করোনার ত্রাসের চেয়েও বড় ত্রাস বিদ্রোহ, বাঙ্কারে লুকিয়ে সন্ত্রস্ত ডোনাল্ড ট্র্যাম্প

515
করোনার ত্রাসের চেয়েও বড় ত্রাস বিদ্রোহ, বাঙ্কারে লুকিয়ে সন্ত্রস্ত ডোনাল্ড ট্র্যাম্প 1
করোনার ত্রাসের চেয়েও বড় ত্রাস বিদ্রোহ, বাঙ্কারে লুকিয়ে সন্ত্রস্ত ডোনাল্ড ট্র্যাম্প 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: দেশে করোনা আক্রান্ত ১৮ লক্ষ ছড়িয়েছে আর মৃত্যু ১লক্ষ ছাড়িয়ে। করোনাকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হয়ে সকালে বিকালে চীন আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে হম্বি তম্বি এসবই ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের রোজকার নামচা কিন্ত গত ২দিন হল করোনা মাথায় উঠেছে তাঁর। দেশ জুড়ে আছড়ে পড়া তীব্র কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্রোহের জেরে তিনি নাকি এখন হোয়াইট হাউসের বাঙ্কারে লুকিয়ে রয়েছেন। এমনই খবর আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমগুলির। তাঁদের মতে এ এক নজির বিহীন ঘটনা যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখেনি।

ষষ্ঠদিনেও বিক্ষোভের আগুনে তপ্ত আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলিতেও ক্রমে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের আঁচ। লকডাউনের তোয়াক্কা না-করে, বিভিন্ন প্রান্তে ১০ হাজারেরও বেশি মার্কিনি প্রতিবাদে শামিল হন। বিক্ষোভকারীরা এদিন ফোর্ট গ্রিন পার্কে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একাধিক দোকানেও ভাঙচুর করা হয়। কয়েক’শো প্রতিবাদী ক্লিনটন হিলের ৮৮ তম এলাকা ঘিরে ফেলেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে একপর্যায়ে কাঁদানে গ্যাসও ছোড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি ক্রমে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে থাকায়, মিনিয়াপোলিস ও সেইন্ট পল শহরে কারফিউ জারি করা হয়। এদিকে হোয়াইট হাউসের কাছে এক ছোট পার্কে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। ছোঁড়া হয় টিয়ার গ্যাসও। তাতেও লাভ হল না। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের খাস মহলের বাইরেই ফুঁসছেন আন্দোলনকারীরা।

করোনার ত্রাসের চেয়েও বড় ত্রাস বিদ্রোহ, বাঙ্কারে লুকিয়ে সন্ত্রস্ত ডোনাল্ড ট্র্যাম্প 3

৬ দিন আগে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়েছে একটি ছবি। যে ছবিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে তার ঘাড়ের ওপর হাঁটু চেপে পকেটে হাত রেখে ক্যামেরায় পোজ দিচ্ছে এক শেতাঙ্গ পুলিশ। ঠিক যেমনটা শিকারের পর মৃত পশুর সঙ্গে শিকারি ছবি তোলে। সেই হাঁটুর চাপে প্রাণ হারিয়েছেন জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি। আর তারপর থেকেই বর্ন বিদ্বেষী বিরোধী আন্দোলন ফেটে পড়েছে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত। ইতিমধ্যে চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তারপরেও ক্ষোভের আঁচ কমেনি।

প্রথমে হুঁশিয়ারি, পুলিশি নির্যাতন, সেনা নামিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছেন ট্র্যাম্প কিন্ত বিক্ষোভ থামাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনও পদ্ধতি কাজে লাগছেনা। বরং হোয়াইট হাউস, মার্কিন কংগ্রেসের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়। তাতেঅবশ্য লাভ হয়নি। বরং আন্দোলনকারীদের ভয়ে কার্যত হোয়াইট হাউসের গোপন বাঙ্কারে সাময়িক আশ্রয় নিতে হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দোর্দণ্ডপ্রতাপ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

এদিকে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে প্রেসিডেন্টের একের পর এক টুইট। কখনও লিখেছেন, আন্দোলনের নামে লুঠপাট চলছে। আবার কখনও বলেছেন, লুটিং লিডস ট শুটিং। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। সমালোচনা করেছেন বিশ্বের বিশিষ্ট মানুষেরা। তাতেও অবশ্য ট্রাম্পের কোনও হেলদোল নেই। উলটে হোয়াইট হাউসের প্রাচীর টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হলে হিংস্র কুকুরদের ভয়ংকর অস্ত্র দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা করা হত। বলাই বাহুল্য তাঁর এই মন্তব্যে বিক্ষোভের আগুন ঘি ঢেলেছে।দেশ ব্যাপি করোনা আবহে বাঙ্কারে বসে এখন আন্দোলন দমনের পরিকল্পনায় ব্যস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।