১ কুইন্টাল রুই কাতলা মৃগেল দিয়ে গেল আমফান 4

বৃহস্পতিবার সকালে নদীর পাড়ে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ গ্রামবাসীদের। নদীর সেই অগভীর খাতে জল কম আর মাছ বেশী! সাথে সাথেই আগুনের মত খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। ছোট বড় বুড়ো সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই খাতে। কেউ জাল নিয়ে কেউ খালি হাতেই। ভিড় আর হুড়োহুড়িতে ফর্দাফাই স্যোশাল ডিস্টেন্স, করোনা ভীতি শিকেয় তুলেই গায়ে গা লাগিয়ে মৎস শিকারে মেতে ওঠেন গ্রাম বাসীর দল। গ্রামবাসীরা সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে ধরে ফেললেন প্রায় ১০ কুইন্টালের বেশি মাছ। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর ব্লকের অন্তর্গত কঙ্কাবতী গ্রামে যেন মৎস মহোৎসব।

কিন্তু নদীতে এত মাছ এল কী করে? উত্তর মিলেছে তারও। জানা গেছে কংসাবতী নদীর ওপর এনিকেট বাঁধ রয়েছে মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন মোহনপুর এলাকাতে। গত কয়েক বছর ধরে ওই বাঁধ মেরামত করে জল ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাঁধের ওপরে নদীর গভীর অংশে বড় হচ্ছিল মাছের দল। কিন্তু বাঁধের কারনেই প্রচুর কচুরিপনাও জমছিল। বাঁধে আটকে থাকা ওই জলে কচুরিপানা দূষণ বেড়ে গিয়ে সম্প্রতি মাছ মারা যাচ্ছিল। গত দু’দিন ধরে সেচ দফতরের উদ্যোগে টেন্ডার করে ওই কচুরিপনা সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। মানুষের উপস্থিতি, কচুরিপানা সরানোর উদ্যোগ, হুল্লোড়ে মাছের দল উঠছিল উত্তরে কঙ্কাবতীর দিকে। হয়ত কঙ্কাবতী পেরিয়ে আরও উপরে উঠে যেত। তার মাঝেই বুধবার বৃষ্টি। ওপরে আরও বড় জলাশয় আছে ভেবে রাতেই পথ বদলে মাছের দল গিয়ে পড়ে অগভীর খাতে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন দুপুর একটার মধ্যেই মাছ ধরা শেষ হয়ে যায়।

মাছগুলোকে ধরতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি গ্রামবাসীদের। সাড়ে তিন কেজির নীচে কোনও মাছ ছিলনা আর সর্বোচ্চ কাতলা মাছটির ওজন ছিল ১৫কেজি। ১০ থেকে ১৫কেজি ওজনের মাছগুলিকে গ্রামবাসীরা মটুপাতলু বলে নাম দিয়েছিল। নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি মেদিনীপুর থেকে ধেড়ুয়া যাওয়ার রাজ্য সড়কে কঙ্কাবতী মোড়ে ১০ কেজি ওজনের নিচে মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা কেজি অবধি। আর মটুপাতলুর দর উঠেছে ৫০০টাকা কেজি। খবর পেয়ে আশেপাশের গ্রাম এমনকি মেদিনীপুর শহরের রাঙামাটি এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসে রাঘব বোয়াল কিনতে। কঙ্কাবতীর মাছের বাজারে আজ আর কোনও ধার বাকির কারবার ছিলনা। ফেল কড়ি মাখ.. না, ফেল টাকা নাও মাছ।