Homeএখন খবরমারাই গেলেন উন্নাও দুহিতা, যোগী রাজকে উলঙ্গ করে ২৩বছরে জীবনের ইনিংস শেষ

মারাই গেলেন উন্নাও দুহিতা, যোগী রাজকে উলঙ্গ করে ২৩বছরে জীবনের ইনিংস শেষ

Advertisement

                
নিজস্ব সংবাদদাতা: শুক্রবার সারা দেশ জুড়ে যখন হায়দ্রাবাদ  এনকাউন্টার নিয়ে দেশ তোলপাড় তখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন উন্নাও দুহিতা। ততক্ষণে লখনউ থেকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁকে। ধর্ষকদের ঢেলে দেওয়া পেট্রোল আর জ্বেলে দেওয়া আগুনে ৯০শতাংশই পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে অসম্ভব যন্ত্রনার লড়াই শেষ হয়ে গেল রাত্রি ১১টা বেজে ৪০মিনিটে । উত্তর প্রদেশের যোগী রাজ, অপরাধ আর ধর্ষনের তীর্থে নির্যাতিতা ইনিংস শেষ করলেন মাত্র ২৩বছর বয়সে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
গত মার্চ মাসে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে উন্নাও । উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে গত মার্চে গ্রামের প্রধানের এক ছেলে সহ পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করে ওই যুবতীকে। প্রথমে আভিযোগ নিতে অস্বীকার করে পুলিশ যোগী পুলিশ। পরে থানার সামনে অবস্থান ও আভিযোগ না নিলে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার হুমকি ও আদালতের নির্দেশে আভিযোগ দায়ের হয়। সেই আগুন নিয়েই মরতে হল তাঁকে। তবে আগুন লাগলো তারাই যারা তাকে ধর্ষন করেছিল।
&nbsp

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
;ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করে। বাকি দু’জন এখনও ফেরার। কিন্ত অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়৷ জেল থেকে বেরিয়ে দুই অভিযুক্ত বৃহস্পতিবার তাদের বন্ধুদের নিয়ে ধর্ষিতার গ্রামে যায়।আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে উন্নাও গণধর্ষণ কাণ্ডের অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পেয়েই ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জ্বলন্ত আগুন শরীরে নিয়েই প্রায়  ১কিলোমিটার দৌড়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল চেয়ে পুলিশকে ফোন করেন তরুনী। পুলিশ এসে   প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ধর্ষিতাকে ভর্তি করানো হয় লখনউয়ের একটি হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি তাঁকে৷

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সফদরজন হাসপাতালের বার্ন ও প্ল্যাস্টিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক সলভ কুমার বলেন, ‘রাত ১১.১০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই তরুণী। তাঁকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি৷ ১১.৪০ মিনিটে মারা যায়৷’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ঘটনার সময় ধর্ষিতা ছিলেন রেল স্টেশনের কাছে। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মা-বাবার সঙ্গে ট্রেনে রায়বেরেলীতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগে স্টেশনে গিয়ে তাঁরা ধর্ষিতাকে জোর করে টেনে নিয়ে গ্রামের বাইরে একটি ধানখেতে নিয়ে যায় তারা। সেখানে ধর্ষিতার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
গত মার্চে যে দু’জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন ২৩ বছর বয়সি ওই তরুণী, তাদের একজন শিবম ত্রিবেদী জেলে ছিল৷ কিন্তু পাঁচ দিন আগেই জামিনে ছাড়া পায় শিবম। অন্য অভিযুক্ত শুভম ত্রিবেদীকে পুলিশ এখনও ধরতে পারেনি। কিন্তু সেদিন শিবমের সঙ্গেই ছিল শুভম।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআর-এ ধর্ষিতা লিখেছেন, ‘প্রথমে আমার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল শিবম। কিন্তু একদিন শিবম আমাকে ধর্ষণ করে। তার ভিডিও তুলে রাখে। আমি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে আমাকে শাসাতে থাকে৷ শুধু তাই নয় সে ভিডিও সর্বত্র ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকিও দেয়। ওদের ভয়ে গত বছরের শেষের দিক থেকেই আমি রায়বেরেলীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করি।’ কিন্তু শুক্রবার রাতেই উন্নাও-এর নির্যাতিতার সব লড়াই থেমে যায়৷

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
উল্লেখ্য একের পর এক ধর্ষনের ঘটনা ও ধর্ষনের পর আভিযোগকারিণীকে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়ে চলেছে যোগী রাজ্যে। এর আগেই যোগীরই এক বিধায়ক চাকরি দেওয়ার নাম করে এক তরুনীকে নিজের ফার্মে ডেকে ভাই সহ ধর্ষনে অভিযুক্ত হন। অন্য একটি মামলায় জেলে পুরে দেওয়া হয় নির্যাতিতার বাবা ও কাকাকে। আশ্চর্যজনক ভাবে জেলেই মৃত্যু হয় বাবার। তারপর জেলে কাকার সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে নির্যাতিতার গাড়িকে একটি লরি ধাক্কা মারলে মৃত্যু হয় তাঁর দুই আত্মীয়ার। এখানেও তাঁকেই খুনের চেষ্টার আভিযোগ এনেছিলেন নির্যাতিতা। 

Advertisement

Advertisement

RELATED ARTICLES

Most Popular